| ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি-পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল

প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি-পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

খালে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত সাম্পান জব্দ চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শিকলবাহা খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌসের (২৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্ত সংস্থাটির দাবি, দ্বিতীয় স্বামীর আগের বিয়ের বিষয়টি জানার পর দাম্পত্য কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় জান্নাতুলকে। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয় মরদেহ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুক্কুর আহম্মদকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পানটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ওরফে রাজুর বিষয়ে তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন। পিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস বাঁশখালীর শিলকুপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের একটি জুতা তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে নগরের চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজুর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন জান্নাতুল। বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পরে তাঁর আগের স্ত্রী থাকার বিষয়টি জানার পর দম্পতির মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। তদন্ত সংস্থার দাবি, এ বিরোধই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার পেছনে অন্যতম কারণ। তবে দাম্পত্য বিরোধ থেকে কীভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পরিকল্পনায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং ঘটনার আগে অভিযুক্তদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল-এসব বিষয়ে তদন্তের আরও তথ্য সামনে এলে হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসা তথ্যের বরাতে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি একটি সাম্পান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে জান্নাতুলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নৌকায় করে শিকলবাহা খালের দিকে রওনা হন। তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার পর সাম্পানের মধ্যে রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর রাজা মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে জান্নাতুলকে হত্যা করেন বলে পিবিআইয়ের দাবি। হত্যার পর মরদেহের হাত-পা বেঁধে একটি বস্তায় ভরা হয়। পরে কর্ণফুলী থানাধীন কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের শিকলবাহা খালে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত (২ আগস্ট) দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় সময় শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিখোঁজ জান্নাতুল ফেরদৌসের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে ৩ আগস্ট কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাজা মিয়া ওরফে রাজু এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে গত( ৬ অক্টোবর) মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই জানায়, পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় শুক্কুর আহম্মদকে। শুক্কুর আহম্মদের হেফাজতে থাকা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পানটিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তদন্তকারীদের ধারণা, সাম্পানটির সংশ্লিষ্টতা যাচাই এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার মুসলিম উদ্দিন গত( ১৪ অক্টোবর) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি নিজের সংশ্লিষ্টতা ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা। পিবিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, জান্নাতুল হত্যাকাণ্ডের পেছনে দাম্পত্য বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে হত্যার পরিকল্পনা কখন ও কোথায় করা হয়েছিল, ঘটনার সময় সাম্পানে ঠিক কতজন ছিলেন, প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং হত্যার পর অভিযুক্তরা কীভাবে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন-এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজা মিয়া ওরফে রাজুর বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি, তাঁর অবস্থান এবং হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

এসব তথ্য নিশ্চিত হলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে মরদেহ গুমের চেষ্টা পর্যন্ত পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রামগড়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপে এসআরবি-৭ এর টহল, গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি-পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির রামগড়ে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-৭। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে নিয়মিত টহল, দ্রুত সাড়াদানকারী দল (কুইক রেসপন্স টিম) মোতায়েন এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রামগড়ের শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালী বাড়ি মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এসআরবি-৭, সিপিসি-১ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনী ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পের আওতাধীন পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে চারটি গাড়িতে ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে টহল দলের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মুঠোফোন নম্বর। এ ছাড়া সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রটি জানায়, প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনকালে কোম্পানি কমান্ডার মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ সতর্ক রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি গুজব ছড়িয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল অব্যাহত থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনী ক্যাম্পের ডিএডি মহিদুল ইসলাম, এসআই আরিফুর রহমান ও ফয়েজুর রহমান, রামগড় ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা বিশান্তর বড়ুয়া, শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালী বাড়ি মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বাদল চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন দে।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এসআরবি, বিজিবি ও আনসার সদস্য এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বান্দরবানে বিজিবির বিশেষ প্রস্তুতি

প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি-পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল

 

মথি ত্রিপুরা, বান্দরবান রুমা, প্রতিনিধি:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিরাপত্তা জোরদারে ২৪ ঘণ্টা ১২টি প্লাটুনের মাধ্যমে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বডি-অন ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর, বান্দরবান থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিজিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তর এবং অধীনস্থ রুমা ব্যাটালিয়ন-৯ বিজিবি, বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন-৩৮ বিজিবি ও আলীকদম ব্যাটালিয়ন-৫৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রয়েছে নয়টি পূজামণ্ডপ। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিজিবির সদস্যদের মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি টহলের সময় বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করে তোলা সম্ভব।

দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রান ও ধর্মীয় উৎসবে সহায়তা দিলেন এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া

প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি-পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা এবং ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ৩০ জনের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুটি পূজামণ্ডপ এবং প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ৪৯টি বৌদ্ধ বিহারে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রামগড় উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ বি এম মোজাম্মেল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীল আল জান্নাত, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া এবং রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

×