| ৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

সাংবাদিকতা ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি মাস্টার্স পাস করলেন অর্ণব মল্লিক

সাংবাদিকতা ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি মাস্টার্স পাস করলেন অর্ণব মল্লিক

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কৃতি সন্তান, সাংবাদিক ও শিল্পী অর্ণব মল্লিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে অর্ণব মল্লিক কাপ্তাই উপজেলার কেপিএম এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মল্লিক ও গৃহিণী রিপু মল্লিকের সন্তান। মূলধারার সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের একজন নিয়মিত তবলাশিল্পী হিসেবেও সুনামের সাথে যুক্ত আছেন। সাংবাদিকতা, সংগীতচর্চা এবং উচ্চশিক্ষা—এই তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় নিজেকে সমানভাবে সম্পৃক্ত রেখে তাঁর এই অনন্য সাফল্য পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

নিজের এই অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে অর্ণব মল্লিক বলেন, “এই দীর্ঘ যাত্রাটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা ও সুন্দর একটি সময় ছিল। আজকের এই দিনটি দেখা সম্ভব হয়েছে কেবল আমার বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, সম্মানিত শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিনিয়ত জুগিয়ে যাওয়া অনুপ্রেরণার কারণে। আমি সকলের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ এবং আগামী দিনেও সবার ভালোবাসা ও আশীর্বাদ কামনা করি।” ​

এদিকে তাঁর এই সাফল্যে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিশিষ্টজন, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় তাঁরা বলেন, “কর্মজীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও প্রবল ইচ্ছাশক্তি, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে শিক্ষাজীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, অর্ণব মল্লিক তাঁর মাস্টার্স পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে সক্রিয় তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণার বার্তা।”

৯ আগস্ট শুধু একটি দিবস নয়- এটি পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন।

সাংবাদিকতা ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি মাস্টার্স পাস করলেন অর্ণব মল্লিক

 

👉 লিখেছেন : ভবেশ চাকমা
      কলামিস্ট ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার।
————————–

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তি, অধিকার, মর্যাদা ও আগামীর বাংলাদেশ।

“একটি শিশুর নিরাপদ জন্ম থেকে একটি জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ-সবকিছু একই সুতোয় বাঁধা।”

৯ আগস্ট আবারও ফিরে এসেছে। আবারও ব্যানার হবে, পোস্টার হবে, র‍্যালি হবে, আলোচনা হবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কথা কিছুক্ষণের জন্য জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে আসবে।

কিন্তু এবারের ৯ আগস্টে আমাদের একটু থামতে হবে।

নিজেদের কাছে একটি কঠিন প্রশ্ন রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস কি কেবল একটি দিবস উদযাপনের নাম, নাকি এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক বিবেককে নতুন করে প্রশ্ন করার একটি সুযোগ?

কারণ পাহাড়ের মানুষের জীবন কেবল পাহাড়ের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ কোনো বিচ্ছিন্ন গল্প নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, নিরাপত্তা, ভূমি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ-এসব বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেরও পরীক্ষা।

আর সেই কারণেই ৯ আগস্ট কেবল আদিবাসীদের দিবস নয়; এটি বাংলাদেশেরও একটি আত্মপর্যালোচনার দিন। এবারের প্রতিপাদ্য যেন আমাদের আরও গভীরে নিয়ে যায়।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য-
“Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being”
“আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মাননা: জীবন ও কল্যাণের সুরক্ষা।”

জাতিসংঘের ব্যাখ্যায়, আদিবাসী ধাত্রীরা শুধু সন্তান প্রসবের সহায়তাকারী নন; তাঁরা প্রজন্মান্তরে জ্ঞান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও জীবনচর্চা বহনকারী জ্ঞান ধারক। তাঁদের কাজ স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

এই জায়গাটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একটি শিশুর জন্মের মুহূর্তে যে নারীটি মায়ের পাশে দাঁড়ান, তিনি শুধু একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে স্বাগত জানান না-

তিনি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করেন।
একটি সমাজের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করেন।
একটি সংস্কৃতির জ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেন।

তাই আদিবাসী ধাত্রীকে সম্মান করা মানে কেবল একজন নারীকে সম্মান করা নয়।

এটি একটি জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের ধারাবাহিকতাকে সম্মান করা।

