রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
শিরোনাম:

রাঙামাটি জেলা পরিষদের তরুণ সদস্য হাবীব আজমকে ঘিরে প্রাসঙ্গিক পুনর্মূল্যায়ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৮ পিএম
7 বার পড়া হয়েছে
রাঙামাটি জেলা পরিষদের তরুণ সদস্য হাবীব আজমকে ঘিরে প্রাসঙ্গিক পুনর্মূল্যায়ন

হুমায়ুন কবির ::

কে এই হাবীব আজম কেন তাকে নিয়ে লিখতে হলো? তা অবশ্যই পাঠকমণ্ডলীর আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ার কথা মো. হাবীব আজম হচ্ছে রাঙামাটি শহরের কাঁঠাতলী এলাকার কৃতিসন্তান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের একজন তরুণ সদস্য। মো. হাবীব আজমকে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত, হেয়-প্রতিপন্ন ও ঘায়েল করার যে অপপ্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার প্রেক্ষাপট অনুধাবনের পূর্বশর্ত হলো তাঁর রাজনৈতিক অভিযাত্রার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানা। ইতিহাস অজ্ঞাত রেখে ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করলে তা অবিচারেই পরিণত হয়।

সে জীবনের শুরু থেকে পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলো। হাবিব আজম এর সংক্ষিপ্ত জীবনী পর্যালোচনা করে জানা যায়, রাঙামাটি জেলা জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. হাবীব আজম। তৎকালীন সময়ে সংগঠনের কমিটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির কারণে তাঁর নামের স্থলে হাবিবুল্লাহ হাবীব মুদ্রিত হয়েছিল। ফলে বিভিন্ন সংবাদপত্র, দাওয়াতপত্র ও প্রচারসামগ্রীতে সেই নামই ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। বাস্তবে ব্যক্তি ও পরিচয়ের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি ছিল না, ছিল কেবল অসতর্কতা। অথচ সেই পূর্বের ভুলকে কেন্দ্র করে আজ কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। শুধু এই ভুল নয় পরবর্তীতে তিনি বিএনপির সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পদবীতে ছিলেন, সেসব আজ কেন জানি অস্বীকার করা হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় কে কাকে কখন খাটো করে বা ক্ষমতা ব্যবহার করে ঘায়েল করে তা বর্তমান সময়ের পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট। রাঙামাটির বাসিন্দা হিসেবে এখানকার প্রকৃত চিত্র, রাজনীতি, জনজীবন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ন্যূনতম ওয়াকিবহাল। সেইদিক থেকে হাবীব সম্পর্কেও টুকিটাকি জানি। পাহাড়ের রাজনীতি খুব কঠিন। এটা অপ্রিয় সত্য।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সক্রিয়তা ছিল সুস্পষ্ট ও উচ্চকণ্ঠ। বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে অতীতে প্রধান অতিথি করে জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছিলেন হাবীব আজম। সেই সময় রাঙামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীপেন দেওয়ানকে কোণঠাসা করার প্রতিযোগিতা চলছিল। অনুকূল পরিবেশ তো ছিলই না, বরং ছিল প্রবল প্রতিবন্ধকতা, নানামুখী চাপ এবং হুমকি। তবু তিনি নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেননি। দীপেন দেওয়ানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর বিরূপতা, এমনকি একাধিকবার শারীরিক সংঘাতের পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে। সুসময়ের সহচর হওয়া সহজ, কিন্তু দুঃসময়ের সহযোদ্ধা হওয়া দুর্লভ। সেই দুর্লভতার পরিচয় তিনি দিয়েছিলেন দৃপ্ত কণ্ঠে স্লোগান তুলে।

রাঙামাটির রাজপথ, বিশেষত বনরূপা এলাকা, একসময় তাঁর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী উচ্চারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন পরিচিত মুখ। সহযোদ্ধাদের নিকট তিনি স্লোগান মাস্টার নামেই সমাদৃত ছিলেন। ২০১৩ সালে যখন বিএনপির টানা হরতাল চলছিল, প্রতিটি দিন রাজপথে উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বর্তমান জেলা ছাত্রদলের বিল্পবী সভাপতি সাব্বিরের নেতৃত্বে বিভিন্ন মিছিলেও তিনি সম্পূর্ণ সময় উপস্থিত থেকে প্রখর রৌদ্রে স্লোগান দিয়ে কর্মীদের উদ্দীপ্ত করেছেন। এমন ধারাবাহিক উপস্থিতি ও আত্মনিবেদন সবার ভাগ্যে জোটে না।

