রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম:

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে রুমা উপজেলার দুর্গম নিয়াংক্ষ্যং পাড়ায় সচেতনতামূলক “মা সমাবেশ”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম
3 বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে রুমা উপজেলার দুর্গম নিয়াংক্ষ্যং পাড়ায় সচেতনতামূলক “মা সমাবেশ”

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের দুর্গম নিয়াংক্ষ্যং পাড়ায় ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে ‘মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও তহ্জিংডং পরিচালিত ‘এক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস ইন সিএইচটি ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তহ্জিংডংয়ের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ইটেন ত্রিপুরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে রিসোর্স পারসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রুবেল মোস্তফা, অভিজিৎ তংচঙ্গ্যা (সাকমো) এবং পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রায় ৫০ জনের অধিক দুগ্ধদানকারী মা অংশগ্রহণ করেন।

“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধপান,টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আলোচনা বক্তব্যে ডা. রুবেল মোস্তফা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে মায়ের বুকের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং ছয় মাস পর প্রয়োজনীয় পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি দুই বছর পর্যন্ত অবশ্যই মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ সময় তিনি শিশুকে সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতি, মায়ের সঙ্গে শিশুর সঠিক সংযোগ ও দুধ খাওয়ানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিরাও বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের তাৎপর্য, মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। বক্তারা দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃদুগ্ধ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চিৎমরমে দুই বছর ধরে ঝুঁকির মুখে ৩৫ পরিবার। 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে রুমা উপজেলার দুর্গম নিয়াংক্ষ্যং পাড়ায় সচেতনতামূলক “মা সমাবেশ”

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩নং চিৎমরম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বটতলী দুর্গম পাড়ায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা ও বসতঘরের ওপর ভেঙে ও হেলে পড়ে আছে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ তার। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চরম আতঙ্ক ও মরণ ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অন্তত ৩৫টি পরিবার।

​রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার প্রধান সড়কের মাঝেই অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে পড়ে রয়েছে ১১ কেভি ভোল্টের সঞ্চালিত বৈদ্যুতিক তার। এছাড়া বেশ কয়েকটি বসতঘরের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে ও ভেঙে পড়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

​স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাউথোয়াই চিং মারমা ও আদোমা মারমা অভিযোগ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরাজীর্ণতার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই খুঁটিগুলো মাটিতে ও ঘরের চালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করা হলেও তাঁরা কেবল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন, নেননি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী লাইনটি ঠিক করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। সেই চাহিদা পূরণ না করায় পরবর্তীতে তারা আর কোনো খোঁজ নেয়নি।

​অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দা মানু মারমা ও উসুই থোয়াই মারমা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি গবাদিপশু (গরু-ছাগল) মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশুসহ পুরো পাড়ার মানুষ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিৎমরমের স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই মং মারমা বলেন, কিছুদিন পূর্বে বটতলী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানাই। ওই এলাকার মানুষ অত্যন্ত হতদরিদ্র হওয়ায় নিজ দায়িত্বে বিদ্যুৎ সংস্কার করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। অর্থের জোগান দিতে না পারায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো সংস্কার কাজ করেনি।

​এ বিষয়ে কাপ্তাই বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর অধীনস্থ কেউ আমাকে অবগত করেনি। তবে খুব দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিলাইছড়িতে দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে কৃষি জরিপ করতে হাঁপিয়ে যাচ্ছেন কৃষি অফিসাররা।।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে রুমা উপজেলার দুর্গম নিয়াংক্ষ্যং পাড়ায় সচেতনতামূলক “মা সমাবেশ”

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ:-

পাহাড়ে কৃষি বিষয়ক তথ্য বা কৃষি জরিপ করতে গিয়ে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ কারীদের। যাদের অভ্যাস নেই তারা হাপিঁয়ে যাচ্ছেন। রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় কৃষি অফিসের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের সঙ্গে কিছু এলাকায় গিয়ে জানতে পারি। প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ছড়ার উচ্ছ্বসিত স্রোত, পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ,  নেই যানবাহন, নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক।

