| ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

৯ মাসে ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা; শিক্ষা, উদ্ধার ও সম্প্রীতি উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ

৯ মাসে ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা; শিক্ষা, উদ্ধার ও সম্প্রীতি উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান ও অপরাধ দমন, অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)। নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণ, পর্যটকদের উদ্ধার এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ব্যাটালিয়নটি।

রোববার (১১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস। এ সময় ব্যাটালিয়নের অন্যান্য কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারেও বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে তৎপরতা বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের বেশি সময়ে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ দমন, অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

গত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল রেমাক্রী এলাকায় বৈসাবি ও সাংগ্রাই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ২০ মে আরাকানে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই পাহাড়ি যুবককে আটকের তথ্যও ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ২২ মে অপহৃত মো. আমু হোসেনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। ২৪ মে থানচিতে এক ত্রিপুরা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে বিজিবি। ৮ জুন একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৩ জনকে আটক এবং ১০ জুন দুই আসামিসহ ১৯টি গ্রেনেড ও ৩৬ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দের তথ্যও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধার, মিয়ানমারের নাগরিকদের আটক, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার কথাও তুলে ধরা হয়। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নজরদারি পাহাড়ি অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা প্রতিরোধে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে থানচি উপজেলায় বিভিন্ন উৎস থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রায় ২৭ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ১৬ কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিরাপত্তা অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির ফলে চাঁদা আদায়ের পরিমাণ কমেছে বলে উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দুর্গম পাহাড়ে পর্যটক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদে পড়া পর্যটক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলিপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়ন।

গত ৪ জুলাই আমিয়াখুম ভ্রমণে গিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়ায় আটকা পড়া ৪৪ জন পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদে থানচি সদরে পৌঁছে দেওয়া হয়। একইভাবে ২৪ জুলাই বড়পাথর এলাকায় সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় পর্যটক, মাঝি ও গাইডসহ ৩৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর আমুনামুখ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে আসা পর্যটকদের একটি দল থানচিতে ভ্রমণে গেলে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

সর্বশেষ ৫ অক্টোবর ডিম পাহাড় থেকে তিন্দু মুখ যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি খাদে পড়ে দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবি সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্পে ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা
দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৬৩৫ জন অসহায় ও দুস্থ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জটিল রোগে আক্রান্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করাকে ব্যাটালিয়নের মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

শিক্ষা সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছ

দীঘিনালায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সড়কের বেহাল দশা চরম দুর্ভোগে গর্ভবতী নারীরা

৯ মাসে ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা; শিক্ষা, উদ্ধার ও সম্প্রীতি উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সদরের দের কিলো মিটার প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে এবং কাদার সৃষ্টি হলে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতের সময় সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তাঁদের অতিরিক্ত কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন দুরবস্থা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শমিতা চাকমা।

এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন লারমা স্কোয়ার থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত তুমি কার সড়কের দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে আশা করছি এই মাসের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।

বাঘাইছড়ির সাজেকে আবারও অবরোধের ডাক, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

৯ মাসে ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা; শিক্ষা, উদ্ধার ও সম্প্রীতি উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সাজেকের পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
‎
‎বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
‎
‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।
‎
‎এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে পর্যটক সমাগম কমে যাওয়া, কটেজ-রিসোর্টের বুকিং বাতিল এবং পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেছেন সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতি, চান্দের গাড়ি (জিপ) চালক সমিতি ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান তাঁরা।
‎
‎এর আগে, পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকের প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
‎
‎নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ফলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিলাইছড়ির ধুপপানি এলাকায় অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক ইউএনও অভি দাশ

৯ মাসে ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা; শিক্ষা, উদ্ধার ও সম্প্রীতি উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী ছয়টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটির আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়।

ইউএনও অভি দাশ জানান, ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ধুপপানি শিশু কানন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব পরিবারের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ির অবস্থা সরেজমিনে দেখে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সহায়তার আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের মজুরি বাবদ চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো—প্রণয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, যত্নবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, গোলক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তিপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজয় কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও দেবী তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয়। এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণ ও জীবনযাপনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×