রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:

​মরা গাছের বুকে ‘দেবতার উপহার’: আদিবাসী ঐতিহ্যে মাশরুমই অমৃত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম
6 বার পড়া হয়েছে
​মরা গাছের বুকে ‘দেবতার উপহার’: আদিবাসী ঐতিহ্যে মাশরুমই অমৃত

 

ছন্দ সেন চকমা, বিশেষ প্রতিবেদক :

​রাঙামাটি, বিলাইছড়ি উপজেলা বটতলী মোহন পাড়া সরেজমিন বিশেষ ফিচার : একটি মরা গাছের গোড়ায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো সাদা বুনো মাশরুমের ঝাড়। চারপাশের ঝরা পাতার স্তূপ প্রমাণ দেয় এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। গভীর অরণ্যের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। মে মাসের এই প্রথম বৃষ্টি নামলেই পাহাড়ের মরা গাছের গুঁড়ি কিংবা উইপোকার ঢিবিগুলো যেন প্রাণ ফিরে পায়। দু-এক দিনের মধ্যেই মরা কাঠের বুক চিরে বেরিয়ে আসে সাদা ছাতার মতো দৃষ্টিনন্দন বস্তু। শহরবাসী একে ‘ব্যাঙের ছাতা’ বলে এড়িয়ে গেলেও, আদিবাসী পাহাড়িদের কাছে এটি মোটেও অবহেলার নয়; বরং এটি তাদের প্রিয় ‘ওল’ বা মাশরুম, যা তারা আদর করে ডাকে ‘দেবতার উপহার’।

​ছবিতে দেখা যাওয়া এই বুনো মাশরুমগুলো কেবল সৌন্দর্যই ছড়ায় না, এগুলো পুষ্টির এক বিশাল ভাণ্ডার। আদিবাসী সংস্কৃতির সাথে এই মাশরুমের সম্পর্ক শত শত বছরের পুরোনো। জুম চাষের কঠোর পরিশ্রমের মাঝে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এই প্রাকৃতিক মাশরুমই তাদের প্রধান ভরসা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) মতে, মাশরুমকে বলা হয় “সুপারফুড”। ছবিতে দৃশ্যমান বুনো মাশরুমের প্রজাতিগুলো বিশ্বজুড়ে পুষ্টিবিদদের নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে (যেমন- ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন) উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই মাশরুমগুলোতে: উচ্চমানের প্রোটিন: ১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা মাছ বা মাংসের চেয়েও বেশি। এটি পেশী গঠন ও ক্ষয়পূরণে অভাবনীয় কাজ করে।

​ভিটামিনের খনি: বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন), যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে অপরিহার্য। এতে আছে ভিটামিন ডি এবং সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

​মিনারেল: প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। সেলেনিয়াম একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।
​এই তথ্যটি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রীহিত।

​পাহাড়িদের মন জয় করা খাবার : পাহাড়ে মাশরুম সংগ্রহের উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। বাঁশ বা বেতনির্মিত বিশেষ ঝুড়ি—যা সোনা-রুপার গহনা রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়—তাতে করে পাহাড়িরা এই মূল্যবান সম্পদ সংগ্রহ করেন।

​বিলাইছড়ি বটতুলী মোহন পাড়া (তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার) গ্রাম প্রধান (কারবারি) ছেলে ইন্দ্রজিৎ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “এই মাশরুম দেবতার পাঠানো অমূল্য ধন। আমরা বিশ্বাস করি এটি আমাদের বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। এটি খেতে এত সুস্বাদু যে, একবার যে খেয়েছে, সে এর স্বাদ ভুলবে না।”

মরা গাছের বুক চিরে জন্মানো এই খাদ্যটি প্রমাণ করে, প্রকৃতি তার সন্তানদের শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেয় না। আদিবাসী ঐতিহ্যের এই ‘প্রাকৃতিক প্রোটিন’ আজ বিশ্বজুড়ে পুষ্টির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। প্রকৃতির এই অনন্য দান যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হলে প্রকৃতিও আমাদের যত্ন নেয়।

