| ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা রোগী সেবা ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দায় স্বীকার করলেন – – – – স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা রোগী সেবা ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দায় স্বীকার করলেন – – – – স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

 

বিশেষ প্রতিবেদক, রাঙামাটি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি, জনবলসংকট, রোগীবাহী গাড়ির চালকের দায়িত্বহীনতা, ওষুধ সরবরাহ নিয়ে রোগীরা অভিযোগ এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সহ ভূয়া বিল ভাউচার দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বহুদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের।বিগত দিনে হাসপাতালটি ১০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করার পর আরো দুর্নীতি অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়ে গেছে।

৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রোগীর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকলেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে, জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ বা চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে রোগীবাহী গাড়ির চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসাসেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। এমন কি জানা গেছে, হাসপাতালে নাকি বড় বাবু নামক এক ব্যক্তি আছেন। তার ইশারায় ও ক্যাশিয়ারের ইশারায় নাকি হাসপাতাল পরিচালিত হয়। এখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কোন ভূমিকা নাই বলে অভিযোগে উঠে এসেছে। আবার ঐ দুই ব্যক্তি দীর্ঘ ২৫/৩০ বছর এক জায়গাই চাকরীর সুবিধার্থে বড় বড় দালান কোটা ঘর বেঁধে রয়েছে। হঠাৎ করে হলো আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। গত কয়েক দিন আগে হাসপাতালের চিত্র দেখা যায়, নামে বেনামে টেন্ডার ও আপ্যায়নের ভূয়াবিল দিয়ে ট্রেজারী হতে টাকা উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায়। ভুয়া বিল ভাউচার ও অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, নওশাদ খান সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তেলন করা হয়েছে। যাহা নিয়মবহির্ভুত।

জানা যায়, হাসপাতালের রোগীর খাবার হাসপাতালে রান্না করে পরিবেশন করার কথা ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার না করে সাফ ঠিকাদারের মাধ্যমে বাহির থেকে রান্না করে রোগীদের খাবার দেয়া হচ্ছে। এতে খাবার ও নোংরা পরিবেশে বিতরণ করা হয় খাবার। ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। হাসপাতাল প্রতিষ্টিত হওয়ার পর খাবারের ঠিকাদার কে কেউ দেখেনি বলে জানা গেছে। ঠিকাদার শুধু বড় বাবুর ও ক্যাশিয়ারের যোগ সাজসে খাবারের বিল উত্তোলন করে দায়সারা ভাবে গা ঢাকা দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। যেমন ডেন্টাল বিভাগের ডাক্তার, তারা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। কোন রোগী গেলে তাদের কে বলেন ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিতে, না হয় হোয়ার্টসপে চিকিৎসা পত্র লিখেনিতে।

অপর দিকে সাংবাদিকদের সরেজমিন পরিদর্শনের সময় হাসপাতাল ত্যাগ করার পর্যায়ে কয়েকজন চিকিৎসককে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে তাঁদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, দায়িত্বসূচি ও উপস্থিতির রেজিস্টার যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় অনুপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অপর দিকে, হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে আসেন এবং কোনো কোনো দিন সকাল ১১টার দিকে চলে যান। সে নাকি তার বাড়ী চট্রগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়ার রাজার হাট বাজারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সেন্টার খুলে ব্যবসা করছেন। সরকারি চাকরী ফাঁকি দিয়ে সেখানে প্রতিদিন চেম্বারে রোগী দেখেন। তার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন বলেন, আমি মৌখিক ভাবে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে ছুটি নিয়ে থাকি। নিয়মিত কর্স্থলে উপস্থিত থাকি।

অপর দিকে রোগীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের মোমবাতির উপর নির্ভরশীল হতে হয়। আমরা জানি হাসপাতালে জেনারেটর আছে, তারা সেটা ব্যবহার করে না। অথচ সরকার প্রতিবছর হাসপাতালের জেনারেটর চালু রাখার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করেন। ঐ টাকা গুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নয়-ছয় করে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে কাপড় ধোলায়, ডেলিভারী রোগীর নোংরা কাপড় চোপর ধোলাই করার যে পরিমান বরাদ্ধ আসে। সে গুলো নাকি তারা পকেটবারী করে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নোটিশের সু নিদিষ্ট জবাব দিতে পারেনি। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রশ্ন করা হলে ডা, নওশাদ খান কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নি।

অপর দিকে প্রায় সময় রোগীবাহী গাড়ির চালক নিয়ে ক্ষোভ এলাকাবাসীর। হাসপাতালের রোগীবাহী গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদ্যপান করে হাসপাতালে আসেন। জরুরি রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অনেক সময় তাঁকে পাওয়া যায় না। ফলে রোগী পরিবহন নিয়ে সংকট তৈরি হয়। এমন কি তার আচরণে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ। রাজস্থলী হাসপাতালের কতিপয় ষ্টাপদের দাপট, অনিয়ম ও দুর্নীতির এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট সাংবাদিক সম্মুখে কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে সরেজমিন পরিদর্শনে উপস্থিত সাংবাদিক কে জানান।

এলাকাবাসীরা জানান, রোগীবাহী গাড়ির চালককে অন্যত্র বদলি করে তাঁর স্থলে দায়িত্বশীল চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম

আর মাত্র তিন দিন বাকি: কাপ্তাইজুড়ে ওয়াগ্যোয়াই উৎসবের আমেজ, রথ ও ফানুস তৈরিতে ব্যস্ত তরুণরা

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা রোগী সেবা ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দায় স্বীকার করলেন – – – – স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ বা প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বইছে আনন্দের হাওয়া। মারমা ভাষায় ‘ওয়াগ্যোয়াই’ অর্থ প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ‘পোয়ে’ অর্থ উৎসব। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বাড়ছে সাজসাজ রব। উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ময়ুর আকৃতি রথ যাত্রা ও আকাশ প্রদীপ বা ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় তরুণরা।

কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন গ্রাম ও পল্লীতে চলছে ফানুস বানানোর চমৎকার কর্মযজ্ঞ। বাঁশের সরু কাঠি, রঙিন কাগজ ও আঠার নিপুণ ব্যবহারে তৈরি করা হচ্ছে নানা রঙের আকর্ষণীয় ফানুস, যা প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে রাঙিয়ে তুলবে কাপ্তাইয়ের আকাশে।

পাশাপাশি ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজও চলছে জোরেশোরে। আগামী ২৫ অক্টোবর গ্রাম ও পল্লীর পাশাপাশি বৌদ্ধ বিহারগুলোতে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে সারারাত ধরে ঐতিহ্যবাহী পিঠা বানানোর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তৈরি এসব পিঠা ভোরে বৌদ্ধ বিহারের ভান্তেদের (সংঘ) উদ্দেশে উৎসর্গ ও দান করা হবে। ​কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার এই উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। এখানে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘সত্য বুদ্ধ’ মূর্তি দেখতে উৎসবের দিনগুলোতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।​প্রবারণা পূর্ণিমার দিন প্রতিটি গ্রাম থেকে সর্বস্তরের মানুষ নেচে-গেয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবেন। শোভাযাত্রা সহকারে ‘কল্পতরু’ বা টাকার গাছ নিয়ে বিহারে যাওয়া হবে। ভান্তেদের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান, ছোয়াং (খাদ্যসামগ্রী) ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দানের পর সন্ধ্যার আকাশে রঙিন ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ চরমে পৌঁছাবে।​ তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে আগামী ২৭ অক্টোবর বর্ণাঢ্য রথযাত্রার মাধ্যমে। ওই দিন কাপ্তাই রাইখালী নারানগিরি বৌদ্ধ বিহার থেকে ময়ূরের আদলে তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন রথে গৌতম বুদ্ধের প্রতিমূর্তি বসিয়ে রথ টানা হবে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে রথটি হাপছড়ি প্রদক্ষিণ করে মাঝিপাড়ায় এসে শেষ হবে। এরপর ঐতিহ্যবাহী ময়ূর রথটি কর্ণফুলী নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মারমা সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যোয়াই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদে সদস্য ​উথোয়াই মং মারমা বলেন, “ওয়াগ্যোয়াই উৎসব আমাদের মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হয়।” স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য মিনুপ্রু মারমা বলেন, “উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। এলাকার নারীরা পিঠা তৈরি ও ঘরবাড়ি সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা সাচিংউ মারমা বলেন, “প্রবারণা পূর্ণিমা আমাদের জীবনে অনাবিল শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আমরা এবারও উৎসবটি উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।”​বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে এই পূর্ণিমা উদযাপিত হয়। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই পূর্ণিমা পালনের মাধ্যমে ভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয়।​এবছরের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—​মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ময়ূর আকৃতির বিশাল রথযাত্রা আকাশ প্রদীপ বা ফানুস ওড়ানো হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ও ভোরে বুদ্ধকে পিঠা দান ​পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধপূজা, সংঘদান ও পিন্ডদান।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম

সড়ক ও নৌ পথ দুর্ঘটনা এড়াতে রাঙামাটিতে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন-এর সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও পথসভা

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা রোগী সেবা ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দায় স্বীকার করলেন – – – – স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

 

এমএস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

​রাঙামাটি জেলার সড়ক ও নৌ পথের দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ‘নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন’।

​ বুধবার (২১ অক্টোবর)২৬ খ্রিঃ দুপুরে জেলা শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট-রিজার্ভ বাজার সিএনজি স্টেশন, লঞ্চঘাট এবং পাহাড়িকা বাস কাউন্টারের সামনে পথসভা ও চালক-যাত্রীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

​কর্মসূচিতে ট্রাফিক আইন ও নৌ আইন মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চালকদের সঠিকভাবে ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না।
পাশাপাশি নৌ পথের দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন থেকে বিরত থাকা, যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা এবং নৌ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য চালক ও মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে হাবীব আজম- সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অব্যবস্থাপনা রোগী সেবা ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ দায় স্বীকার করলেন – – – – স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এক মহাসমারোহ। এই উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবীব আজম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)২৬ খ্রিঃ সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিবেশ, পূজার আয়োজন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজার আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলোর মধ্যে ছিল রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় তবলছড়ি বাজার শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির, রিজার্ভ বাজার শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির, তবলছড়ি স্বর্ণটিলা শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, বনরূপা কাঠালতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মাতৃমন্দির, আসামবস্তি শ্রী শ্রী শীতলা মন্দির এবং বনরূপা হ্যাপির মোড় জগদ্ধাত্রী মাতৃমন্দিরসহ শহরের আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ও শিক্ষক অরূপ কুমার মুৎসুদ্দী, ওয়ার্ল্ড পীস্ এন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটি রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ন সম্পাদক নজরুল ইসলাম চাঁন মিঞা, পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, জেলা শাখার ছাত্রনেতা মো. অন্তর, দীপ দাশ ও সাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীপ্ত বড়ুয়া, মোহাম্মদ রবি হোসেন ও মোহাম্মদ শাকিলসহ অন্যান্যরা।

পরিদর্শনকালে হাবীব আজম বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে মিলেমিশে উৎসব উদ্‌যাপন করতে হবে। রাঙ্গামাটির দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, সে জন্য সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার বাহিনীর টহল দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সদর উপজেলার দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা বিজয়া দশমীর দিন কাপ্তাই হ্রদে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এদিন শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে এসে কাপ্তাই হ্রদে বিসর্জন দেওয়া হবে।

×