| ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

খাগড়াছড়িতে সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি বেইজড কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন

খাগড়াছড়িতে সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি বেইজড কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জুমচাষী ও সাধারণ কৃষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন করা হলো সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি বেইজড কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার)। পাহাড়ি অঞ্চলের উৎপাদিত পচনশীল ফলমূল ও শাকসবজি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে সঠিক মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এই পরিবেশবান্ধব ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই হিমাগার উদ্বোধনের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হলো।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা আয়োজিত খাগড়াছড়ি গুগড়াছড়িতে এই কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোল্ড স্টোরেজটির শুভ উদ্বোধন করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মোঃ দাউদ মিয়া, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব ম্রাসা থোয়াই মারমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব শামসুর রহমান খান এবং যুগ্মসচিব ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জনাব মাহমুদ হাসান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) চট্টগ্রাম অফিসের অফিস প্রধান জনাব আলেক্সিয়াস চিসামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবদুল্লাহ আল মাহফুজ আলম।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায়, কানাডা সরকারের অর্থায়নে এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নে মাধ্যম দীর্ঘদিনে পাহাড়ি জনপদে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত ৭ পর্যটক

খাগড়াছড়িতে সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি বেইজড কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন

 

আনোয়ার হোসেন, 
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে সাত পর্যটক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

‎‎রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সিজকছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।‎‎

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত পর্যটকেরা মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা গতকাল ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে সাজেক ভ্রমণে আসেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদের গাড়িতে করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে সিজকছড়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।‎‎ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাঘাইহাট জোনের (১৪ ইবি) অধীন সাজেক টিওবি থেকে ট্যুরিস্ট এসকর্ট টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাঁদের অন্য একটি চাঁদের গাড়িতে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‎‎দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আজাহার মিয়া (৬০) ও শাহানারা আক্তার (৪৫)। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরিফুর রহমান (৩৫), সোহরাব, নাসরিন (৩৫), মো. শাহজাহান (৪৫) ও আশা (১৩)। আহত সবাই মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।‎‎

এদিকে, দুর্ঘটনার পর গাড়ি চালক সুখ কান্তি চাকমা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।‎

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

খাগড়াছড়িতে সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি বেইজড কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়নের কাটারংছড়া বৌদ্ধ মন্দিরে টিন প্রদান করেছে দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন। বরিবার ১৮ অক্টোবর সকালে দিঘীনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল- আমিন পিএসসি নির্দেশনায় জোনের আরএমও তত্বাবধানে বিহার উন্নয়নের জন্য ডেউটিন ও স্হানীয় পাহাড়িদের চিকিৎসাসেবা প্রধান করা হয়।

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্হানীয় এলাকাবাসিরা। টিন বিতরণ অনুষ্টানে কাটারংছড়া বৌদ্ধ মন্দিরের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র চাকমা বলেছেন, বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়ন ও সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর অবদান আমরা কখনো ভুলতে পারব না। সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছে। তাদের এই আন্তরিকতা ও অবদান বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জয় বৈদ্য ভিক্ষু সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

খাগড়াছড়িতে সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি বেইজড কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন

 

পানছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ৭.৬২ মিমি এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গত ১৬ অক্টোবর রাতে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির একটি নিয়মিত টহলদল এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে একটি টহলদল সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে রাতে টহল পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে কচুছড়িমুখ পাড়া এলাকায় পৌঁছালে টহলদলের সদস্যরা প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে কয়েকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখতে পান।

পরে কৌশলগতভাবে সামনে অগ্রসর হলে সীমান্তসংলগ্ন পাহাড় থেকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলকে সীমান্ত সড়কে নেমে আসতে দেখা যায়। এ সময় বিজিবির টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে থামতে বললে তারা পালানোর চেষ্টা করে। টহলদল ধাওয়া করলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সীমান্ত সড়ক থেকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৭.৬২ মিমি এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পানছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা)-এর দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

×