শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২২ পিএম
0 বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

স্টাফ রিপোর্টার :

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম ‘জ্ঞান মন্দির’ হিসেবে পরিচিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’।

দীর্ঘ আট বছরের নির্মাণকাজ শেষে পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে এই স্থায়ী উপাসনালয়টির দ্বার উন্মোচন করা হয়।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবি’র উপ-উপাচার্যবৃন্দ এবং মন্দির নির্মাণের দাতা সংস্থা অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান শ্রীমতি অনিতা চৌধুরী।

চবির সনাতন ধর্ম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ বলেন, এই মন্দিরটি দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ জন সনাতনী শিক্ষক ও তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্দির প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়। মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ ভারত থেকে আনা অপূর্ব নান্দনিক মার্বেল পাথরের সরস্বতী বিগ্রহ, যা-গত ২০ এপ্রিল প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

মন্দিরের মূল ভবন নির্মাণে এককভাবে অর্থায়ন করেছে অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন। এছাড়া দেশ-বিদেশের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অনুদানে পুরো মন্দির কমপ্লেক্সটির উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

মন্দিরের নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে -এস্ট্রো এবং ইন্টেরিয়র কাজ তদারকি করেছেন দ্য-অ্যাড কমিউনিকেশন।

উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় জানান, জ্ঞানই শক্তি জ্ঞানই মুক্তি-এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে এখানে একটি বৈদিক গ্রন্থাগার, ধ্যানকেন্দ্র, সেমিনার অডিটোরিয়াম এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজকের উদ্বোধনী কর্মসূচির মধ্যে ছিল দেবী পূজা, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, অতিথিদের আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মন্দিরটি এখন থেকে চবি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টয়লেট অকেজো, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও সেবাগ্রহীতারা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের সরকারি প্রতিষ্ঠান “গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র”-এর টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে করে রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গত (২১ এপ্রিল )মঙ্গলবার সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় সরকার সহায়তা কর্মসূচি (এলজিএসপি-৩) প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে “গালেংঙ্গ্যা কমিউনিটি সেন্টারের পাশে একটি পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্যা পাওঙাক ম্রো এবং ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান মেম্বার মংসিংনু মারমা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ৪নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদ। তবে নির্মাণের কয়েক বছর না পেরোতেই টয়লেটটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী। টয়লেটে নেই পানি, বিদ্যুৎ কিংবা কোনো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা। চারপাশে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শীকা মেছাইনু মারমা বলেন, আমি একজন নারী হিসেবে এখানে ওয়াশরুম ব্যবহার করা খুবই কষ্টকর। টয়লেটটি ব্যবহার করা যায় না, খুবই নোংরা হয়ে আছে। পানির কোনো ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎও নেই—সবকিছুই অগোছালো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও টয়লেটের এমন বেহাল অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এখানে এসে টয়লেট ব্যবহার করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত টয়লেট সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো। কোনো প্রকল্প আসলে টয়লেটটি মেরামত বা নতুন করে নির্মাণ করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, যেহেতু বর্তমানে হামের রোগ সারা বাংলাদেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এই জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টয়লেটটি ব্যবহার উপযোগী করা না হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে।

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৫ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ : 

রাঙ্গামাটি’র বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি মোঃ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করা হয়। রাঙ্গামাটি’র বরকল উপজেলার ভুষণছড়া ইউনিয়নের হরিণা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুইজনকে আসামী করা হয়। তারা হলেন, বরকল উপজেলার দক্ষিণ এরাবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (২৮) এবং অপর আসামী একই উপজেলার কলাবুনিয়া গ্রামের মোঃ আজিমুদ্দিনের ছেলে মোঃ নূর হোসেন (৩৪)। অভিযুক্ত মোঃ রবিউল ইসলাম বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। রবিউল ইসলাম হরিণার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের নিকট দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় (সাইবার পিটিশন নং-১৩৯/২০২৬) জানা যায়, বাদী ও ১নং আসামী একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, ২নং আসামীর বাড়ি লালমনিরহাট জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাদীর একই এলাকায় বসবাস করেন। আসামীগণ দীর্ঘদিন ধরে বাদীর নিকট অন্যায় ও অনৈতিক দাবি করছিল। বাদী আসামীগণের অন্যায়, বেআইনী ও অনৈতিক দাবি প্রত্যাখান করায় আসামীগণ বিভিন্নভাবে বাদীর ব্যবসায়িক সুনাম ও পরিবারিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করে বাদীকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি-ধমকি প্রদান করতে থাকে। বাদী আসামীগণের ক্রমাগত হুমকি ধমকির পরেও আসামীগনের অন্যায় ও বেআইনী দাবি মেনে না নেয়ায় তাকে ব্লেকমেইল করার অপচেষ্টা ও পায়তারা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৩ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত থেকে মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ নুর হোসেন নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে মানহানিকর পোস্ট দিতে থাকে। যেখানে বাদীকে কখনো চোরাকারবারী, কখনো অবৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে মন্তব্য করে। একইসাথে সীমান্তে প্লাস্টিক পণ্য, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার এবং অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। আসামীগণ বাদীর ব্যবসায়িক সুনাম ও পারিবারিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার নিমিত্তে বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ব্লেকমেইল করছে।

