| ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

রুমার গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক জরাজীর্ণ, ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম, ভবনটি পুনঃনির্মানে দাবি স্থানীয়দের

রুমার গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক জরাজীর্ণ, ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম, ভবনটি পুনঃনির্মানে দাবি স্থানীয়দের

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক বর্তমানে জরাজীর্ণ, অকেজো ও ঝুঁকিপূর্ণ  নিয়ে অফিসের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ক্লিনিকের অবস্থা নানামূখী সমস্যায় জর্জরিত দেখা দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পুনঃর্নির্মাণ না হওয়ায় ক্লিনিক ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে সেখানে দায়িত্বরত কর্মীরা ঝুঁকি নিয়েই অফিস করছেন। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শীকা উছাইমে মারমা জানান, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছেন। এসে দেখেন ক্লিনিকে কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুতের সংযোগও নেই। এক কথায় ক্লিনিকটি সম্পূর্ণ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আমি পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছি। ভারী বৃষ্টিপাত হলে ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছাদ থেকে পানি পড়ে। রুমের ভিতরে থাকা যায়না। আমরা চরম ঝুঁকিতে আছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্লিনিক ভবনটি অনেক পুরোনো এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।  যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেক সময় কর্মীরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। এতে স্থানীয় জনগণ স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের সুপারভাইজার ক্রেডি চাকমা জানান, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং প্রকৌশলীরাও পরিদর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার পতনের পর কাজটি আর এগোয়নি। তিনি আরও জানান, ক্লিনিকের জন্য একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, জনবল নিয়োগ, চিকিৎসাসেবা নিয়মিতকরণ, পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের অফিসে নিয়মিত উপস্থিতির নিশ্চিতসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত করে ক্লিনিকটি সচল করতে যাহাতে স্থানীয় এলাকাবাসীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়ে সেদিকে নজরদারির জন্য এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যেন সার্বক্ষণিকভাবে দেয়া যায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

ড্রাগন ফলের দাম কম ; হতাশ বান্দরবানের চাষিরা

রুমার গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক জরাজীর্ণ, ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম, ভবনটি পুনঃনির্মানে দাবি স্থানীয়দের

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা :

পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যসম্মত ফল হিসেবে পরিচিত ড্রাগন ফল (পিটায়া) একসময় বান্দরবানের কৃষকদের কাছে ছিল সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকভাবে ড্রাগন চাষ সম্প্রসারিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কমবেশি ড্রাগন ফলের চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হতো। সে সময় অনেক কৃষক ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েন এবং এটিকে ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চাষের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল মাত্র ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ মূল্য অনেক কম হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বান্দরবানে চিম্বুকের এক ড্রাগন চাষি বলেন, ড্রাগন চাষ করতে খুঁটি স্থাপন, সেচ, সার ও পরিচর্যায় প্রচুর টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচই উঠে আসে না।

রুমা থেকে আরেক কৃষক জানান, আগে ড্রাগন চাষ লাভজনক ছিল। এখন দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে বাগান করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ড্রাগন চাষ কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাগন ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকরও। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, খাদ্য-আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, রক্তশূন্যতা দূর হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

কৃষকদের দাবি, ড্রাগন ফলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তা না হলে পাহাড়ে সম্ভাবনাময় এ ফলের চাষ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ড্রাগন চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে বিলাইছড়িতে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে সেনাবাহিনী

রুমার গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক জরাজীর্ণ, ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম, ভবনটি পুনঃনির্মানে দাবি স্থানীয়দের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে একটি বিশেষ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বিলাইছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অভিযানের আওতায় বিলাইছড়ি জোন হেডকোয়ার্টার এলাকা, বিলাইছড়ি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ এবং আশপাশের জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ও অন্যান্য পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হয়।

অভিযান চলাকালে সেনাসদস্যরা পরিবেশ সংরক্ষণে প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করেন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ দূষণ হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

বিলাইছড়ি জোনের পক্ষ থেকে বিলাইছড়ি জোন উপ অধিনায়ক মেজর মো. ফখরুল আবেদীন জানান যে, বর্তমান বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণ একটি ভয়াবহ অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা আমাদের মাটি, পানি ও সামগ্রিক ইকোসিস্টেমকে বিপন্ন করে তুলছে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটির মতো পার্বত্য ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যের যত্রতত্র ব্যবহার এখানকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এক বিরাট হুমকি। এই পরিস্থিতিতে বিলাইছড়ি জোনের এই বর্জ্য অপসারণ অভিযান কেবল একটি সাময়িক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নয়, বরং পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিরোধ ও সচেতনতার বার্তা।

আলীকদমে শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে রিজিয়ন কমান্ডারের মতবিনিময়

রুমার গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক জরাজীর্ণ, ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম, ভবনটি পুনঃনির্মানে দাবি স্থানীয়দের


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

‎ শনিবার (২০ জুন) আলীকদমের মুরুং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ সভায় পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মুরুং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

‎সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম।

‎এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‎সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মুরুং কমপ্লেক্সের ছাত্রাবাসে ১২৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে আবাসনের সুযোগ দিতে ছাত্রাবাসের ধারণক্ষমতা ২০০ থেকে ২৫০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন রিজিয়ন কমান্ডার।

‎এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দুইজন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় কুরুকপাতা ইউনিয়নে নতুন একটি মুরুং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন,“শিক্ষাই পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

‎সভায় বক্তারা মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও জীবনমান উন্নয়নে মুরুং কমপ্লেক্সের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এর অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎বক্তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলীকদম জোন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মুরুং কমপ্লেক্স সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

×