এমন প্রতিকূল পরিবেশেও কাঁধে ব্যাগ, হাতে কাগজপত্র ও  মোবাইল নিয়ে কৃষকের বাড়ির পাহাড়ী পথে হাঁটছেন উপ-সহকারী কৃষি  অফিসাররা। ১৮০০-২০০০ ফুঁট পর্যন্ত পাহাড়ে চূড়ায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।

কারণ কৃষকের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা তাদের সরকারি দায়িত্ব। দেশের কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ওপর। সেই তথ্য সংগ্রহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উপসহকারী কৃষি অফিসাররা।

দুর্গম পাহাড়, নদী, খাল, ছড়া, কাদা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে তারা প্রতিদিন কৃষকের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে একটি গ্রামে পৌঁছাতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বৈরী আবহাওয়াও তাদের দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। পথহারা পথিক হয়ে পড়েন। সমতল হতে পাহাড়ে।পাহাড় হতে পাহাড়ে।

বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এই ‘দায়িত্ব আরও কঠিন। কোথাও নৌকায়, কোথাও মোটরসাইকেলে, আবার কোথাও দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হয়। পাহাড় ধস, দুর্ঘটনা, সাপ বা বন্য প্রাণীর ঝুঁকি সবকিছুর মধ্যেও তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই কঠিন দায়িত্ব পালনে নেই কোন পর্যাপ্ত সরকারি লজিস্টিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ। যাতায়াত, জ্বালানি, নৌকা ভাড়া, মোবাইল ও ইন্টারনেট খরচসহ নানা ব্যয় নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। অথচ এসব তথ্যের ভিত্তিতেই কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তা এবং জাতীয় কৃষি পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ।

একাধিক উপসহকারী কৃষি অফিসার জানান, “সরকারি দায়িত্ব মনে করেই আমরা সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে কৃষকের কাছে যাই। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা অনেক কঠিন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও সেই ঝুঁকির তুলনায় আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাই না। বর্তমানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ধাপে ধাপে একটি একটি করে ব্লকের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ করছেন।

এর ফলে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিজের নির্ধারিত ব্লকের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও যেতে হচ্ছে।বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময়, শ্রম ও অর্থ তিনটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।একজন কর্মকর্তাকে বারবার দূরবর্তী এলাকায় যেতে হওয়ায় যাতায়াত খরচ, সময়ের অপচয় এবং দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এক্ষেত্রে যদি যে ব্লকের দায়িত্বে যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, তাকে শুধুমাত্র তার নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি তার এলাকার কৃষকদের সম্পর্কে অধিকতর ভালোভাবে জানেন এবং দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের   ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে,সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হবে,দুর্গম এলাকায় বারবার যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে,কৃষকের তথ্য আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে,প্রত্যেক কর্মকর্তা নিজ নিজ ব্লকের কাজের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে পারবেন,একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে।

অতএব, কৃষক তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্লকভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিজ নিজ ব্লকের কাজ সম্পাদনের সুযোগ দেওয়া হলে অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল, কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তারাই কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার প্রাণ। তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ছাড়া কৃষি খাতের সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত যাতায়াত ভাতা, আধুনিক সরঞ্জাম এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজের জন্য বিশেষ ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে যারা নীরবে কাজ করে চলেছেন, তাদের কষ্ট ও ত্যাগ যেন আড়ালেই থেকে যায়। রাষ্ট্রের উচিত এই নীরব যোদ্ধাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা এবং  দায়িত্ব  পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। কারণ, মাঠে উপসহকারী কৃষি অফিসারদের পদচারণা যত শক্তিশালী হবে, দেশের কৃষি ততই সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষক পাবেন আরও কার্যকর সরকারি সেবা ।

কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায় এবং ওমর ফারুক জানান, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের জন্য নিয়মিত  দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে সমতলের তুলনায় পাহাড়ে এভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং  চ্যালেন্জিং।এতে তথ্য সংগ্রহ করতে ও দিতে  অসুবিধায় পড়েন মাঠ সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষকরা। বাড়িতে গেলে একসাথে তাদের পাওয়া যায়না। একজন থাকলে আরেকজন থাকে না। স্বামী থাকলে স্ত্রী থাকেননা। কয়েকবার যেতে হয়। বার বার যেতে হয়।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা জানান, সবার মতামতের ভিত্তিতে একটা সুবিধাজনক স্থানে করলে সবার সুবিধা হয়।এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

৯ আগস্ট শুধু একটি দিবস নয়- এটি পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ এএম
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে রুমা উপজেলার দুর্গম নিয়াংক্ষ্যং পাড়ায় সচেতনতামূলক “মা সমাবেশ”

 

👉 লিখেছেন : ভবেশ চাকমা
      কলামিস্ট ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার।
————————–

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তি, অধিকার, মর্যাদা ও আগামীর বাংলাদেশ।

“একটি শিশুর নিরাপদ জন্ম থেকে একটি জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ-সবকিছু একই সুতোয় বাঁধা।”

৯ আগস্ট আবারও ফিরে এসেছে। আবারও ব্যানার হবে, পোস্টার হবে, র‍্যালি হবে, আলোচনা হবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কথা কিছুক্ষণের জন্য জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে আসবে।

কিন্তু এবারের ৯ আগস্টে আমাদের একটু থামতে হবে।

নিজেদের কাছে একটি কঠিন প্রশ্ন রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস কি কেবল একটি দিবস উদযাপনের নাম, নাকি এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক বিবেককে নতুন করে প্রশ্ন করার একটি সুযোগ?

কারণ পাহাড়ের মানুষের জীবন কেবল পাহাড়ের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ কোনো বিচ্ছিন্ন গল্প নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, নিরাপত্তা, ভূমি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ-এসব বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেরও পরীক্ষা।

আর সেই কারণেই ৯ আগস্ট কেবল আদিবাসীদের দিবস নয়; এটি বাংলাদেশেরও একটি আত্মপর্যালোচনার দিন। এবারের প্রতিপাদ্য যেন আমাদের আরও গভীরে নিয়ে যায়।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য-
“Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being”
“আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মাননা: জীবন ও কল্যাণের সুরক্ষা।”

জাতিসংঘের ব্যাখ্যায়, আদিবাসী ধাত্রীরা শুধু সন্তান প্রসবের সহায়তাকারী নন; তাঁরা প্রজন্মান্তরে জ্ঞান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও জীবনচর্চা বহনকারী জ্ঞান ধারক। তাঁদের কাজ স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

এই জায়গাটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একটি শিশুর জন্মের মুহূর্তে যে নারীটি মায়ের পাশে দাঁড়ান, তিনি শুধু একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে স্বাগত জানান না-

তিনি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করেন।
একটি সমাজের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করেন।
একটি সংস্কৃতির জ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন।

তাই আদিবাসী ধাত্রীকে সম্মান করা মানে কেবল একজন নারীকে সম্মান করা নয়।

এটি একটি জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের ধারাবাহিকতাকে সম্মান করা।

আর এখানেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা এসে সামনে দাঁড়ায়-পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী, বন, ঝিরি, জুমক্ষেত, পাড়া ও জনপদের সঙ্গে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জড়িয়ে আছে।

কিন্তু আজকের পাহাড় কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যের গল্প নয়।

এখানে আছে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।
আছে ভূমির প্রশ্ন।
আছে নিরাপত্তার প্রশ্ন।
আছে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন।
আছে সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রশ্ন।
আছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন।
আছে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্ন।
আছে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।
আর আছে দীর্ঘদিনের আস্থা ও অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব।

২০২৬ সালের শুরুতেই পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার ও রাজনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় সংলাপে বলা হয়েছে, একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি ও আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত।

এই উপলব্ধিটিই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাতে পারে।

১৯৯৭-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ছিল দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

কিন্তু প্রায় তিন দশক পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে-
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বপ্ন কি আদিবাসী পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনে পুরোপুরি পৌঁছেছে?