বিলাইছড়িতে ধান কাটতে ব্যস্ত কৃষকেরা ; ৮০% পাকলে কাটার পরামর্শ কৃষি অফিসের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
​মরা গাছের বুকে ‘দেবতার উপহার’: আদিবাসী ঐতিহ্যে মাশরুমই অমৃত

ঘরে তুলতে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় লাগবে

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির  কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমির উপর বোরো ধান চাষ করা কৃষকরা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্রুত পানি না কমানোর ফলে দেরীতে যারা ধান রোপণ করেছেন তাদের অনেকের এখনো কাঁচা, অনেকের থোড়, অনেকের বের হওয়ার কাছাকাছি। অনেকে পরিচর্চায় ব্যস্ত। তবে তুলনামূলক ভাবে কৃষকরা সচেতন হওয়ায় এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছরে জমিতে রোগ-বালাই কম।

সরেজমিনে দেখতে গিয়ে দেখা গেছে, বিলাইছড়ি উপজেলা সামনে কুতুবদিয়া, ধুপ্যাচর, দীঘলছড়ি, আমতলা, ভালাছড়ি, মাইত কাবা ছড়া, গাইতবান, সাক্রাছড়ি, শেলচছড়ি এলাকায় অনেকে ধান কাটতে দেখা গেছে। এইসব বিষয়ে ধূপ্যাচর এলাকার কৃষক থুইপ্রু মার্মা (আকাশ) জানান, গত বছরে নভেম্বরে ২৫ তারিখে বীজতলা (জালা ধান) করেছি। এবছরে ১২ ডিসেম্বর বীজতলা করেছি বলে এখনো ধান কাটতে পারি নাই। আরো ১০-১৫ দিন পরে ধান কাটা শুরু করবো। একি কথা বলেন আমতলীর সুব্রতসহ কুতুব দিয়ার অনেকে। কৃষক উদয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজা পাংখোয়া জানান, ধান কাটা শেষ করেছি। তবে এবছরে শ্রমিকের দাম একটু বেশি। তেলের জন্যও অনেক সমস্যা হয়েছে।

উঁচু জমিতে যারা চাষ করেছেন কিছু কৃষক  কাটা শেষ করে ঘরে তুললেও, অনেকে এখন  কাটা শুরু করেছেন । অনেকে ধান পাকার সবেমাত্র শুরু হয়েছে । আবার দেরীতে নীচু জায়গায় যারা রোপন করেছেন তাদের এখনো শীষ সবেমাত্র  বের হচ্ছে। অনেকে আরো ২০ দিন মতো সময় লাগবে। যা পাকতে প্রায় বা ঘরে তুলতে  ৩০  জুলাই পর্যন্ত  চলে আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত বাধের পানি কমিয়ে রাখা গেলে সবাই ঘরে ধান তুলতে পারবেন।  একিভাবে ধান মাড়াইয়ের মালিক কয়েকজন জানান, এখনো উপরে অংশে যারা চাষ করেছে তারাই ধান মাড়াই করছে।  জানা মতে ৪ ভাগে ১ ভাগ ধান এখনো ঘরে তুলতে পেরেছে। জমিতে এখনো ধান কটা শুরু করেছে।

এইসব বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায় এবং  কৃষি সম্প্রসারণ  কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক জানান, উপজেলায় এখনো ২৫% এঁর মতো ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জুনের মধ্যে বেশি ধান ঘরে  তুলবেন। তবে সব ধান ঘরে তুলতে জুলাই মাস  শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে। ৮০ % পাকলে কেটে ফেলবেন। কারণ এবছর একটু দেরীতে ধান রোপণ করতে পেরেছে কৃষকরা।

সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ীকা বাস সওজ এর দেয়ালে ঠেক ; ৩০০ ফুট গভীর খাদে পড়া থেকে রক্ষা পেল ৪৮ যাত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৪৫ পিএম
​মরা গাছের বুকে ‘দেবতার উপহার’: আদিবাসী ঐতিহ্যে মাশরুমই অমৃত