আর এখানেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা এসে সামনে দাঁড়ায়-পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী, বন, ঝিরি, জুমক্ষেত, পাড়া ও জনপদের সঙ্গে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জড়িয়ে আছে।

কিন্তু আজকের পাহাড় কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যের গল্প নয়।

এখানে আছে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।
আছে ভূমির প্রশ্ন।
আছে নিরাপত্তার প্রশ্ন।
আছে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন।
আছে সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রশ্ন।
আছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন।
আছে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্ন।
আছে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।
আর আছে দীর্ঘদিনের আস্থা ও অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব।

২০২৬ সালের শুরুতেই পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার ও রাজনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় সংলাপে বলা হয়েছে, একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি ও আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত।

এই উপলব্ধিটিই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাতে পারে।

১৯৯৭-এর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ছিল দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

কিন্তু প্রায় তিন দশক পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে-
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বপ্ন কি আদিবাসী পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনে পুরোপুরি পৌঁছেছে?

এখানে রাষ্ট্রের বক্তব্য ও বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে।

সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থাগুলো ভূমি, প্রশাসনিক কাঠামো ও চুক্তির বিভিন্ন অসম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই দুই অবস্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাখলে সমাধান আসবে না।

বরং বিদ্যমান অবস্থায় প্রয়োজন-
কোথায় অগ্রগতি হয়েছে-তা স্বীকার করা।
কোথায় ঘাটতি রয়েছে-তা স্বীকার করা।
কোথায় ভুল হয়েছে-তা সংশোধন করা।
আর কোথায় মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-সেখানে নতুন করে আস্থার জায়গা তৈরি করা।

কারণ- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে তখনই, যখন আদিবাসী পাহাড়ের একজন সাধারণ মানুষ অনুভব করবেন-“আমি নিরাপদ, আমার অধিকার নিরাপদ, আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ।”

ভূমি! শুধু মাটি নয়, একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ভূমির প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।

কারণ পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কাছে ভূমি কেবল সম্পত্তি নয়।

ভূমি মানে-
পূর্বপুরুষের স্মৃতি।
জীবিকার ভিত্তি।
সংস্কৃতির ধারক।
পরিবারের অস্তিত্ব।
সমাজের পরিচয়।
আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা।

তাই ভূমি নিয়ে যে কোনো বিরোধের সমাধান হতে হবে আইন, ন্যায়বিচার, ঐতিহাসিক বাস্তবতা, মানবিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।

কারও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে অন্য কারও ন্যায্য অধিকার যেন অস্বীকার না হয়-এই ভারসাম্যও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ-ন্যায়বিচার কারও বিরুদ্ধে বিজয় নয়; ন্যায়বিচার হলো সবার জন্য নিরাপত্তা।

পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের ভবিষ্যৎ আসলে শ্রেণিকক্ষেই তৈরি হচ্ছে। একটি পাহাড়ি শিশুর হাতে যদি বই থাকে, তার সামনে যদি মানসম্মত বিদ্যালয় থাকে, শিক্ষক থাকে, প্রযুক্তি থাকে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকে-তাহলে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ বদলাতে শুরু করবে।

কিন্তু শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় পাস করার বিষয় নয়। একটি শিশুকে তার নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রেখেই আধুনিক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

চাকমা ভাষার পুনরুজ্জীবন নিয়েও সাম্প্রতিক গবেষণায় ভাষার পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। অর্থাৎ, মাতৃভাষা ও আধুনিক শিক্ষা-এ দুটো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

আমরা চাই পাহাড়ের আদিবাসী সন্তান বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুক। কিন্তু একই সঙ্গে সে যেন জানে-
সে কে?
তার ভাষা কী?
তার সংস্কৃতি কী?
তার পূর্বপুরুষের ইতিহাস কী?

একজন আদিবাসী ধাত্রী থেকে শুরু করে পাহাড়ের নারীর বৃহত্তর গল্প এবারের প্রতিপাদ্যের সবচেয়ে মানবিক দিকটি এখানেই।

পাহাড়ের নারী বহুদিন ধরে শুধু পরিবারের দায়িত্ব পালন করেননি।
তিনি কৃষি কাজ করেছেন।
জুমে কাজ করেছেন।
তাঁত বুনেছেন।
সংস্কৃতি বহন করেছেন।
সন্তান জন্মের সময় অন্য নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পরিবার ও সমাজকে ধরে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর অবদান কতটা আমরা রাষ্ট্রীয় নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিফলিত করতে পেরেছি?

