| ২৩ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম:

রামগড়ে ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

রামগড়ে ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলায় মাদক, সীমান্তে চোরাচালান, জুয়া ও অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশিং) প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রামগড় ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রামগড় জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম, পিএসসি। সভায় উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ৪৩ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মইনুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (এডি) মোঃ শামছুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ বাহার উদ্দিন, রামগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন, রামগড় থানার উপপরিদর্শক (এসআই ও ওয়ারেন্ট অফিসার) মোঃ আনসার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু, রামগড় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উপজেলা আহ্বায়ক মোঃ হারুন রশীদ,উপজেলা জিয়া পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সহ হেডম্যান, কার্বারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদক ও চোরাচালান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তারা জুয়া ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশিং) প্রতিরোধে বিজিবির টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম বলেন, “মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

রামগড়ে ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ : 

রাঙ্গামাটি’র বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি মোঃ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করা হয়। রাঙ্গামাটি’র বরকল উপজেলার ভুষণছড়া ইউনিয়নের হরিণা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুইজনকে আসামী করা হয়। তারা হলেন, বরকল উপজেলার দক্ষিণ এরাবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (২৮) এবং অপর আসামী একই উপজেলার কলাবুনিয়া গ্রামের মোঃ আজিমুদ্দিনের ছেলে মোঃ নূর হোসেন (৩৪)। অভিযুক্ত মোঃ রবিউল ইসলাম বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে। রবিউল ইসলাম হরিণার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের নিকট দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় (সাইবার পিটিশন নং-১৩৯/২০২৬) জানা যায়, বাদী ও ১নং আসামী একই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, ২নং আসামীর বাড়ি লালমনিরহাট জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাদীর একই এলাকায় বসবাস করেন। আসামীগণ দীর্ঘদিন ধরে বাদীর নিকট অন্যায় ও অনৈতিক দাবি করছিল। বাদী আসামীগণের অন্যায়, বেআইনী ও অনৈতিক দাবি প্রত্যাখান করায় আসামীগণ বিভিন্নভাবে বাদীর ব্যবসায়িক সুনাম ও পরিবারিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করে বাদীকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি-ধমকি প্রদান করতে থাকে। বাদী আসামীগণের ক্রমাগত হুমকি ধমকির পরেও আসামীগনের অন্যায় ও বেআইনী দাবি মেনে না নেয়ায় তাকে ব্লেকমেইল করার অপচেষ্টা ও পায়তারা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৩ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত থেকে মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ নুর হোসেন নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে মানহানিকর পোস্ট দিতে থাকে। যেখানে বাদীকে কখনো চোরাকারবারী, কখনো অবৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে মন্তব্য করে। একইসাথে সীমান্তে প্লাস্টিক পণ্য, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার এবং অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। আসামীগণ বাদীর ব্যবসায়িক সুনাম ও পারিবারিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার নিমিত্তে বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ব্লেকমেইল করছে।

বিষয়টি নিয়ে বাদী আসামীগণের সাথে যোগাযোগ করে কারণ জানতে চায়লে আসামীগণ জানান যে, তাদের দাবি মোতাবেক ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা না দিলে ভবিষ্যতে আরো নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি খুলে একই রকম পোস্ট করে তার ব্যবসায়িক ও সামজিক এবং পারিবারিক সুনাম, মান-সম্মান ক্ষুন্ন করবে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মামলা দায়েরের বিষয়টি আসামীদ্বয় জানার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং তাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী মোজাম্মেল হক। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বরকল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, মোজাম্মেল হক নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৫ এপ্রিল শুরু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা

রামগড়ে ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ : 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার (২৫ এপ্রিল)। বৈশাখী মেলা খেলা উপলক্ষে ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী মেলা চলবে পরদিন শনিবার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে বলীখেলা। এবার ১১৭তম আসর আয়োজন করা হচ্ছে এই বলীখেলার তবে ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা থাকায় মেলা ভোরের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেলা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২২ এপ্রিল (বুধবার) নগরের লালদীঘি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলীখেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল। মেলা ও বলীখেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।

বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংবাদ সম্মেলনের পর লালদীঘি চত্বরে বলীখেলার প্রতিকৃতি-সংবলিত একটি ম্যুরালের উদ্বোধন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। একইসঙ্গে আবদুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জব্বার চত্বর’।

মেয়র বলেন, এই ম্যুরাল বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং ন্যায়বিচারের চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। নতুন প্রজন্মের কাছে বলীখেলার ইতিহাস পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আলী হাসান রাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, স্থানীয় বদরপতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে কুস্তিখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই কুস্তি ‘বলীখেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১১৭ বছরের চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে ঘিরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হরেকরকম পণ্য বিক্রেতারা তাদের নানান রকম পসরা নিয়ে এ মেলায় অংশ গ্রহন করে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা বা (আব্দুল জব্বারের বলীখেলা) উপলক্ষ্যে লালদিঘি মাঠ ও এর আশেপাশের এলাকায় তিন দিনব্যাপী এক বিশাল বৈশাখী মেলা বসে। এই মেলায় গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পণ্যের পসরা বসে। মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও শিল্প (মৃৎশিল্প) যেমন মাটির ব্যাংক, হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি-ঘোড়া, ফুলের টব, শোপিস ইত্যাদি, বাঁশ ও বেতের পণ্যের মধ্যে ডালা, কুলা, পিঁড়ি, ঝাড়ু, হাতপাখা, ঝুড়ি, বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র, লোহা ও কাঠের গৃহস্থালি সামগ্রী দা, ছুরি, বঁটি, পাটা, পিঁড়ি, কাঠের আসবাব, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টি: নাড়ু, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, জিলাপি, বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, শিশুদের খেলনা: টমটম গাড়ি, মাটির তৈরি ও প্লাস্টিকের খেলনা, বাঁশি এবং নার্সারি থেকে গাছের চারা, শীতলপাটি, মেয়েদের চুড়ি ও কসমেটিকস সামগ্রী সহ হরেকরকম পণ্যের বিশাল পসরা সাজায় বিক্রেতারা। এই মেলা মূলত বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল প্রদর্শনী, যেখানে সারা দেশ থেকে প্রান্তিক কারিগররা তাদের পণ্য নিয়ে আসেন।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব বয়সের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মহা মিলন মেলা ঘটে এই মেলায়। প্রতিবছর বিশ্বের বি়ভিন্ন দেশ থেকে ছুঠে আসা অনেক বিদেশী পর্যটকেরও দেখা মিলে এই মেলায়। মেলা উপলক্ষে আইন শৃংখলাবাহিনী থাকে কঠোর সতর্কতায়, ফলে মেলার নিরাপত্তায় কখনো তেমন অপ্রীতিকর কোন ঘটনার নজির নেই, যার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও সিএমপি প্রশাসন প্রশংসিত হয়ে আসছে বরাবরই। মেলা উপলক্ষে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন বিক্রেতারা তাদের নানান রকম পণ্যসামগ্রী নিয়ে গতকাল বুধবার থেকে নগরীর লালদীঘি, কোতয়ালী, টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা, কেসিদে রোড, সিনেমা প্যালেস এলাকাজুড়ে তাদের পসরা সাজিয়েছে।

চট্টগ্রামে ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন খনন করার সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে ২ শ্রমিক নিহত

রামগড়ে ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টা, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন খননের সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ ভোর রাত ৪:০০টার সিময় সিঙ্গাপুর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাকিব ও তুষার-তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আহতরা হলেন সাগর ও এরশাদ।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোডসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করছিল। বুধবার গভীর রাতে খননকাজ চলাকালে হঠাৎ একটি গর্ত ধসে পড়ে চার শ্রমিক মাটি চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও স্থানীয়রা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজনকে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। এ সময় কাচ ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, ভোর ৪টার দিকে ওয়াসার পাইপ বসানোর জন্য মাটি কাটার সময় চার শ্রমিক মাটি চাপা পড়েন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, স্যুয়ারেজ প্রকল্পের ট্রায়াল পিট খননের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি তদন্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম জানান, আহত দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

×