❝কাপ্তাইয়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি, নিয়ন্ত্রণে পুলিশ❞
রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বরইছড়ি সদর এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। তেলের তীব্র সংকট ও সরবরাহ বিপর্যয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকেই স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পর্যটক এবং পেশাজীবী চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বরইছড়ি সদরে অবস্থিত ‘আশা অয়েল লিমিটেডে’ সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই লাইন দীর্ঘ হয়ে প্রধান সড়কের একাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কাপ্তাই একটি অন্যতম পর্যটন এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা পর্যটকরা তেলের অভাবে মাঝপথে আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্থবির হয়ে পড়েছে।
একজন ভুক্তভোগী চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ”আমরা দিন আনি দিন খাই। তেলের জন্য সকাল থেকে বসে আছি, কাজ নেই। জরুরি কাজে যারা যেতে চাচ্ছেন তাদেরও নিতে পারছি না। তেল পাব কি না তাও জানি না।” স্টেশনে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কাপ্তাই থানা পুলিশের একটি টিমকে শুরু থেকেই তৎপর দেখা যায়। সারিবদ্ধভাবে যানবাহন দাঁড় করানো এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ছাড়াই যাতে তেল বিক্রয় কার্যক্রম চলে, সেজন্য পুলিশের এই তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই একটি স্টেশনে ভিড় করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকা অথবা সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতিকেই এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া না গেলেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে, সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে পর্যটন ও জনজীবন সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।