বিষয়টি নিয়ে বাদী আসামীগণের সাথে যোগাযোগ করে কারণ জানতে চায়লে আসামীগণ জানান যে, তাদের দাবি মোতাবেক ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা না দিলে ভবিষ্যতে আরো নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি খুলে একই রকম পোস্ট করে তার ব্যবসায়িক ও সামজিক এবং পারিবারিক সুনাম, মান-সম্মান ক্ষুন্ন করবে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মামলা দায়েরের বিষয়টি আসামীদ্বয় জানার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং তাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী মোজাম্মেল হক। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বরকল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, মোজাম্মেল হক নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৫ এপ্রিল শুরু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ : 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার (২৫ এপ্রিল)। বৈশাখী মেলা খেলা উপলক্ষে ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী মেলা চলবে পরদিন শনিবার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে বলীখেলা। এবার ১১৭তম আসর আয়োজন করা হচ্ছে এই বলীখেলার তবে ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা থাকায় মেলা ভোরের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেলা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২২ এপ্রিল (বুধবার) নগরের লালদীঘি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলীখেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল। মেলা ও বলীখেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।

বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংবাদ সম্মেলনের পর লালদীঘি চত্বরে বলীখেলার প্রতিকৃতি-সংবলিত একটি ম্যুরালের উদ্বোধন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। একইসঙ্গে আবদুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জব্বার চত্বর’।

মেয়র বলেন, এই ম্যুরাল বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং ন্যায়বিচারের চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। নতুন প্রজন্মের কাছে বলীখেলার ইতিহাস পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আলী হাসান রাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, স্থানীয় বদরপতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে কুস্তিখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই কুস্তি ‘বলীখেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১১৭ বছরের চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে ঘিরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হরেকরকম পণ্য বিক্রেতারা তাদের নানান রকম পসরা নিয়ে এ মেলায় অংশ গ্রহন করে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা বা (আব্দুল জব্বারের বলীখেলা) উপলক্ষ্যে লালদিঘি মাঠ ও এর আশেপাশের এলাকায় তিন দিনব্যাপী এক বিশাল বৈশাখী মেলা বসে। এই মেলায় গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পণ্যের পসরা বসে। মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও শিল্প (মৃৎশিল্প) যেমন মাটির ব্যাংক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি-ঘোড়া, ফুলের টব, শোপিস ইত্যাদি, বাঁশ ও বেতের পণ্যের মধ্যে ডালা, কুলা, পিঁড়ি, ঝাড়ু, হাতপাখা, ঝুড়ি, বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র, লোহা ও কাঠের গৃহস্থালি সামগ্রী দা, ছুরি, বঁটি, পাটা, পিঁড়ি, কাঠের আসবাব, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টি: নাড়ু, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, জিলাপি, বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, শিশুদের খেলনা: টমটম গাড়ি, মাটির তৈরি ও প্লাস্টিকের খেলনা, বাঁশি এবং নার্সারি থেকে গাছের চারা, শীতলপাটি, মেয়েদের চুড়ি ও কসমেটিকস সামগ্রী সহ হরেকরকম পণ্যের বিশাল পসরা সাজায় বিক্রেতারা। এই মেলা মূলত বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল প্রদর্শনী, যেখানে সারা দেশ থেকে প্রান্তিক কারিগররা তাদের পণ্য নিয়ে আসেন।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব বয়সের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মহা মিলন মেলা ঘটে এই মেলায়। প্রতিবছর বিশ্বের বি়ভিন্ন দেশ থেকে ছুঠে আসা অনেক বিদেশী পর্যটকেরও দেখা মিলে এই মেলায়। মেলা উপলক্ষে আইন শৃংখলাবাহিনী থাকে কঠোর সতর্কতায়, ফলে মেলার নিরাপত্তায় কখনো তেমন অপ্রীতিকর কোন ঘটনার নজির নেই, যার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও সিএমপি প্রশাসন প্রশংসিত হয়ে আসছে বরাবরই। মেলা উপলক্ষে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন বিক্রেতারা তাদের নানান রকম পণ্যসামগ্রী নিয়ে গতকাল বুধবার থেকে নগরীর লালদীঘি, কোতয়ালী, টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা, কেসিদে রোড, সিনেমা প্যালেস এলাকাজুড়ে তাদের পসরা সাজিয়েছে।

×