| ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়নের কাটারংছড়া বৌদ্ধ মন্দিরে টিন প্রদান করেছে দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন। বরিবার ১৮ অক্টোবর সকালে দিঘীনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল- আমিন পিএসসি নির্দেশনায় জোনের আরএমও তত্বাবধানে বিহার উন্নয়নের জন্য ডেউটিন ও স্হানীয় পাহাড়িদের চিকিৎসাসেবা প্রধান করা হয়।

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্হানীয় এলাকাবাসিরা। টিন বিতরণ অনুষ্টানে কাটারংছড়া বৌদ্ধ মন্দিরের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র চাকমা বলেছেন, বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়ন ও সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর অবদান আমরা কখনো ভুলতে পারব না। সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছে। তাদের এই আন্তরিকতা ও অবদান বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জয় বৈদ্য ভিক্ষু সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত ৭ পর্যটক

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

 

আনোয়ার হোসেন, 
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে সাত পর্যটক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

‎‎রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সিজকছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।‎‎

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত পর্যটকেরা মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা গতকাল ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে সাজেক ভ্রমণে আসেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদের গাড়িতে করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে সিজকছড়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।‎‎ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাঘাইহাট জোনের (১৪ ইবি) অধীন সাজেক টিওবি থেকে ট্যুরিস্ট এসকর্ট টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাঁদের অন্য একটি চাঁদের গাড়িতে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‎‎দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আজাহার মিয়া (৬০) ও শাহানারা আক্তার (৪৫)। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরিফুর রহমান (৩৫), সোহরাব, নাসরিন (৩৫), মো. শাহজাহান (৪৫) ও আশা (১৩)। আহত সবাই মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।‎‎

এদিকে, দুর্ঘটনার পর গাড়ি চালক সুখ কান্তি চাকমা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।‎

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

 

পানছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ৭.৬২ মিমি এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গত ১৬ অক্টোবর রাতে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির একটি নিয়মিত টহলদল এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে একটি টহলদল সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে রাতে টহল পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে কচুছড়িমুখ পাড়া এলাকায় পৌঁছালে টহলদলের সদস্যরা প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে কয়েকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখতে পান।

পরে কৌশলগতভাবে সামনে অগ্রসর হলে সীমান্তসংলগ্ন পাহাড় থেকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলকে সীমান্ত সড়কে নেমে আসতে দেখা যায়। এ সময় বিজিবির টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে থামতে বললে তারা পালানোর চেষ্টা করে। টহলদল ধাওয়া করলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সীমান্ত সড়ক থেকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৭.৬২ মিমি এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পানছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা)-এর দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রামগড়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপে এসআরবি-৭ এর টহল, গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির রামগড়ে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-৭। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে নিয়মিত টহল, দ্রুত সাড়াদানকারী দল (কুইক রেসপন্স টিম) মোতায়েন এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রামগড়ের শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালী বাড়ি মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এসআরবি-৭, সিপিসি-১ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনী ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পের আওতাধীন পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে চারটি গাড়িতে ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে টহল দলের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মুঠোফোন নম্বর। এ ছাড়া সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রটি জানায়, প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনকালে কোম্পানি কমান্ডার মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ সতর্ক রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি গুজব ছড়িয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল অব্যাহত থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-৭ সিপিসি-১ ফেনী ক্যাম্পের ডিএডি মহিদুল ইসলাম, এসআই আরিফুর রহমান ও ফয়েজুর রহমান, রামগড় ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা বিশান্তর বড়ুয়া, শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালী বাড়ি মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বাদল চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন দে।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এসআরবি, বিজিবি ও আনসার সদস্য এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

×