| ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নিরাপত্তা জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় প্রতিটি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধির হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) অধিনায়ক।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব ও বক্তব্য দেন বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজ। এ সময় দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী, দীঘিনালা আনসার ও ভিডিপির সহকারী পরিচালক পুলক সরকার, মেডিকেল অফিসার এম. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, পূজা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে তিনি সহযোগিতা কামনা করেন।

সভা শেষে দীঘিনালা উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।

দীঘিনালায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সড়কের বেহাল দশা চরম দুর্ভোগে গর্ভবতী নারীরা

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সদরের দের কিলো মিটার প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে এবং কাদার সৃষ্টি হলে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতের সময় সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তাঁদের অতিরিক্ত কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন দুরবস্থা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শমিতা চাকমা।

এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন লারমা স্কোয়ার থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত তুমি কার সড়কের দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে আশা করছি এই মাসের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।

বাঘাইছড়ির সাজেকে আবারও অবরোধের ডাক, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সাজেকের পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
‎
‎বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
‎
‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।
‎
‎এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে পর্যটক সমাগম কমে যাওয়া, কটেজ-রিসোর্টের বুকিং বাতিল এবং পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেছেন সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতি, চান্দের গাড়ি (জিপ) চালক সমিতি ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান তাঁরা।
‎
‎এর আগে, পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকের প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
‎
‎নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ফলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিলাইছড়ির ধুপপানি এলাকায় অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক ইউএনও অভি দাশ

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী ছয়টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটির আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়।

ইউএনও অভি দাশ জানান, ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ধুপপানি শিশু কানন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব পরিবারের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ির অবস্থা সরেজমিনে দেখে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সহায়তার আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের মজুরি বাবদ চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো—প্রণয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, যত্নবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, গোলক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তিপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজয় কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও দেবী তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয়। এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণ ও জীবনযাপনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×