| ৮ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

স্টাফ রিপোর্টার :

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম ‘জ্ঞান মন্দির’ হিসেবে পরিচিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’।

দীর্ঘ আট বছরের নির্মাণকাজ শেষে পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে এই স্থায়ী উপাসনালয়টির দ্বার উন্মোচন করা হয়।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবি’র উপ-উপাচার্যবৃন্দ এবং মন্দির নির্মাণের দাতা সংস্থা অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান শ্রীমতি অনিতা চৌধুরী।

চবির সনাতন ধর্ম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ বলেন, এই মন্দিরটি দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ জন সনাতনী শিক্ষক ও তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্দির প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়। মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ ভারত থেকে আনা অপূর্ব নান্দনিক মার্বেল পাথরের সরস্বতী বিগ্রহ, যা-গত ২০ এপ্রিল প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

মন্দিরের মূল ভবন নির্মাণে এককভাবে অর্থায়ন করেছে অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন। এছাড়া দেশ-বিদেশের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অনুদানে পুরো মন্দির কমপ্লেক্সটির উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

মন্দিরের নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে -এস্ট্রো এবং ইন্টেরিয়র কাজ তদারকি করেছেন দ্য-অ্যাড কমিউনিকেশন।

উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় জানান, জ্ঞানই শক্তি জ্ঞানই মুক্তি-এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে এখানে একটি বৈদিক গ্রন্থাগার, ধ্যানকেন্দ্র, সেমিনার অডিটোরিয়াম এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজকের উদ্বোধনী কর্মসূচির মধ্যে ছিল দেবী পূজা, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, অতিথিদের আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মন্দিরটি এখন থেকে চবি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান পৌরসভা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

মোঃ আলম; বান্দরবান সংবাদদাতা:

অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ে সংলগ্ন জমি ও ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক।

বুধবার দুপুরে ডাম্পিং স্টেশন এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিকদের হাতে এই সহায়তা তুলে দেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য পানির সাথে ভেসে আশপাশের আবাদি জমিতে পড়ে। এতে বেশ কিছু জমির ফসল নষ্ট হয় এবং জমির উর্বরতা ক্ষতির মুখে পড়ে।

এসময় প্রশাসক জনাব এস. এম. মনজুরুল হক ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন,”প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। পৌরসভা সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য ডাম্পিং স্টেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ক্ষতিগ্রস্তরা এই মানবিক সহায়তার জন্য পৌর প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্থানীয়রা খুবই ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

বান্দরবান রোয়াংছড়িতে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

বান্দরবান সংবাদদাতা:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২নং তারাছা ইউনিয়নের ছাংইঙ্গা দানেশ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ছমদ আলী। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সেক্টর-১ এর অধীনে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছেন। তার হাতে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যায়ন পত্র, যেখানে ১৫৩নং গ্রুপ কমান্ডার জলিল বর্কসু স্বাক্ষর করে তার বীরত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

কিন্তু এত বছর পরেও সেই সার্টিফিকেটই এখন তার পরিবারের জন্য একমাত্র সম্বল। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি এই মুক্তিযোদ্ধা।

প্রত্যায়ন পত্রে উল্লেখ আছে, নাম: ছমদ আলী, পিতা: রবত আলী, গ্রাম: ছাংইঙ্গা দানেশ পাড়া, ইউনিয়ন: ২নং তারাছা, থানা: রোয়াংছড়ি, জেলা বান্দরবান সেক্টর ১, এফএফ নং ০২৪।

স্থানীয়রা জানান, দেশ স্বাধীন করতে যিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন, বার্ধক্যে এসে তিনি এখন চিকিৎসা, ভাতা, বাসস্থানসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না। কাগজপত্র থাকার পরও নানা জটিলতা ও অবহেলার কারণে ফাইল আটকে আছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

ছমদ আলীর পরিবারের দাবি, “বাবা যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য। আজ আমরা শুধু চাই রাষ্ট্র যেন তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকারটুকু দেয়। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা আর একটি নিরাপদ বাসস্থান।

বিষয়টি রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যদি অবহেলিত থাকেন, তাহলে প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস কী বার্তা দেবে?

দেশের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের শেষ বয়সটা যেন সম্মানের সাথে কাটে। এটাই এখন তারাছা ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা।

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ (বিটিকেএস) রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক, শপথ গ্রহণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রুমা সদরস্থ ত্রিপুরা কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি গর্ডেন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত ত্রিপুরা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি কলেজের প্রভাষক এবং বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলা শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নোহ ত্রিপুরা, সাবেক ইউপি সদস্য সাথিরাং ত্রিপুরা, ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার সভাপতি ইটেন ত্রিপুরা, মেম্বার জনমণি ত্রিপুরা, লাল বাহাদুর ত্রিপুরা, চিংলকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভে ত্রিপুরা প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পাড়ার কারবারি, ছাত্র প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব ও ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে নবনির্বাচিত কমিটির কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মেম্বার আন্তনি ত্রিপুরা ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের নিয়েই তিন বছর মেয়াদি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

×