| ৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

মিজোরাম থেকে ফেরা বম পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর সহায়তা

মিজোরাম থেকে ফেরা বম পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর সহায়তা

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ২০২৪ সালের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেওয়া বম সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো ধীরে ধীরে নিজ পাড়া ও বসতভিটায় ফিরতে শুরু করেছে। ফিরে আসা এসব পরিবারের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী, আর্থিক সহায়তা, ঘর মেরামতের উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে রুমার বিভিন্ন পাড়ার বেশ কিছু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা পর্যায়ক্রমে নিজ পাড়া ও বসতভিটায় ফিরে আসছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়ায় ফিরে আসা ৬৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরিবারকে রেশন, নগদ অর্থ, ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন, সোলার সামগ্রী, ফলজ গাছের চারা ও জীবিকা নির্বাহের উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মিজোরাম থেকে রুমার দার্জিলিং পাড়ায় ফিরে এসেছে বম সম্প্রদায়ের একটি পরিবার। পরিবারের সদস্য মালমিন সাম বম (৩০), জিংনিজুয়াল বম (২৯) ও তাদের সন্তান রামথার ইয়াক বম দীর্ঘদিন মিজোরামে অবস্থানের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নিজ পাড়ায় ফিরে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। পরিবারটির পুনর্বাসনে রুমা জোনের পক্ষ থেকে ৫০ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল, ৫ কেজি লবণ, ৫ কেজি আলু ও ৫ কেজি পেঁয়াজসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বসতঘর মেরামতের জন্য তিন বান্ডিল ঢেউটিন, একটি সোলার প্যানেল ও ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এদিকে মিজোরাম থেকে নাজেরাত পাড়ায় ফিরে এসেছে বম সম্প্রদায়ের পাঁচ সদস্যের আরেকটি পরিবার। পরিবারের সদস্যরা হলেন লাল সান ঙাক বম, ভান ঠুয়াই কিম বম, জেনদির বম (১২), উডেন বম (১০) ও মারকাজ বম (৬)।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিজ পাড়া ছেড়ে মিজোরামে আশ্রয় নেওয়া পরিবারটি সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নিজ পাড়ায় ফিরে আসে। ফিরে আসা পরিবারটিকে এক মাসের রেশন হিসেবে ৭২ কেজি চাল, ১২ কেজি ডাল, ১২ কেজি তেল, ১০ কেজি চিনি ও এক কেজি চা-পাতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বসতঘর মেরামতের জন্য তিন বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৩০টি ফলজ গাছের চারা দেওয়া হয়। পরিবারের শিশুদের শিক্ষাজীবন পুনরায় শুরু করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে মিজোরাম থেকে মুলফি পাড়ায় ফিরে আসা জিং এং পার বম, পিতা লাল জার লম বমের পরিবারকেও ধাপে ধাপে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যাবর্তনের পর তাকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ও ৩০ দিনের রেশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বসতঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন এবং পরিবারের নারী সদস্যকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে।

রুমা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন পাড়ার বাইরে অবস্থানের কারণে অনেক পরিবারের বসতঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই প্রত্যাবর্তনকারী পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা, বসতঘর সংস্কার, শিশুদের শিক্ষা এবং জীবিকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলো নিজ পাড়ায় থেকে স্বাভাবিক ও স্বাবলম্বী জীবনযাপনের সুযোগ পাচ্ছে। মিজোরাম থেকে নিজ পাড়া ও বসতভিটায় ফিরে আসতে ইচ্ছুক পরিবারগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে রুমা জোন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী পকেট থেকে ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ

মিজোরাম থেকে ফেরা বম পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর সহায়তা

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক মোটরসাইকেল আরোহী পকেট থেকে ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের গভামারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা ঐ মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়ে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দ্রুত মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর পকেট তল্লাশি করে ৯৫০ পিস ই’য়াবা জব্দ করেছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আহত ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ। তার নাম মো: এনামুল হক (৪৫), পিতা মো. রাজা মিয়া। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার উত্তর কুলগাঁও এলাকায়।

মানিকছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ রাশেদ খান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মহিমাগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি ও আর্থিক সাক্ষরতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মিজোরাম থেকে ফেরা বম পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর সহায়তা

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

দেশের শীর্ষ স্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক আইএফআইসি’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে গ্রাহকদের নিয়ে আর্থিক সাক্ষরতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যাংকের মহিমাগঞ্জ উপ শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মহিমাগঞ্জ উপ শাখার অফিসার ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ, ট্রানজেকশন অফিসার তৌহিদুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত আমানতকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নূর মোস্তাফিজুর রহমান পান্না, চঞ্চল রায়, শরিফুল ইসলাম, আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রমুখ। বক্তারা আইএফআইসি ব্যাংকের গ্রাহক সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামীতে এই ব্যাংক আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সাজেকে দক্ষতা উন্নয়নে সেনা জোনের উদ্যোগ, প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নগদ অর্থ প্রদান

মিজোরাম থেকে ফেরা বম পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর সহায়তা

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক এলাকায় দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেনা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে আজ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ৩০ জন কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র এবং ৩২ জন সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ তারেকুল ইমরান, পিএসসি, টু-আই-সি মেজর মোঃ সালমান সিদ্দিক, পিএসসি, এ্যাডজুটেন্ট লে. মোঃ জোবায়ের আল মাহমুদ, ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জোন কমান্ডার বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। দুর্গম এলাকার মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সেনা জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

×