সেই সময় হরতালবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে সম্মুখসারিতে ছিলেন হাবীব। আন্দোলনের উত্তাপে যখন অনেকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই তাঁর ত্যাগ ও ভূমিকার বিষয়ে অবগত। রাজনৈতিক সংগঠনে পদ অলঙ্কার মাত্র, প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে ত্যাগ, সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তায়।

বিগত সময়ে বিএনপি পরিবারের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন হাবীব আজম। ২০১৪ সালে সদর থানা জাসাস কমিটিতে সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক পদেও ছিলেন। কিন্তু পদমর্যাদা আঁকড়ে থাকা তাঁর লক্ষ্য ছিল না। পাহাড়ের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার প্রয়োজনে তিনি সংগঠনের কাঠামোগত অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবুও আদর্শিকভাবে জিয়া পরিবার বা বিএনপি পরিবার থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতায়। এমনকি ২৪ এর আন্দোলনে ১ আগষ্ট থেকে রাজপথে থাকা আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রতিবন্ধকতা ও পুলিশের বাঁধায় যাতে পড়তে না হয় সেজন্য সংবাদ পত্রের আইডি কার্ড সরবরাহ করেন হাবীব আজম। স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট পতনেও ভূমিকাও রাখেন তিনি।

রাঙামাটিতে যেখানে অনেক পরিবার সুবিধাবাদী বিভাজনের রাজনীতিতে অভ্যস্ত, সেখানে হাবীবের পরিবার সুস্পষ্টভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর ছোট ভাই ওমর মোরশেদ রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি। তাঁর পিতা চান মিয়া ২০০২ সালে পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন। অর্থাৎ পারিবারিকভাবেই একটি আদর্শিক ধারাবাহিকতা বহমান রয়েছে। তারপরও গুটি কয়েক কিছু ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাঁকে বিতর্কিত করার প্রয়াস নিচ্ছে, যা রাজনৈতিক নূন্যতম নৈতিকতার পরিপন্থী।

সমাজে ষড়যন্ত্রকারীর অবস্থান কখনো উচ্চে থাকে না। যাঁরা হাবীবকে কাছ থেকে চেনেন, তাঁর অতীত সংগ্রাম ও আত্মনিবেদনের ইতিহাস জানেন, তাঁরা তাঁকে সম্মান করেন। জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর হয়তো সবার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষমতা ও দায়িত্বের সঙ্গে সীমাবদ্ধতাও যুক্ত থাকে। কারও আবদার অপূর্ণ থাকলেই তাকে টার্গেট বানানো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ নয়।

ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার কেউ নন। কিন্তু পাহাড়ের মানুষের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। জেলা পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তাঁকে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, যা তাঁকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে তাঁকে ঘিরে অপপ্রচার শুনে আক্ষেপ জন্মায়। কারও অতীত সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবদানের ইতিহাস অগ্রাহ্য করে কেবল সাময়িক গুঞ্জনের ভিত্তিতে চরিত্রহননের প্রয়াস গ্রহণ করা অনুচিত। একসময় বিএনপির পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম করা মানুষের সংখ্যা ছিল অল্প। আজ সংখ্যা বেড়েছে, পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস রচনায় যাঁরা প্রথম সারিতে ছিলেন, তাঁদের অবদান বিস্মৃত হওয়া নৈতিক দারিদ্র্যের পরিচায়ক।

দুঃসময়ের কর্মীদের উপেক্ষা করে সুসময়ের নতুন মুখদের নিয়ে মাতামাতি করা যেমন অমার্জিত, তেমনি ব্যক্তিগত রোষানলে কারও রাজনৈতিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রয়াসও অশোভন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বাস্থ্যকর বিকাশের জন্য প্রয়োজন তথ্যনিষ্ঠ মূল্যায়ন, গুজব নির্ভর অপপ্রচার নয়।

