| ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় জুমচাষ আজও তাদের জীবিকা নির্বাহের মূল চালিকাশক্তি ও অবিনাশী ঐতিহ্য। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়গুলোতে এখন চলছে জুমের সোনালি ধান কাটার ধুম ও ধান মাড়াইসহ উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বহুমুখী প্রতিকূলতা ও নানা সংগ্রামের মধ্যেও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে জুমিয়াদের মুখে যেমন সোনালি হাসির ঝিলিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু না পাওয়ার আক্ষেপ ও হতাশা।

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম জামাইছড়ি, সীতাপাহাড়, চাকুয়াপাড়া, মৈদং, আড়াছড়ি, কাপ্তাই হরিণছড়া, ব্যাঙছড়ি, ওয়াগ্গা রামপাহাড় এবং মইংপাড়াসহ পাহাড়জুড়ে এখন জুমচাষের এক নান্দনিক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চিৎমরমের জামাইছড়ি প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে মারমা সম্প্রদায়ের জুমিয়ারা বংশপরম্পরায় এই প্রাচীন চাষাবাদ চালিয়ে আসছেন।
​চলতি মৌসুমে কাপ্তাই উপজেলায় মোট ৩৩৬ হেক্টর জমিতে জুমচাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ি জাতের বিভিন্ন ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। জুমচাষকৃত ধানগুলোর মধ্যে রয়েছে তুর্কি ধান, গ্যালন ধান, দুলি ধান, মাংসাই ধান, বাসমতি ধান, বাঁশ ধান, পাত্তিকী ধান, বিন্নি ধান (সাদা ও লালসহ) এবং কবরকসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি জাত।

ধানের পাশাপাশি জুমের বহুমুখী ফসলের তালিকায় রয়েছে— কলা, হলুদ, আদা, পেঁপে, পাহাড়ি আলু, তিল-তিষী, পাহাড়ি মরিচ, বেগুন, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, শিম, ভুট্টাসহ হরেক রকমের শাকসবজি।

পাহাড়ে জুমচাষ করা মুখের কথা নয়। তীব্র রোদ, বৃষ্টি আর বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট মাচাং ঘর তৈরি করে রাত পাহারা দেন জুমচাষিরা। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাহাড় পরিষ্কার করে জুমের উপযোগী করার পর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বীজ রোপণ করা হয়। এরপর তিন মাস পর ভাদ্র মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব ফসল ঘরে তোলেন জুমিয়ারা। বর্ষার বৃষ্টির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে পরিচালিত এই চাষাবাদে জুমিয়াদের প্রচুর শারীরিক শ্রম দিতে হয়।

জুমিয়াদের তথ্যমতে, জুমচাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও উপযুক্ত আবহাওয়া ও ভালো ফলন পেলে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। তবে এবারে ফলন নিয়ে কিছু হতাশার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। সময়মতো কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিছু ধান ও নানাবিধ ফসল পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জুমিয়া সুইহ্লামং মারমা ও উসুইসিং মারমা আক্ষেপ করে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি সময়মতো নিয়মিত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা পেতেন, তবে তাঁরা আরও অনেক বেশি লাভবান হতে পারতেন। এছাড়া পানির তীব্র সংকট কৃষকদের উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সেচ বা পানির ব্যবস্থা করলে তাঁরা আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করতে পারতেন বলে আশা প্রকাশ করেন মৈদং ও ব্যাঙছড়ি পাহাড়ের জুমচাষি সাইংসুই ও স্বপ্না মারমা।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি জমিতে নিয়মিত জুমচাষ হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. আহসান হাবীব জানান, পাহাড়ের মানুষের কাছে জুমচাষ একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাঁদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। জুমচাষের ফলে পাহাড়ি মাটির কিছু ক্ষতি হলেও প্রতিবছর স্থান পরিবর্তন করে চাষ করার কারণে বড় ধরনের ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
​কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ জুম নির্ভর। জুমের ফলন ভালো হলে পাহাড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যায় না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যদি জুমচাষ করা যায় এবং উন্নত জাতের বীজ ও সার সহজলভ্য হয়, তবে ফলন দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে। এতে জুমিয়ারা কেবল নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফসল বিক্রি করতে পারবেন এবং একই জমিতে সারা বছর চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হলে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে বেঁচে থাকা কাপ্তাইয়ের এই পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জুমচাষ কেবল জীবিকার তাগিদ নয়, এটি তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও টিকে থাকার এক অনন্য সংগ্রামের গল্প।

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার ২৬ অক্টোবর এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সকালে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান, পিণ্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ভদন্ত বিমল জ্যোতি মহাথের, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন তনহংকর মহাথের সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ, ভদন্ত লোক প্রিয় ভিক্ষু পার্বত্য সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শান্তি লুচন চাকমা।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা, পুণ্যার্থী ও বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ, মানবকল্যাণ, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে কল্পতরু ও কঠিন চীবরসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করেন পুণ্যার্থীরা।
কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দানের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এ আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

উৎসবকে ঘিরে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু হল চাচাতো ভাই-বোনের

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

একই দিনে জন্ম হয়েছিল চাচাতো ও জ্যাঠাতো দুই ভাই-বোন আব্দুল্যা আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাতের। তাদের জন্মের পর পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। ঠিক একইভাবে সোমবার সকালে একই সাথে দুই ভাই বোনের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকা জুড়ে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত আরাফ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র এবং মিফতাহুল আশরাফুল ইসলামের কন্যা।

নিহত দুই শিশুর স্বজনরা জানান, পরিবারের সকলের অত্যন্ত আদরের ছির দুই শিশু। বয়স সবেমাত্র দুই বছর। দুই পরিবারের নয়নের মজী ছিল তারা। সব সময় তারা একই সাথে খেলাধুলা করত। প্রতিদিনের মতো তারা এক সাথে খেলতে গিয়ে সকলের অলক্ষ্যে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে যায় তারা। পরে খোঁজাখোঁজি করতে গিয়ে ডোবার পানি থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে বন্য শূকরের আক্রমণে হরি মনি ত্রিপুরা (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকালে বিষয়টি জানা গেছে।

নিহত হরিমনি রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নং বলিপাড়া এলাকার ওমাইপ্রু ত্রিপুরার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই জন ত্রিপুরা জানান, সোমবার পাহাড়ে ঝুম খেতের ধান আনতে যান হরিমনি ত্রিপুরা। পাহাড়ের উপর দিক থেকে হঠাৎ বন্য শূকরের পাল তাকে আক্রমণ করে। এসময় কোন লোক না থাকায় পালিয়ে যাবার সময় শূকরের সামনে পড়ে যান হরিমনি। শূকরের আক্রমনে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।তার মরদেহ উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমাদের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ নাই। আমরা আগামী কাল সৎকার করে নিব। বিষয়টি আমাদের পক্ষ হতে ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা কে অবগত করেছি।

১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এলাকায় এনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকা দুরবর্তী হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা কে অবহিত করেছেন বলে গণমাধ্যম কে জানান।

×