সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে চন্দ্রঘোনা থানা ও কেপিএম পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম
5 বার পড়া হয়েছে
কাপ্তাইয়ে চন্দ্রঘোনা থানা ও কেপিএম পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং শিল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা যাচাইয়ে দিনব্যাপী বিশেষ পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তিনি চন্দ্রঘোনা থানা ও এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী পেপার মিলসসহ (কেপিএম) উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।পরিদর্শন কার্যক্রমের শুরুতে জেলা প্রশাসক চন্দ্রঘোনা থানায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিনি থানার প্রবেশমুখের নবনির্মিত রাস্তা সংস্কার কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং থানার ঐতিহ্যের স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। পরে থানা কার্যালয়ে অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় তিনি বিচারাধীন মামলার অগ্রগতি এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

থানা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক রাইখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন উন্নত জাতের চারা ও বীজ নার্সারি ঘুরে দেখেন এবং কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।

এরপর তিনি এশিয়ার এক সময়ের প্রখ্যাত কাগজ কল কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) লিমিটেড পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি মিলের বর্তমান উৎপাদন অবস্থা, আধুনিকায়নের সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সবশেষে জেলা প্রশাসক কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে দাপ্তরিক নথিপত্র ও উপজেলায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল পর্যালোচনা করেন। সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং ৩৮ বীর সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর আরেফিন, রাজস্থলী সার্কেল এএসপি নুরুল আমিন, চন্দ্রঘোনা থানার ওসি এম সাকের আহমেদ, কাপ্তাই থানার ওসি মাহমুদুল হাসান রুবেল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. এনামুল হক হাজারী এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুইহ্লা অং মারমা, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ এরশাদ বিন রাশেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: হোসেন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম,
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, ওয়াগ্গা চা বাগান পরিচালক খোরশেদ কাদেরী, হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি থোয়াই অং মারমা, অরুন তালুকদার ও উসুয়ে সুয়ে চৌধুরী মিশুক।

এছাড়াও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বাপ্পা, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল বটন, জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়িতে বৈসাবি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর মতবিনিময় সভা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম
কাপ্তাইয়ে চন্দ্রঘোনা থানা ও কেপিএম পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

আসন্ন বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সাসাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন’র কনফারেন্স রুমে এ ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্ব এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক মোঃ খাদেমুল ইসলাম, রিজিয়নের জিটুআই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন, পুলিশ সুপার মোঃ মোরতোঁজা আলী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার, সাংবাদিক, মারমা, ত্রিপুরা ও বৈসাবি উদযাপন কমিটির নেতারা।

এদিকে মতবিনিময় সভার শুরুতে গত দুই দশকে পাহাড়ে বৈসাবি ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ঘটনাবলীর কথা তুলে ধরা হয়। এ বছর খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় উদযাপিত হবে বৈসাবি তাই বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি সর্তক রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাহাড়ের ক্ষুদ্র ঘটনা’কে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন কতৃক পর্যটক অপহরণের মতোও সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও উঠে আসে মতবিনিময় সভায়।

এই প্রথম রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চোখের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ কাজল তালুকদার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০১ পিএম
কাপ্তাইয়ে চন্দ্রঘোনা থানা ও কেপিএম পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

রবিবার (৫ এপ্রিল) ২৬খ্রি:। সকালে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনে চোখের অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা: নূয়েন খীসা।

আরও উপস্থিত ছিলেন আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শওকত আকবর খান। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: রোমেল চাকমা সহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ, নার্স, কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

উক্ত আধুনিক অস্ত্রোপচার কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় চেয়ারম্যান বলেন, চোখ মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একজন মানুষ অন্ধ হয়ে গেলে তার জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়।

এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ডা. রোমেল চাকমা সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে এসে চক্ষু অপারেশনের উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে ধন্যবাদ।

ইতিমধ্যে অপারেশন রুমসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫ জন রোগী নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে আজ ২ জনের অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে । পর্যায়ক্রমে বাকি রোগীদেরও অপারেশন করা হবে।

একি সময়ে সিভিল সার্জন বলেন, আমার দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন ছিল সীমিত পরিসরে হলেও চক্ষু অপারেশন কার্যক্রমটি চালু করব। তবে নানান সীমাবদ্ধতা ছিলো। সবকিছু কাটিয়ে উঠে এই কার্যক্রম চালু করতে মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন, সাহস দিয়েছেন।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: রোমেল সাহসিকতার সাথে এই চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করছেন। আশা করি আমরা যথাযথভাবে চক্ষু অপারেশন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারবো। সামনে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে সক্ষম হব।

এতে অতিথিগণ উপস্থিত সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই চক্ষু অপারেশন কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

ভাড়া নিয়ে গড়িমসি, চালকের অবহেলায় প্রাণ গেল নবজাতকের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম
কাপ্তাইয়ে চন্দ্রঘোনা থানা ও কেপিএম পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, লয়গদু :

মাত্র ৩দিন বয়সী নবজাতককে অক্সিজেন সাপোর্ট না দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয় পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক রত্ন বিকাশ চাকমা। এ নিয়ে গুরতর অভিযোগ নবজাতকের পরিবারের।

নবজাতকের বাবা আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা তিনটায় উপজেলার ভাসান্যদম ইউনিয়নের ঘনমোড় শীলকাটা ছড়া এলাকা থেকে নবজাতকের অবস্থা অবনতি দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা দেখে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরে এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়েই চলে গড়িমসি। সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১৪শ টাকা হলেও, দুই হাজার টাকা দাবি করেন চালক। অসহায় বাবা ১৫শ টাকা দিতে রাজি হন। তখন থেকে পথিমধ্যে তাদের নানা ধরণের খারাপ আচরণ। ভাঙ্গা সড়ক দেখেও গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো সড়কে গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। এসব জানতে চাইলে চালক আরও বেশি খারাপ আচরণ করেন।

নবজাতকের বাবা আরো জানান, যখন খাগড়াছড়ি পৌঁছি তখন একটি প্রাইভেট হাসপাতালের পাশে গাড়ি থামিয়ে সাথে সাথে তিনি বাচ্চার মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলেন। আমরা কোথায় যাবো, কি করবো ভাবতে না ভাবতে আমার শিশুর অক্সিজেনের অভাবে গাড়িতেই ৫-১০ মিনিটের মধ্যে মারা যায়। পরে চালক ১৫শ টাকা ভাড়া নিয়ে, সন্তানকে আমার কাছে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে আসেন।

মৃত বাচ্চা নিয়ে পরে আমরা মাহিন্দ্র দিয়ে আবার লংগদু ফিরে আসি। আমার শিশু সন্তান হত্যার বিচার চাই। আমার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে, তা আর কারো সাথে যেন না হয়। দ্রুত চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান মৃতের পরিবার।

রত্ন বিকাশ চাকমা আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নবজাতকের মা নিজেই অক্সিজেন খুলে ফেলেন। তবে আমি বকশিস হিসেবে কিছু বাড়তি টাকার দাবি করেছি। এছাড়া খারাপ আচরণ সহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

লংগদু সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নিশাত জাহান নওরীন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাঙামাটি সদরে ট্রেনিংয়ে আছেন। আমরা ঘটনাটি শুনেছি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিন্নাত আলম”র সাথে কথা বলেছি। তিনি আসলে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

×