অতএব, হাবীব আজমকে নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করার আগে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ, আদর্শিক অবস্থান ও পারিবারিক ঐতিহ্য বিবেচনায় নেওয়া উচিত। ইতিহাস না জেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো যেমন অন্যায়, তেমনি নীরব থেকে অন্যায়ের প্রশ্রয় দেওয়াও সমানভাবে দোষের। সত্যের পক্ষে উচ্চারণই হোক আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার।

লেখক:- হুমায়ুন কবির
সংবাদকর্মী, রাঙামাটি।

গোবিন্দগঞ্জে দশম শ্রেণির ছাত্রীর গলাকাটা মধ্যে ও উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
রাঙামাটি জেলা পরিষদের তরুণ সদস্য হাবীব আজমকে ঘিরে প্রাসঙ্গিক পুনর্মূল্যায়ন

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংক থেকে নুরমা বানু (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ওই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাদের কন্যা নুরমা বানুকে বাড়িতে রেখে ধানের জমিতে কাজ করতে যান। দুপুর ১২ টার দিকে তারা বাড়িতে ফিরে এসে নূরমা বানুকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা নুরমার ঘরে রক্তমাখা বটি দেখতে পান। পরে খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পরিত্যক্ত একটি সেফটি ট্যাংকে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।

বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সেফটি ট্যাংক থেকে নুরমা বানুর মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেফটি ট্যাংক থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং লা শ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাজেকে বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সংকটে চরম ভোগান্তিতে ছাত্র-ছাত্রীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
রাঙামাটি জেলা পরিষদের তরুণ সদস্য হাবীব আজমকে ঘিরে প্রাসঙ্গিক পুনর্মূল্যায়ন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

রাঙামাটির সাজেক অঞ্চলের অন্তর্গত বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়–এ দীর্ঘদিন ধরে বেঞ্চ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থেকেই পাঠ গ্রহণ করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও সে অনুযায়ী আসবাবপত্রের ব্যবস্থা খুবই সমিট। বর্তমানে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বেঞ্চ রয়েছে। ফলে একটি বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে ৫–৬ জন শিক্ষার্থীকে। এতে যেমন শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

৬ষ্ট শ্রিনীর এক শিক্ষার্থী জানায়, “প্রতিদিন মেঝেতে বসে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। বই-খাতা ঠিকভাবে রাখতে পারি না। পরীক্ষার সময় আরও সমস্যা হয়।” অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের দাবি, দ্রুত বেঞ্চ সরবরাহ না করলে শিক্ষার মান আরও অবনতি ঘটবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবধি চাকমা জানান, সামনে এসএসসি পরিক্ষা রয়েছে তাই দ্রুত সময়ের মধ্য বেঞ্চ সংগ্রহ না করলে শিক্ষার্থীদের ব্যঘাত ঘটবে বলে জানান।

বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি নেলসন চাকমা মনে করেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ সরবরাহ ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাজেকের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হলে অবকাঠামোগত সংকট দূর করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন নেলসন চাকমা।

পাহাড়ের কৃষিতে নতুন দিগন্তে কাপ্তাইয়ে সনদ পেলেন ৬০ কৃষি উদ্যোক্তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
রাঙামাটি জেলা পরিষদের তরুণ সদস্য হাবীব আজমকে ঘিরে প্রাসঙ্গিক পুনর্মূল্যায়ন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষক পর্যায়ে দিনব্যাপী ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ (GAP) সার্টিফিকেশন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাপ্তাই হর্টিকালচার ট্রেনিং সেন্টারের হলরুমে এই কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাপ্তাই উপজেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং পার্টনার (PARTNER) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে এলাকার ৬০ জন নারী ও পুরুষ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আহসান হাবীব। প্রশিক্ষণ সেশনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাসায়নিক সারের সুষম ব্যবহার এবং কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ‘অপেক্ষাকাল’ (PHI) কঠোরভাবে মেনে চলা। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ফসল সংগ্রহ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের কৌশল। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করলে ফসলের গুণগত মান বাড়ে, উৎপাদন খরচ কমে এবং বাজারে নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়।

​সনদ বিতরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা​ দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ৬০ জন কৃষকের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সনদ বিতরণকালে আয়োজকরা জানান, ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

×