একজন ঐতিহ্যগত ধাত্রীর জ্ঞানকে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শত্রু হিসেবে না দেখে আধুনিক চিকিৎসা ও স্থানীয় জ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা যায়।

প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।
নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করা যায়।
জরুরি রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র শক্তিশালী করা যায় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-
তাঁদের জ্ঞানকে সম্মান করা যায়।

জাতিসংঘও ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে আদিবাসী ধাত্রীদের জ্ঞান ও নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যসেবা ও আদিবাসী-নেতৃত্বাধীন সেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী তরুণদের কথা না বললে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা সম্পূর্ণ নয়। আজকের পাহাড়ি তরুণ আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বসংযুক্ত।
তার হাতে স্মার্টফোন আছে।
তার সামনে পৃথিবী খোলা।
সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়।
সে উদ্যোক্তা হতে চায়।
সে প্রযুক্তি শিখতে চায়।
সে নিজের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চায়।
সে চাকরি চায়।
সে সম্মান চায়।
সবচেয়ে বেশি-
সে একটি অনিশ্চয়তামুক্ত ভবিষ্যৎ চায়।

তাই পাহাড়ের উন্নয়নের নতুন এজেন্ডায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার-
গুণগত শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান।

শুধু অবকাঠামো দিয়ে উন্নয়ন হয় না।
মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে হয়।

পাহাড়ের উন্নয়ন বনাম পরিবেশ-এই দ্বন্দ্বও নতুন করে ভাবতে হবে। পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। বন, পাহাড়, নদী, জীব বৈচিত্র্য-সবকিছু মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড়ের মানুষের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ।

তাই উন্নয়ন দরকার। কিন্তু এমন উন্নয়ন দরকার নয়, যা পাহাড়কে নিঃশেষ করে ফেলে। প্রয়োজন-মানুষের কল্যাণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-তিনটিকে একসঙ্গে দেখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিক্ষয়, বন উজাড় ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়-এটি পাহাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অংশ।

এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-আস্থার রাজনীতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের আদিবাসী সমস্যার কোনো সমাধান কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সম্ভব নয়। আবার কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েও সম্ভব নয়। প্রয়োজন-
আলোচনা;
সংলাপ;
অংশগ্রহণ;
স্বচ্ছতা;
জবাবদিহি;
আইনের শাসন;
এবং পারস্পরিক আস্থা।

রাষ্ট্রকে শুনতে হবে পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কথা। পাহাড়ের আদিবাসী রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও শুনতে হবে সাধারণ মানুষের ভাষা। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

বাংলাদেশের মূলধারার সমাজকেও বুঝতে হবে-পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের অধিকার মানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অধিকার নয়। বরং ন্যায়ভিত্তিক অধিকার, মর্যাদা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশই আরও শক্তিশালী হবে।

আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই?এই প্রশ্নটিই হয়তো ৯ আগস্টের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে কোনো শিশুকে নিজের পরিচয় নিয়ে সংকুচিত হতে হবে?
নাকি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে সে গর্ব করে বলতে পারবে, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক-আমি আমার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়েও সমান মর্যাদার নাগরিক।”

আমরা কি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে কিন্তু মানুষ অনিরাপদ থাকবে?
নাকি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে?
আমরা কি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড় কেবল সংঘাতের খবরের শিরোনাম হবে?
নাকি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড়ের খবর হবে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবেশ ও সাফল্যের গল্প?

৯ আগস্টের আহ্বান-একটি নতুন সামাজিক চুক্তির দিকে। আমাদের এখন প্রয়োজন এমন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শান্তি হবে শুধু অস্ত্র বিরতির নাম নয়-ন্যায় বিচারের পরিবেশ।

উন্নয়ন হবে শুধু রাস্তা-ব্রিজ নয়-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অধিকার হবে শুধু কাগজের ভাষা নয়-বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা।
সংস্কৃতি হবে শুধু মঞ্চের নৃত্য নয়-প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকার অধিকার।
নারী হবে শুধু অনুষ্ঠানের অতিথি নয়-নীতি নির্ধারণের অংশীদার।
তরুণ হবে শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়-আজকের পরিবর্তনের অংশীদার।
এবং
আদিবাসী ধাত্রী হবেন শুধু অতীতের স্মৃতি নন-ভবিষ্যতের জ্ঞান ধারক।