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন বাসের ৪৮ জন যাত্রী।
রাঙ্গামাটি শহরের প্রবেশমুখ সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ীকা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল থাকার কারনে বাস’টি প্রায় ৩০০ ফুট গভীর খাদে পড়া থেকে রক্ষা পেলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেয়ালটি না থাকলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।​ দুর্ঘটনায় বাসে থাকা অন্তত ১২-১৪ জন’যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত এবং কেটে-ছিঁড়ে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।​

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসযাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রাঙ্গামাটি’গামী যাত্রীবাহী বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৫৭৭৭) দুপুরে সাপছড়ি এলাকায় পৌঁছায়, তখন গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। পাহাড়ের একটি বিপজ্জনক ঢালু মোড় (টার্নিং) নামার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে সওজের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
বাসের ধাক্কায় দেয়ালটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি গাড়িটিকে খাদের নিচে পড়ে যাওয়া থেকে আটকে রাখে। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতর হুলস্থুল পড়ে যায় এবং যাত্রীরা জানালা ও দরজা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে আসেন।

​যাত্রীদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ ও পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় চালক দীর্ঘক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। যাত্রীরা বারবার বারণ করা সত্ত্বেও চালক ফোন রাখেননি। মোড় ঘোরার সময় চালকের এক হাত ফোনে থাকায় তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি।​

যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, এই রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসই ঢাকা থেকে বাতিল (রিজেক্ট) হওয়া পুরোনো গাড়ি। হানিফ, সৌদিয়া বা রিলাক্সে’র মতো দূরপাল্লার কোম্পানির পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো কম দামে কিনে মালিকরা রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে চালাচ্ছেন। এই গাড়ি’টি যাত্রাপথেই কয়েকবার বিকল হয়েছিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ির কারণে এই সড়কে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের জীবন বাজি রেখে চলতে হচ্ছে।​

রাঙ্গামাটি মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ জামাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে। আহত ১২-১৪ জনের মধ্যে ৪ জনের শরীর কেটে গেছে। তবে কারো আঘাত আশঙ্কাজনক নয়। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।​

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শওকত আকবর বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কোনো রোগী হাসপাতালে আসেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেকোনো জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত ছিল।​

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও হেলপারকে আটক করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাঘাইছড়ি সোনালী ব্যাংকে আইটি কর্মকর্তার দেরিতে আসা, গ্রাহকদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১০ পিএম
​মরা গাছের বুকে ‘দেবতার উপহার’: আদিবাসী ঐতিহ্যে মাশরুমই অমৃত


‎আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার Sonali Bank বাঘাইছড়ি শাখায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে “Officer (IT)” অফিসে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১৭ মে) সকালে।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংকে উপস্থিত গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের “Officer (IT)” সুধাকর দাস নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে ব্যাংকে আসেন। এতে সকাল থেকেই বিভিন্ন সেবার জন্য লাইনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

‎সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বিষয়টি ব্যাংক ম্যানেজার জ্ঞানো বাবু কে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট “Officer (IT)” এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। ফোনে সুধাকর দাস জানান, তিনি তখনও পথে রয়েছেন এবং ব্যাংকে পৌঁছাতে আরও প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগবে।

‎ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যাংক ম্যানেজার বলেন,
‎“আমি আগেই মিটিংয়ে সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারপরও এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

‎ব্যাংকে অপেক্ষমাণ একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা সময়মতো সেবা পাননি। কর্মকর্তার দেরিতে আসার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

‎এদিকে,Sonali Bank-এর “Officer (IT)”  সুধাকর দাস ১১টায় ব্যাংকে প্রবেশ করার সময় তাকে জিজ্ঞাসা করি, “আপনার বাসা কোথায়?” তিনি উত্তরে বলেন, “চট্টগ্রাম।” এরপর আমি জানতে চাই, “আপনার অফিস টাইম কয়টা?” কিন্তু তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন।

‎পরবর্তীতে তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং বলেন, “আমি কেন সাক্ষাৎ দেব?” এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

‎উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৪.০০.০০০০.০০০.৩১১.০৬.০১০৪.২৬.৩১৯(১৩) নম্বর পত্র অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এবং ব্যাংকিং লেনদেনের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‎ঘটনার পর দিনভর ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলতে দেখা যায়। স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

×