| ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

রুমায় রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

রুমায় রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং কৃষিতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আরম্ভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর ) থেকে বান্দরবান রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় এবং পারদর্শী ৩৮ ইবির পরিচালনায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আগত কৃষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩৮ ইবি, রুমা গ্যারিসনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ, রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল হাসির গজনফর আলী, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী এবং স্থানীয় নার্সারি মালিক কেউসিং মারমা। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থী, রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং কৃষি বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। একজন সাধারণ কৃষক যেন ধীরে ধীরে একজন সফল ও স্বাবলম্বী কৃষক এবং ভবিষ্যতে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগের তুলনায় কৃষিতে আরও বেশি স্বাবলম্বী হওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।

রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক বলেন, কৃষি বিষয়ে আরও ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে এবং কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে নিজেদের উদ্যোগ নিয়েই কাজ করতে হবে। উদ্যোগ নিজের ভেতর থেকে আসতে হবে। আমরা কৃষকদের পাশে আছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে যাব। বর্তমান সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে কৃষিকাজ পরিচালনা করা জরুরি। এর মাধ্যমে কৃষকরা আরও উন্নতি করতে পারবেন।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী বলেন, রুমা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা দুর্গম এলাকায় কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্গম এলাকার কৃষকদের একত্র করে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষকরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ তাদের কৃষি বিষয়ে নতুন জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

প্রশিক্ষণার্থীরা ৩৮ ইবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফসহ প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, দুর্গম এলাকার কৃষকদের জন্য নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

রুমায় রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার ২৬ অক্টোবর এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সকালে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান, পিণ্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ভদন্ত বিমল জ্যোতি মহাথের, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন তনহংকর মহাথের সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ, ভদন্ত লোক প্রিয় ভিক্ষু পার্বত্য সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শান্তি লুচন চাকমা।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা, পুণ্যার্থী ও বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ, মানবকল্যাণ, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে কল্পতরু ও কঠিন চীবরসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করেন পুণ্যার্থীরা।
কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দানের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এ আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

উৎসবকে ঘিরে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু হল চাচাতো ভাই-বোনের

রুমায় রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

একই দিনে জন্ম হয়েছিল চাচাতো ও জ্যাঠাতো দুই ভাই-বোন আব্দুল্যা আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাতের। তাদের জন্মের পর পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। ঠিক একইভাবে সোমবার সকালে একই সাথে দুই ভাই বোনের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকা জুড়ে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত আরাফ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র এবং মিফতাহুল আশরাফুল ইসলামের কন্যা।

নিহত দুই শিশুর স্বজনরা জানান, পরিবারের সকলের অত্যন্ত আদরের ছির দুই শিশু। বয়স সবেমাত্র দুই বছর। দুই পরিবারের নয়নের মজী ছিল তারা। সব সময় তারা একই সাথে খেলাধুলা করত। প্রতিদিনের মতো তারা এক সাথে খেলতে গিয়ে সকলের অলক্ষ্যে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে যায় তারা। পরে খোঁজাখোঁজি করতে গিয়ে ডোবার পানি থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

রুমায় রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে বন্য শূকরের আক্রমণে হরি মনি ত্রিপুরা (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকালে বিষয়টি জানা গেছে।

নিহত হরিমনি রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নং বলিপাড়া এলাকার ওমাইপ্রু ত্রিপুরার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই জন ত্রিপুরা জানান, সোমবার পাহাড়ে ঝুম খেতের ধান আনতে যান হরিমনি ত্রিপুরা। পাহাড়ের উপর দিক থেকে হঠাৎ বন্য শূকরের পাল তাকে আক্রমণ করে। এসময় কোন লোক না থাকায় পালিয়ে যাবার সময় শূকরের সামনে পড়ে যান হরিমনি। শূকরের আক্রমনে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।তার মরদেহ উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমাদের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ নাই। আমরা আগামী কাল সৎকার করে নিব। বিষয়টি আমাদের পক্ষ হতে ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা কে অবগত করেছি।

১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এলাকায় এনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকা দুরবর্তী হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা কে অবহিত করেছেন বলে গণমাধ্যম কে জানান।

×