শেষ কথা:

পাহাড়ের শিশুটির চোখে বাংলাদেশকে দেখতে শিখি। ৯ আগস্ট ২০২৬-এ যখন পার্বত্য জনপদে মানুষ সমবেত হবে, তখন আমরা শুধু বক্তৃতা শুনবো না-একবার পাহাড়ের একটি শিশুর চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করি।

সে হয়তো একটি দুর্গম গ্রামের ছোট্ট ঘরে জন্ম নিয়েছে। তার মা হয়তো একজন ঐতিহ্যগত ধাত্রীর সহায়তা পেয়েছেন। তার সামনে হয়তো পাহাড়, বন আর নীল আকাশ।
কিন্তু তার স্বপ্ন?
সেটি আমাদের সন্তানদের স্বপ্নের মতোই-
সে পড়তে চায়।
সে বড় হতে চায়।
সে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে চায়।
সে নিরাপদ থাকতে চায়।
সে তার মাকে ভালো রাখতে চায়।
সে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ চায়।

এই শিশুটির স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্বপ্নের পার্থক্য কোথায়? কোথাও নয়। তাহলে তার অধিকার, তার নিরাপত্তা, তার শিক্ষা, তার সংস্কৃতি ও তার ভবিষ্যৎ কেন আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হবে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হোক এবারের ৯ আগস্ট।

আসুন, এবার ৯ আগস্টকে শুধু একটি দিবস হিসেবে পালন না করি।

আসুন, ৯ আগস্টকে একটি প্রতিশ্রুতির দিন করি।

প্রতিশ্রুতি হোক-
শান্তির জন্য।
ন্যায়ের জন্য।
ভূমির নিরাপত্তার জন্য।
মাতৃভাষার জন্য।
শিক্ষার জন্য।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য।
নারীর মর্যাদার জন্য।
তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য।
সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার জন্য।
এবং একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য।

কারণ, “পাহাড়ের আদিবাসী মানুষকে নিরাপদ না করে পাহাড়ে শান্তি আসবে না; আর পাহাড়ে ন্যায়ভিত্তিক শান্তি ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাও পূর্ণতা পাবে না।”

আর সেই কারণেই-পাহাড়ের ভবিষ্যৎ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আদিবাসীর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের মর্যাদা।

একটি শিশুর নিরাপদ জন্ম মানে একটি নিরাপদ আগামীকাল।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬-এর অঙ্গীকার হোক-
“জীবনকে সম্মান করি, জ্ঞানকে সুরক্ষা করি, সংস্কৃতিকে বাঁচাই, অধিকারকে কার্যকর করি এবং শান্তিকে মানুষের জীবনে বাস্তব করে তুলি।”

৯ আগস্ট শুধু একটি দিবস নয়। ৯ আগস্ট-আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন এবং একই সঙ্গে-একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার দিন।

ভাবতে হবে। পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। বন, পাহাড়, নদী, জীব বৈচিত্র্য-সবকিছু মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড়ের মানুষের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ।

তাই উন্নয়ন দরকার। কিন্তু এমন উন্নয়ন দরকার নয়, যা পাহাড়কে নিঃশেষ করে ফেলে। প্রয়োজন-মানুষের কল্যাণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-তিনটিকে একসঙ্গে দেখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিক্ষয়, বন উজাড় ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়-এটি পাহাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অংশ।

এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-আস্থার রাজনীতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের আদিবাসী সমস্যার কোনো সমাধান কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সম্ভব নয়। আবার কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েও সম্ভব নয়। প্রয়োজন-
আলোচনা;
সংলাপ;
অংশগ্রহণ;
স্বচ্ছতা;
জবাবদিহি;
আইনের শাসন;
এবং পারস্পরিক আস্থা।

রাষ্ট্রকে শুনতে হবে পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের কথা। পাহাড়ের আদিবাসী রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও শুনতে হবে সাধারণ মানুষের ভাষা। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

বাংলাদেশের মূলধারার সমাজকেও বুঝতে হবে-পাহাড়ের আদিবাসী মানুষের অধিকার মানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অধিকার নয়। বরং ন্যায়ভিত্তিক অধিকার, মর্যাদা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশই আরও শক্তিশালী হবে।

আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই?এই প্রশ্নটিই হয়তো ৯ আগস্টের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে কোনো শিশুকে নিজের পরিচয় নিয়ে সংকুচিত হতে হবে?
নাকি এমন বাংলাদেশ চাই-
যেখানে সে গর্ব করে বলতে পারবে, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক-আমি আমার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়েও সমান মর্যাদার নাগরিক।”

আমরা কি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে কিন্তু মানুষ অনিরাপদ থাকবে?
নাকি এমন পাহাড় চাই-
যেখানে উন্নয়ন হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে?
আমরা কি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড় কেবল সংঘাতের খবরের শিরোনাম হবে?
নাকি এমন রাজনীতি চাই-
যেখানে পাহাড়ের খবর হবে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্যোক্তা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবেশ ও সাফল্যের গল্প?

৯ আগস্টের আহ্বান-একটি নতুন সামাজিক চুক্তির দিকে। আমাদের এখন প্রয়োজন এমন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শান্তি হবে শুধু অস্ত্র বিরতির নাম নয়-ন্যায় বিচারের পরিবেশ।

উন্নয়ন হবে শুধু রাস্তা-ব্রিজ নয়-মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অধিকার হবে শুধু কাগজের ভাষা নয়-বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা।
সংস্কৃতি হবে শুধু মঞ্চের নৃত্য নয়-প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকার অধিকার।
নারী হবে শুধু অনুষ্ঠানের অতিথি নয়-নীতি নির্ধারণের অংশীদার।
তরুণ হবে শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়-আজকের পরিবর্তনের অংশীদার।
এবং
আদিবাসী ধাত্রী হবেন শুধু অতীতের স্মৃতি নন-ভবিষ্যতের জ্ঞান ধারক।

শেষ কথা:

পাহাড়ের শিশুটির চোখে বাংলাদেশকে দেখতে শিখি। ৯ আগস্ট ২০২৬-এ যখন পার্বত্য জনপদে মানুষ সমবেত হবে, তখন আমরা শুধু বক্তৃতা শুনবো না-একবার পাহাড়ের একটি শিশুর চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করি।

সে হয়তো একটি দুর্গম গ্রামের ছোট্ট ঘরে জন্ম নিয়েছে। তার মা হয়তো একজন ঐতিহ্যগত ধাত্রীর সহায়তা পেয়েছেন। তার সামনে হয়তো পাহাড়, বন আর নীল আকাশ।
কিন্তু তার স্বপ্ন?
সেটি আমাদের সন্তানদের স্বপ্নের মতোই-
সে পড়তে চায়।
সে বড় হতে চায়।
সে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে চায়।
সে নিরাপদ থাকতে চায়।
সে তার মাকে ভালো রাখতে চায়।
সে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ চায়।

এই শিশুটির স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্বপ্নের পার্থক্য কোথায়?
কোথাও নয়।
তাহলে তার অধিকার, তার নিরাপত্তা, তার শিক্ষা, তার সংস্কৃতি ও তার ভবিষ্যৎ কেন আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হবে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হোক এবারের ৯ আগস্ট।

আসুন, এবার ৯ আগস্টকে শুধু একটি দিবস হিসেবে পালন না করি।

আসুন, ৯ আগস্টকে একটি প্রতিশ্রুতির দিন করি।

প্রতিশ্রুতি হোক-
শান্তির জন্য।
ন্যায়ের জন্য।
ভূমির নিরাপত্তার জন্য।
মাতৃভাষার জন্য।
শিক্ষার জন্য।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য।
নারীর মর্যাদার জন্য।
তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য।
সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার জন্য।
এবং একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য।

কারণ, “পাহাড়ের আদিবাসী মানুষকে নিরাপদ না করে পাহাড়ে শান্তি আসবে না; আর পাহাড়ে ন্যায়ভিত্তিক শান্তি ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাও পূর্ণতা পাবে না।”

আর সেই কারণেই-পাহাড়ের ভবিষ্যৎ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আদিবাসীর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের মর্যাদা।

একটি শিশুর নিরাপদ জন্ম মানে একটি নিরাপদ আগামীকাল।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬-এর অঙ্গীকার হোক-
“জীবনকে সম্মান করি, জ্ঞানকে সুরক্ষা করি, সংস্কৃতিকে বাঁচাই, অধিকারকে কার্যকর করি এবং শান্তিকে মানুষের জীবনে বাস্তব করে তুলি।”

৯ আগস্ট শুধু একটি দিবস নয়।
৯ আগস্ট-আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন এবং একই সঙ্গে-একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার দিন।

