শিরোনাম:

রাঙ্গামাটিতে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন

রাঙ্গামাটিতে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন

 

স্টাফ রিপোর্টার :

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে চালু-হলো
অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস।

শনিবার (১৬ মে)২৬খ্রিঃ রাঙ্গামাটি সদরস্থ ফিসারি বাঁধে অবস্থিত লেক ভিউ গার্ডেন’এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে জেলার পরিবহন ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।​ একই সাথে সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে-ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি (২০২৬) বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।​

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি-হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন করেন। বক্তারা জানান, জেলার পরিবহন খাতকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনায় এখন থেকে যানবাহনের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, নিবন্ধন তদারকি, সড়ক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। রাঙ্গামাটিতে পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও আধুনিক করতে প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।​
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ নাজমা আশরাফী বলেন, ডিজিটাল ডাটাবেসের মাধ্যমে যানবাহনের তথ্য সহজে সংরক্ষণ ও যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে এবং অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুবিধা পাবে। তিনি চালক ও যাত্রীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, অনলাইন বাস টার্মিনাল ও ডিজিটাল ডাটাবেস চালুর ফলে যানবাহনের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই, মাদক পরিবহন কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত যানবাহন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক সচেতনতা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়, এটি সকল নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে (চালক- যাত্রী) পথচারী-সহ সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

​অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটির পরিবহন শ্রমিক নেতা, বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি, সিএনজি চালক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুলিশ সুপার জানান, ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রামগড়ে সেনা অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ উদ্ধার

রাঙ্গামাটিতে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের ৬ মাইল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- মন্টু চাকমা ওরফে রনেল (২৮), পিতা – সমির কান্তি চাকমা, গ্রাম- পক্ষীমুড়া, সিন্দুকছড়ি; রাজু মার্মা ওরফে সাচিং (২২), পিতা- মংহ্লা প্রু মারমা, গ্রাম- যৌথ খামার, রামগড় এবং মোটরসাইকেল চালক সুইথোয়াই মারমা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইউপিডিএফের ওই দুই সদস্য সাংগঠনিক কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুইথোয়াই মারমার ভাড়াচালিত মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। পথে ৬ মাইল এলাকায় পৌঁছালে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক সুইথোয়াই মারমা আহত হন। পরে সেনাসদস্যরা অভিযান চালিয়ে মন্টু চাকমা, রাজু মার্মা এবং আহত সুইথোয়াই মারমাকে আটক করেন। আহত সুইথোয়াই মারমাকে প্রথমে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে প্রেরণ করেন।

অভিযানকালে আটক দুই ইউপিডিএফ সদস্যের কাছ থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরে আটক ব্যক্তিদের রামগড় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামগড় সার্কেল ওবাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা পাতাছড়া ইউনিয়নের বুধুংছড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে যৌথবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে এক সন্ত্রাসী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী ঘাটের অসাবধানতায় কেড়ে নিল ফুটফুটে এক শিশুর জীবন

রাঙ্গামাটিতে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন

ছবি- প্রতীকি

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে মুসকান (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের শিলছড়ি ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুসকান কাপ্তাই থানার শিলছড়ি ভেলুয়াছড়া এলাকার মোঃ মুসার কন্যা এবং মোঃ ইউসুপের নাতনি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিবারের অন্যান্য লোকজনের সাথে বাড়ির পাশে শিলছড়ি ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নামে শিশু মুসকান। গোসলের একপর্যায়ে সবার অসাবধানতাবশত সে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তাকে আশেপাশে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ​দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর নদী থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বড়ইছড়ি উপজেলা সদর এলাকায় পৌঁছালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।​

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “নদীতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

এদিকে ৬ বছর বয়সী ফুটফুটে এই শিশুটির এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো ভেলুয়াছড়া গ্রামসহ স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।

বান্দরবানের লামার ইট ভাটার মাটিবাহী ডাম্পার চাপায় যুবকের মৃত্যু।

রাঙ্গামাটিতে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন

 

মোহাম্মদ আলম; বান্দরবান সংবাদদাতা:

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ইটভাটার মাটি বাহী ডাম্পার গাড়ির চাপায় মো.সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) ভোর রাতে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি রাম্যাখোলা এলাকার ফকরুল সদাগরের মালিকানাধীন এসবিএম ইট ভাটায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত সাইফুল ইসলাম রাম্যাখোলা গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাবুব আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর রাত ৫ টার দিকে সাইফুল ইসলাম ইটভাটার জন্য পাহাড়ের মাটি কেটে গাড়ি বোঝাই করছিলেন। এসময় আচমকা গাড়ির নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন সাইফুল ইসলাম। পরে সঙ্গীয় শ্রমিকরা দ্রুত উদ্ধার করে কাছাকাছি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনেরা জানায়, সাইফুল দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্র পড়াশোনা পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ইটভাটায় কাজ করতেন। কিন্ত এস বি এম ইটভাটার কেরানী আলমগীরের মালিকানাধীন মাটিবাহী গাড়িটি চালকের পরিবর্তে হেলপার দিয়ে চালানোর কারণে অসাবধানতা বশত এই দূর্ঘটনা ঘটেছে।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×