| ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কাপ্তাইয়ের কিন্নরী হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত টেলিকনফারেন্স শেষে এই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা তথ্য সহকারী কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রায়হানুল ইসলাম। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান এবং কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রুইহলা অং মারমা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ পাইলটিং উদ্বোধনের পর সফলভাবে পাইলটিং সম্পন্ন করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২,৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে প্রদান করা হবে। ১২ অক্টোবর থেকে ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর পিএমটি পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবারকে ৫টি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান কার্ড পেলেও ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্তরা ভাতা পাবেন।

আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৪.৪৫ কোটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে ভাতা দেওয়া হবে এবং আগামী ৩ বছরে সকল যোগ্যদের আওতায় আনা হবে।

Dual Chip, QR Code ও NFC সুবিধা সম্বলিত এই কার্ড ‘TakaPay’ স্কিমের সাথে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে এটিএম, পিওএস ও এমএফএস থেকে সহজে ভাতার টাকা উত্তোলন করা যাবে।

​সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

দীঘিনালায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সড়কের বেহাল দশা চরম দুর্ভোগে গর্ভবতী নারীরা

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সদরের দের কিলো মিটার প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে এবং কাদার সৃষ্টি হলে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতের সময় সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তাঁদের অতিরিক্ত কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন দুরবস্থা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শমিতা চাকমা।

এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন লারমা স্কোয়ার থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত তুমি কার সড়কের দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে আশা করছি এই মাসের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।

বাঘাইছড়ির সাজেকে আবারও অবরোধের ডাক, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সাজেকের পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
‎
‎বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
‎
‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।
‎
‎এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে পর্যটক সমাগম কমে যাওয়া, কটেজ-রিসোর্টের বুকিং বাতিল এবং পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেছেন সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতি, চান্দের গাড়ি (জিপ) চালক সমিতি ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান তাঁরা।
‎
‎এর আগে, পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকের প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
‎
‎নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ফলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিলাইছড়ির ধুপপানি এলাকায় অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক ইউএনও অভি দাশ

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী ছয়টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটির আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়।

ইউএনও অভি দাশ জানান, ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ধুপপানি শিশু কানন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব পরিবারের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ির অবস্থা সরেজমিনে দেখে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সহায়তার আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের মজুরি বাবদ চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো—প্রণয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, যত্নবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, গোলক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তিপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজয় কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও দেবী তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয়। এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণ ও জীবনযাপনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×