এখানে রাষ্ট্রের বক্তব্য ও বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে।

সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থাগুলো ভূমি, প্রশাসনিক কাঠামো ও চুক্তির বিভিন্ন অসম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই দুই অবস্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাখলে সমাধান আসবে না।

বরং বিদ্যমান অবস্থায় প্রয়োজন-
কোথায় অগ্রগতি হয়েছে-তা স্বীকার করা।
কোথায় ঘাটতি রয়েছে-তা স্বীকার করা।
কোথায় ভুল হয়েছে-তা সংশোধন করা।
আর কোথায় মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-সেখানে নতুন করে আস্থার জায়গা তৈরি করা।

কারণ- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে তখনই, যখন আদিবাসী পাহাড়ের একজন সাধারণ মানুষ অনুভব করবেন-“আমি নিরাপদ, আমার অধিকার নিরাপদ, আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ।”

ভূমি! শুধু মাটি নয়, একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ভূমির প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।

কারণ পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কাছে ভূমি কেবল সম্পত্তি নয়।

ভূমি মানে-
পূর্বপুরুষের স্মৃতি।
জীবিকার ভিত্তি।
সংস্কৃতির ধারক।
পরিবারের অস্তিত্ব।
সমাজের পরিচয়।
আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা।

তাই ভূমি নিয়ে যে কোনো বিরোধের সমাধান হতে হবে আইন, ন্যায়বিচার, ঐতিহাসিক বাস্তবতা, মানবিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।

কারও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে অন্য কারও ন্যায্য অধিকার যেন অস্বীকার না হয়-এই ভারসাম্যও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ-ন্যায়বিচার কারও বিরুদ্ধে বিজয় নয়; ন্যায়বিচার হলো সবার জন্য নিরাপত্তা।

পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের ভবিষ্যৎ আসলে শ্রেণিকক্ষেই তৈরি হচ্ছে। একটি পাহাড়ি শিশুর হাতে যদি বই থাকে, তার সামনে যদি মানসম্মত বিদ্যালয় থাকে, শিক্ষক থাকে, প্রযুক্তি থাকে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকে-তাহলে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ বদলাতে শুরু করবে।

কিন্তু শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় পাস করার বিষয় নয়। একটি শিশুকে তার নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রেখেই আধুনিক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

চাকমা ভাষার পুনরুজ্জীবন নিয়েও সাম্প্রতিক গবেষণায় ভাষার পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। অর্থাৎ, মাতৃভাষা ও আধুনিক শিক্ষা-এ দুটো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

আমরা চাই পাহাড়ের আদিবাসী সন্তান বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুক। কিন্তু একই সঙ্গে সে যেন জানে-
সে কে?
তার ভাষা কী?
তার সংস্কৃতি কী?
তার পূর্বপুরুষের ইতিহাস কী?

একজন আদিবাসী ধাত্রী থেকে শুরু করে পাহাড়ের নারীর বৃহত্তর গল্প এবারের প্রতিপাদ্যের সবচেয়ে মানবিক দিকটি এখানেই।

পাহাড়ের নারী বহুদিন ধরে শুধু পরিবারের দায়িত্ব পালন করেননি।
তিনি কৃষি কাজ করেছেন।
জুমে কাজ করেছেন।
তাঁত বুনেছেন।
সংস্কৃতি বহন করেছেন।
সন্তান জন্মের সময় অন্য নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পরিবার ও সমাজকে ধরে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর অবদান কতটা আমরা রাষ্ট্রীয় নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিফলিত করতে পেরেছি?

একজন ঐতিহ্যগত ধাত্রীর জ্ঞানকে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শত্রু হিসেবে না দেখে আধুনিক চিকিৎসা ও স্থানীয় জ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা যায়।

প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।
নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করা যায়।
জরুরি রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র শক্তিশালী করা যায় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-
তাঁদের জ্ঞানকে সম্মান করা যায়।