রুমার দুর্গম এলাকায় হাম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক পরিবার

সাংবাদিকতা ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি মাস্টার্স পাস করলেন অর্ণব মল্লিক

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবান রুমায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল হাসান এর দূরদর্শী পরিকল্পনায় রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাম (Measles) রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন—এমন তিনটি পাড়ায় এ ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।

গত (৫ আগস্ট) ২০২৬ তারিখে রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের নিয়াংক্ষ্যং পাড়া, চাইরাগ্র পাড়া ও পরুয়া পাড়ায় রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হেলেন কেলার ও তহজিংডং প্রকল্পের এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি রুমার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত যাতায়াত ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও টিকাদানের আওতায় আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রতিকূল পাহাড়ি পরিবেশ ও দীর্ঘ দুর্গম পথ অতিক্রম করে মেডিকেল টিম তিনটি পাড়ায় পৌঁছে প্রায় ১৫০টি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। ক্যাম্পে রোগী পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের উপসর্গ সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়। হাম প্রতিরোধে ২৪ শিশুকে এমআর টিকা চলমান হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর আওতায় ক্যাম্পে ২৪ জন শিশুকে এমআর (Measles-Rubella) টিকা দেওয়া হয়।

এ সময় অভিভাবকদের হাম রোগের লক্ষণ, সময়মতো টিকা গ্রহণের গুরুত্ব এবং শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দাগ বা হামসদৃশ কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের বিষয়ে সচেতন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুর্গম এলাকায় সরাসরি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।

ক্যাম্পে শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় ১০টি ম্যালেরিয়া Rapid Diagnostic Test (RDT) সম্পন্ন করা হয়।

এর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে একই ক্যাম্পে চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়, টিকাদান, পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ—সবকটি সেবা সমন্বিতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়। শিশুদের পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করা, হাম রোগের উপসর্গ দ্রুত শনাক্ত করা, জ্বর বা শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, নিরাপদ পানি ব্যবহার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুদের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গম এলাকায় এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদানের আওতায় আনা এবং রোগ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেডিকেল ক্যাম্পের নেতৃত্ব দেন রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রুবেল মোস্তফা। তাঁর নেতৃত্বে মেডিকেল টিম মাঠপর্যায়ে রোগী পরীক্ষা, চিকিৎসা প্রদান, শিশুদের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, টিকাদান কার্যক্রম এবং ম্যালেরিয়া পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে।

কর্মসূচিতে তহজিংডং উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ইটেন ত্রিপুরা, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা, সাকমো অভিজিৎ চাকমা, জেলা EPI টেকনিশিয়ান উবামং মার্মা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান, EPI কর্মী, স্বাস্থ্য সহকারী এবং তহজিংডং-এর CNP সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা করেন ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট পাড়াগুলোর সরকারি শিক্ষকরা। দুর্গম এলাকায় জনগণকে সংগঠিত করা, ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় স্থানীয় সমন্বয়ে সহযোগিতা করেন পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

মেডিকেল ক্যাম্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে হেলেন কেলার ও তহজিংডং প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সার্বিক সহযোগিতা ছিল বলে আয়োজকরা জানান। দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য আয়োজকদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত প্রতিবন্ধকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের আসার অপেক্ষায় না থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গম এলাকায় গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এ ধরনের উদ্যোগকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে হামসহ সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদানের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০০ পরিবারের পাশে জেলা পরিষদ

সাংবাদিকতা ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি মাস্টার্স পাস করলেন অর্ণব মল্লিক

 

স্টাফ রিপোর্টার :

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ১ হাজার ৩০০শত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট)২৬ খ্রিঃ সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এডিসি হিলস্থ ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মোঃহাবীব আজমের বিশেষ বরাদ্দের অংশ হিসেবে এবং তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে বহু পরিবার বসতঘর হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

তাদের তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনেই এই উদ্যোগ।ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মোঃনুরনবী-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এসময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উৎস হারিয়ে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে জেলা পরিষদ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বক্তারা আরও জানান, শুধু ৪ নং ওয়ার্ডেই নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের মাঝে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার বঞ্চিত না হয়।

এদিকে বিপুল সংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতিতেও যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে সহায়তা গ্রহণ করেন উপকারভোগীরা। এসময় তারা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির। এজন্য তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

×