আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাপ্তাইয়ে উদযাপিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা
রিপন মারমা, কাপ্তাই, রাঙামাটির :
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কাপ্তাইয়ের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধপল্লীগুলোতে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।
গতকাল রবিবার দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বুদ্ধপূজা, শিবলী পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, ধর্মদেশনা, ধ্যান অনুশীলন, বিশেষ প্রার্থনা, হাজারো প্রদীপ প্রজ্বালন, বুদ্ধ স্নান ও ফানুস ওড়ানো। আজ সোমবার প্রবারণা পূর্ণিমার দ্বিতীয় দিনে আকাশে ওড়ানো হচ্ছে শত শত রংবেরঙের ফানুস।
সোমবার ( ২৬ অক্টোবর) ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বিহারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে মারমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নতুন পোশাকে বিহারে সমবেত হন। তারা নিজেদের তৈরি উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে আসেন এবং দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিহারগুলো এবং এর আশপাশের প্যান্ডেলগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা হলাসুইয়ে মং মারমা ও সাবেক ইউপি মহিলা মেম্বার মিচিংপ্রু মারমা জানান, প্রবারণা উপলক্ষে সব ধর্মের মানুষ বিহারগুলোতে সমবেত হন। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে এক সুদৃঢ় সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়।উল্লেখ্য, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাব্রত সমাপ্তির পরই এই প্রবারণা উৎসব উদযাপিত হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকেই মাসব্যাপী শুরু হবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কঠিন চীবর দানোৎসব’।বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ যখন বোধিসত্ত্ব রূপে শ্রাবস্তী নগর থেকে গৃহত্যাগ করেন, তখন অনুমাদ্ধর্শী নদীর তীরে নিজের চুল কেটে ঊর্ধ্বদিকে নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই চুলগুচ্ছ মহাতাবতিংস স্বর্গের ‘চুলামনি প্যাগোডা’য় সংরক্ষিত রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবং তথাগত ভগবান বুদ্ধের আড়াই হাজার বছর আগে তাবতিংস স্বর্গ থেকে মানবজগতে অবতরণকে স্মরণ করে আকাশে ফানুস ওড়ানো ও প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।
উৎসবের শেষ দিন আগামীকাল মঙ্গলবার রাইখালী নারানগিরি বৌদ্ধ বিহারে ময়ূরের আদলে তৈরি বিশেষ রথে গৌতম বুদ্ধের প্রতিমূর্তি বসানো হবে। এরপর রশি টেনে হাপছড়ি প্রদক্ষিণ শেষে মাঝি পাড়া হয়ে কর্ণফুলী নদীতে তা ভাসানোর মধ্য দিয়ে এবারের প্রবারণা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

| ২৬ অক্টোবর ২০২৬

