জাতিসংঘও ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে আদিবাসী ধাত্রীদের জ্ঞান ও নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যসেবা ও আদিবাসী-নেতৃত্বাধীন সেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী তরুণদের কথা না বললে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা সম্পূর্ণ নয়। আজকের পাহাড়ি তরুণ আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বসংযুক্ত।
তার হাতে স্মার্টফোন আছে।
তার সামনে পৃথিবী খোলা।
সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়।
সে উদ্যোক্তা হতে চায়।
সে প্রযুক্তি শিখতে চায়।
সে নিজের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চায়।
সে চাকরি চায়।
সে সম্মান চায়।
সবচেয়ে বেশি-
সে একটি অনিশ্চয়তামুক্ত ভবিষ্যৎ চায়।

তাই পাহাড়ের উন্নয়নের নতুন এজেন্ডায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার-
গুণগত শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান।

শুধু অবকাঠামো দিয়ে উন্নয়ন হয় না।
মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে হয়।

পাহাড়ের উন্নয়ন বনাম পরিবেশ-এই দ্বন্দ্বও নতুন করে ভাবতে হবে। পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। বন, পাহাড়, নদী, জীব বৈচিত্র্য-সবকিছু মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড়ের মানুষের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ।

তাই উন্নয়ন দরকার। কিন্তু এমন উন্নয়ন দরকার নয়, যা পাহাড়কে নিঃশেষ করে ফেলে। প্রয়োজন-মানুষের কল্যাণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-তিনটিকে একসঙ্গে দেখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিক্ষয়, বন উজাড় ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়-এটি পাহাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অংশ।

এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-আস্থার রাজনীতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের আদিবাসী সমস্যার কোনো সমাধান কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সম্ভব নয়। আবার কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েও সম্ভব নয়। প্রয়োজন-
আলোচনা;
সংলাপ;
অংশগ্রহণ;
স্বচ্ছতা;
জবাবদিহি;
আইনের শাসন;
এবং পারস্পরিক আস্থা।

রাষ্ট্রকে শুনতে হবে পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কথা। পাহাড়ের আদিবাসী রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও শুনতে হবে সাধারণ মানুষের ভাষা। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

বাংলাদেশের মূলধারার সমাজকেও বুঝতে হবে-পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের অধিকার মানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অধিকার নয়। বরং ন্যায়ভিত্তিক অধিকার, মর্যাদা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশই আরও শক্তিশালী হবে।

আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই?এই প্রশ্নটিই হয়তো ৯ আগস্টের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে কোনো শিশুকে নিজের পরিচয় নিয়ে সংকুচিত হতে হবে?
নাকি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে সে গর্ব করে বলতে পারবে, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক-আমি আমার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়েও সমান মর্যাদার নাগরিক।”

আমরা কি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে কিন্তু মানুষ অনিরাপদ থাকবে?
নাকি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে?
আমরা কি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড় কেবল সংঘাতের খবরের শিরোনাম হবে?
নাকি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড়ের খবর হবে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবেশ ও সাফল্যের গল্প?

৯ আগস্টের আহ্বান-একটি নতুন সামাজিক চুক্তির দিকে। আমাদের এখন প্রয়োজন এমন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শান্তি হবে শুধু অস্ত্র বিরতির নাম নয়-ন্যায় বিচারের পরিবেশ।

উন্নয়ন হবে শুধু রাস্তা-ব্রিজ নয়-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অধিকার হবে শুধু কাগজের ভাষা নয়-বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা।
সংস্কৃতি হবে শুধু মঞ্চের নৃত্য নয়-প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকার অধিকার।
নারী হবে শুধু অনুষ্ঠানের অতিথি নয়-নীতি নির্ধারণের অংশীদার।
তরুণ হবে শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়-আজকের পরিবর্তনের অংশীদার।
এবং
আদিবাসী ধাত্রী হবেন শুধু অতীতের স্মৃতি নন-ভবিষ্যতের জ্ঞান ধারক।

শেষ কথা:

পাহাড়ের শিশুটির চোখে বাংলাদেশকে দেখতে শিখি। ৯ আগস্ট ২০২৬-এ যখন পার্বত্য জনপদে মানুষ সমবেত হবে, তখন আমরা শুধু বক্তৃতা শুনবো না-একবার পাহাড়ের একটি শিশুর চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করি।

সে হয়তো একটি দুর্গম গ্রামের ছোট্ট ঘরে জন্ম নিয়েছে। তার মা হয়তো একজন ঐতিহ্যগত ধাত্রীর সহায়তা পেয়েছেন। তার সামনে হয়তো পাহাড়, বন আর নীল আকাশ।
কিন্তু তার স্বপ্ন?
সেটি আমাদের সন্তানদের স্বপ্নের মতোই-
সে পড়তে চায়।
সে বড় হতে চায়।
সে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে চায়।
সে নিরাপদ থাকতে চায়।
সে তার মাকে ভালো রাখতে চায়।
সে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ চায়।

এই শিশুটির স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্বপ্নের পার্থক্য কোথায়? কোথাও নয়। তাহলে তার অধিকার, তার নিরাপত্তা, তার শিক্ষা, তার সংস্কৃতি ও তার ভবিষ্যৎ কেন আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হবে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হোক এবারের ৯ আগস্ট।

আসুন, এবার ৯ আগস্টকে শুধু একটি দিবস হিসেবে পালন না করি।

আসুন, ৯ আগস্টকে একটি প্রতিশ্রুতির দিন করি।

প্রতিশ্রুতি হোক-
শান্তির জন্য।
ন্যায়ের জন্য।
ভূমির নিরাপত্তার জন্য।
মাতৃভাষার জন্য।
শিক্ষার জন্য।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য।
নারীর মর্যাদার জন্য।
তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য।
সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার জন্য।
এবং একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য।

কারণ, “পাহাড়ের আদিবাসী মানুষকে নিরাপদ না করে পাহাড়ে শান্তি আসবে না; আর পাহাড়ে ন্যায়ভিত্তিক শান্তি ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাও পূর্ণতা পাবে না।”

আর সেই কারণেই-পাহাড়ের ভবিষ্যৎ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আদিবাসীর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের মর্যাদা।

একটি শিশুর নিরাপদ জন্ম মানে একটি নিরাপদ আগামীকাল।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬-এর অঙ্গীকার হোক-
“জীবনকে সম্মান করি, জ্ঞানকে সুরক্ষা করি, সংস্কৃতিকে বাঁচাই, অধিকারকে কার্যকর করি এবং শান্তিকে মানুষের জীবনে বাস্তব করে তুলি।”

৯ আগস্ট শুধু একটি দিবস নয়। ৯ আগস্ট-আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন এবং একই সঙ্গে-একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার দিন।

ভাবতে হবে। পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। বন, পাহাড়, নদী, জীব বৈচিত্র্য-সবকিছু মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড়ের মানুষের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ।

তাই উন্নয়ন দরকার। কিন্তু এমন উন্নয়ন দরকার নয়, যা পাহাড়কে নিঃশেষ করে ফেলে। প্রয়োজন-মানুষের কল্যাণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-তিনটিকে একসঙ্গে দেখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিক্ষয়, বন উজাড় ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়-এটি পাহাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অংশ।

এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-আস্থার রাজনীতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের আদিবাসী সমস্যার কোনো সমাধান কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সম্ভব নয়। আবার কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েও সম্ভব নয়। প্রয়োজন-
আলোচনা;
সংলাপ;
অংশগ্রহণ;
স্বচ্ছতা;
জবাবদিহি;
আইনের শাসন;
এবং পারস্পরিক আস্থা।

রাষ্ট্রকে শুনতে হবে পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কথা। পাহাড়ের আদিবাসী রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও শুনতে হবে সাধারণ মানুষের ভাষা। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

বাংলাদেশের মূলধারার সমাজকেও বুঝতে হবে-পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের অধিকার মানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অধিকার নয়। বরং ন্যায়ভিত্তিক অধিকার, মর্যাদা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশই আরও শক্তিশালী হবে।

আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই?এই প্রশ্নটিই হয়তো ৯ আগস্টের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে কোনো শিশুকে নিজের পরিচয় নিয়ে সংকুচিত হতে হবে?
নাকি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে সে গর্ব করে বলতে পারবে, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক-আমি আমার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়েও সমান মর্যাদার নাগরিক।”

আমরা কি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে কিন্তু মানুষ অনিরাপদ থাকবে?
নাকি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে?
আমরা কি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড় কেবল সংঘাতের খবরের শিরোনাম হবে?
নাকি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড়ের খবর হবে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবেশ ও সাফল্যের গল্প?

