আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক
সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৪৫৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ও আউশ ধান, বিভিন্ন মৌসুমি সবজি এবং পেঁপে বাগান। এতে ধারদেনা করে চাষাবাদ করা শত শত কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়। এতে এ পর্যন্ত চার ইউনিয়নে মোট ৪৫৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমি এখনও পানির নিচে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বীজতলা, পেঁপে বাগান এবং বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসা ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমে করা বিনিয়োগও পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাউসার উদ্দিন বাপ্পি, মো. বেলাল ও মো. আবছার বলেন, ঋণ ও ধারদেনা করে সবজি ও পেঁপে চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তারা দ্রুত কৃষি প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া পাড়া কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মিজবাহ উদ্দিন বলেন, তাঁদের সমিতির ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্যের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। ঋণ করে চাষাবাদ করলেও এবারের বন্যায় প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া তাঁদের পক্ষে আবার চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হবে।
আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গ্রীষ্মকালীন সবজি, পেঁপে, বীজতলা, আউশ ও আমন ধান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা, সবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

বরকলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ



