রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
শিরোনাম:

কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছু দিনের মধ্যে না কমালে ব্যাহত হবে বোরো মৌসুমের ধান চাষ : চুরমার হবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
4 বার পড়া হয়েছে
কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছু দিনের মধ্যে না কমালে ব্যাহত হবে বোরো মৌসুমের ধান চাষ : চুরমার হবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

দধরাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি কয়েক দিনের মধ্যে না কমালে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। ব্যহত হবে বোরো মৌসুমের ধান চাষসহ অন্যান্য চাষ। সরেজমিনে দেখতে গিয়ে দেখা যায়, বিলাই বাজার এলাকা, কেরনছড়ি, ধূপ্যাচর, দীঘল ছড়ি, কুতুবদিয়া, মাছকাবা ছড়া, শুকনা ছড়ি সাক্রাছড়ি,বহলতলী ও ভালাছড়ি এলাকায় উপরে অংশে কিছু কিছু জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও হ্রদের উপরে বসবাস করা অন্যান্য উপজেলাগুলোও একই চিত্র।

প্রথম স্তরে জমিগুলো কিছু কিছু ধান রোপণ করলেও, একে বারেই চাষ করতে পারেনি দ্বিতীয় স্তরের বেশির ভাগ জায়গায় – জমি। যা পানি দ্রুত কমানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে শুরু করেছেন। কৃষকের রয়েছে মাঠজুড়ে বীজতলা/ জালা/বীজবপন।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অনেক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরে এই সময়ে অনেক নীচে পানি কমে গেছে। খবরে দেখেছেন তারা, নির্বাচনের কারণে  যোগাযোগ সুবিধার জন্য পানি ধরে রাখা হয়েছে। নির্বাচন শেষ হলে দ্রুত কমানো হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও পানি দ্রুত কমানো হচ্ছে না। বাঁধের উপরে ধান্য জমি চাষ করতে পারে সবে মাত্র একবার, তাও সঠিক সময়ে পানি কমালে। অর্থাৎ ডিসেম্বর – জানুয়ারির – ফেব্রুয়ারির মধ্যে। অন্যদিকে জুন – জুলাইয়ে বর্ষাকালে পানি চলে আসে। ঠিকমতো চাষ করতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। তখন এই দায় কে নিবে !

কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায় জানান, এবারে লক্ষ্য মাত্রা ২৮০ হেক্টর হলেও, দ্রুত পানি না কমানের ফলে অর্জন হতে পারে সবে মাত্র ৭৫ হেক্টর জমির ফসল।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ জানান, কাপ্তাই হ্রদে বছরে একবার চাষ করতে পারে এই জলেভাসা জমিগুলো। সঠিক সময়ে না কামানোর ফলে ক্ষতি হচ্ছে কৃষকরা। জালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাষ করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তিনি আরও জানান কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতি বছরের ন্যায় নিদিষ্ট সময়ে পানি কমানো এবং নিদিষ্ট সময়ে পানি বৃদ্ধি করা।যাহাতে সবাই বাঁচতে পারে।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা জানান, নদীর পাড়/তীরগুলো শুকিয়ে দিয়ে খালের পানি ধরে রাখা। অন্তত পক্ষে নৌচলাচল করতে পারে এমন আবস্থানে পানি রেখে, বাকী সব পানি দ্রুত কমিয়ে ফেলা। যাহাতে চাষযোগ্য জমিগুলো দ্রুত চাষ করতে পারে সে অবস্থানে নিয়ে আনা।

এই বিষয়ে পিডিপির ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ১টি পাওয়ার বা গেইট খোলা এখন নির্বাচনের পরে এখন ২টি খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ৯৩ ফিট এমএসএল উচ্চতায় (mean se lavel পানি রয়েছে। উল্লেখ্য যে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ৫৪ হাজার একর জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই তারা বিষয়টি সুদৃষ্টির কামনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড. দীপেন দেওয়ান এরঁ কাছে।

গোবিন্দগঞ্জে দশম শ্রেণির ছাত্রীর গলাকাটা মধ্যে ও উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছু দিনের মধ্যে না কমালে ব্যাহত হবে বোরো মৌসুমের ধান চাষ : চুরমার হবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংক থেকে নুরমা বানু (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ওই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাদের কন্যা নুরমা বানুকে বাড়িতে রেখে ধানের জমিতে কাজ করতে যান। দুপুর ১২ টার দিকে তারা বাড়িতে ফিরে এসে নূরমা বানুকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা নুরমার ঘরে রক্তমাখা বটি দেখতে পান। পরে খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পরিত্যক্ত একটি সেফটি ট্যাংকে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।

বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সেফটি ট্যাংক থেকে নুরমা বানুর মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেফটি ট্যাংক থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং লা শ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাজেকে বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সংকটে চরম ভোগান্তিতে ছাত্র-ছাত্রীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছু দিনের মধ্যে না কমালে ব্যাহত হবে বোরো মৌসুমের ধান চাষ : চুরমার হবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

রাঙামাটির সাজেক অঞ্চলের অন্তর্গত বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়–এ দীর্ঘদিন ধরে বেঞ্চ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থেকেই পাঠ গ্রহণ করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও সে অনুযায়ী আসবাবপত্রের ব্যবস্থা খুবই সমিট। বর্তমানে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বেঞ্চ রয়েছে। ফলে একটি বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে ৫–৬ জন শিক্ষার্থীকে। এতে যেমন শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

৬ষ্ট শ্রিনীর এক শিক্ষার্থী জানায়, “প্রতিদিন মেঝেতে বসে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। বই-খাতা ঠিকভাবে রাখতে পারি না। পরীক্ষার সময় আরও সমস্যা হয়।” অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের দাবি, দ্রুত বেঞ্চ সরবরাহ না করলে শিক্ষার মান আরও অবনতি ঘটবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবধি চাকমা জানান, সামনে এসএসসি পরিক্ষা রয়েছে তাই দ্রুত সময়ের মধ্য বেঞ্চ সংগ্রহ না করলে শিক্ষার্থীদের ব্যঘাত ঘটবে বলে জানান।

বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি নেলসন চাকমা মনে করেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ সরবরাহ ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাজেকের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হলে অবকাঠামোগত সংকট দূর করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন নেলসন চাকমা।

পাহাড়ের কৃষিতে নতুন দিগন্তে কাপ্তাইয়ে সনদ পেলেন ৬০ কৃষি উদ্যোক্তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছু দিনের মধ্যে না কমালে ব্যাহত হবে বোরো মৌসুমের ধান চাষ : চুরমার হবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষক পর্যায়ে দিনব্যাপী ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ (GAP) সার্টিফিকেশন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাপ্তাই হর্টিকালচার ট্রেনিং সেন্টারের হলরুমে এই কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাপ্তাই উপজেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং পার্টনার (PARTNER) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে এলাকার ৬০ জন নারী ও পুরুষ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আহসান হাবীব। প্রশিক্ষণ সেশনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাসায়নিক সারের সুষম ব্যবহার এবং কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ‘অপেক্ষাকাল’ (PHI) কঠোরভাবে মেনে চলা। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ফসল সংগ্রহ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের কৌশল। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করলে ফসলের গুণগত মান বাড়ে, উৎপাদন খরচ কমে এবং বাজারে নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়।

​সনদ বিতরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা​ দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ৬০ জন কৃষকের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সনদ বিতরণকালে আয়োজকরা জানান, ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

×