৯ আগস্টের আহ্বান-একটি নতুন সামাজিক চুক্তির দিকে। আমাদের এখন প্রয়োজন এমন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শান্তি হবে শুধু অস্ত্র বিরতির নাম নয়-ন্যায় বিচারের পরিবেশ।

উন্নয়ন হবে শুধু রাস্তা-ব্রিজ নয়-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অধিকার হবে শুধু কাগজের ভাষা নয়-বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা।
সংস্কৃতি হবে শুধু মঞ্চের নৃত্য নয়-প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকার অধিকার।
নারী হবে শুধু অনুষ্ঠানের অতিথি নয়-নীতি নির্ধারণের অংশীদার।
তরুণ হবে শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়-আজকের পরিবর্তনের অংশীদার।
এবং
আদিবাসী ধাত্রী হবেন শুধু অতীতের স্মৃতি নন-ভবিষ্যতের জ্ঞান ধারক।

শেষ কথা:

পাহাড়ের শিশুটির চোখে বাংলাদেশকে দেখতে শিখি। ৯ আগস্ট ২০২৬-এ যখন পার্বত্য জনপদে মানুষ সমবেত হবে, তখন আমরা শুধু বক্তৃতা শুনবো না-একবার পাহাড়ের একটি শিশুর চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করি।

সে হয়তো একটি দুর্গম গ্রামের ছোট্ট ঘরে জন্ম নিয়েছে। তার মা হয়তো একজন ঐতিহ্যগত ধাত্রীর সহায়তা পেয়েছেন। তার সামনে হয়তো পাহাড়, বন আর নীল আকাশ।
কিন্তু তার স্বপ্ন?
সেটি আমাদের সন্তানদের স্বপ্নের মতোই-
সে পড়তে চায়।
সে বড় হতে চায়।
সে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে চায়।
সে নিরাপদ থাকতে চায়।
সে তার মাকে ভালো রাখতে চায়।
সে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ চায়।

এই শিশুটির স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্বপ্নের পার্থক্য কোথায়?
কোথাও নয়।
তাহলে তার অধিকার, তার নিরাপত্তা, তার শিক্ষা, তার সংস্কৃতি ও তার ভবিষ্যৎ কেন আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হবে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হোক এবারের ৯ আগস্ট।

আসুন, এবার ৯ আগস্টকে শুধু একটি দিবস হিসেবে পালন না করি।

আসুন, ৯ আগস্টকে একটি প্রতিশ্রুতির দিন করি।

প্রতিশ্রুতি হোক-
শান্তির জন্য।
ন্যায়ের জন্য।
ভূমির নিরাপত্তার জন্য।
মাতৃভাষার জন্য।
শিক্ষার জন্য।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য।
নারীর মর্যাদার জন্য।
তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য।
সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার জন্য।
এবং একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য।

কারণ, “পাহাড়ের আদিবাসী মানুষকে নিরাপদ না করে পাহাড়ে শান্তি আসবে না; আর পাহাড়ে ন্যায়ভিত্তিক শান্তি ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাও পূর্ণতা পাবে না।”

আর সেই কারণেই-পাহাড়ের ভবিষ্যৎ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আদিবাসীর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের মর্যাদা।

একটি শিশুর নিরাপদ জন্ম মানে একটি নিরাপদ আগামীকাল।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬-এর অঙ্গীকার হোক-
“জীবনকে সম্মান করি, জ্ঞানকে সুরক্ষা করি, সংস্কৃতিকে বাঁচাই, অধিকারকে কার্যকর করি এবং শান্তিকে মানুষের জীবনে বাস্তব করে তুলি।”

৯ আগস্ট শুধু একটি দিবস নয়।
৯ আগস্ট-আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন এবং একই সঙ্গে-একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার দিন।

×