দীঘিনালায় পুজা মণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলা
রুপম চাকমা, দিঘীনালা :
শারদীয় দুর্গোৎসবের সপ্তমীতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। শনিবার ১৭ অক্টোবর দিঘীনালা বোয়ালখালি নারায়ন মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছেন পাহাড়ি ও বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ।
সপ্তমীর সকালে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম ঘটে। অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে এসে দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
দীঘিনালার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চলছে শুভেচ্ছা বিনিময়। পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব পেয়েছে সর্বজনীন উৎসবের রূপ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সম্প্রীতির এক সুন্দর বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত, কেউ আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্ত ভাগাভাগি করছেন। সব মিলিয়ে সপ্তমীর দিনে দীঘিনালার পূজামণ্ডপগুলো হয়ে উঠেছে মিলনমেলা।

বোয়ালখালি পুজা উদযাপন কমিটির আহব্বায়ক সুজন দাসের প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলো। ধর্মীয় আনন্দের পাশাপাশি এই উৎসব পাহাড়ি-বাঙালি সবার মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
এদিকে সনাতন ধর্মালম্বীরা যাহাতে নিরবিঘ্নে পুজা পালন করতে উপজেলার ৯ টি পুজা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছে দিঘীনালা থানার ওসি মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী।

| ১৮ অক্টোবর ২০২৬











