চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির
স্টাফ রিপোর্টার :
অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম ‘জ্ঞান মন্দির’ হিসেবে পরিচিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’।
দীর্ঘ আট বছরের নির্মাণকাজ শেষে পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে এই স্থায়ী উপাসনালয়টির দ্বার উন্মোচন করা হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবি’র উপ-উপাচার্যবৃন্দ এবং মন্দির নির্মাণের দাতা সংস্থা অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান শ্রীমতি অনিতা চৌধুরী।
চবির সনাতন ধর্ম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ বলেন, এই মন্দিরটি দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০০ জন সনাতনী শিক্ষক ও তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্দির প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়। মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ ভারত থেকে আনা অপূর্ব নান্দনিক মার্বেল পাথরের সরস্বতী বিগ্রহ, যা-গত ২০ এপ্রিল প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।
মন্দিরের মূল ভবন নির্মাণে এককভাবে অর্থায়ন করেছে অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন। এছাড়া দেশ-বিদেশের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অনুদানে পুরো মন্দির কমপ্লেক্সটির উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

মন্দিরের নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে -এস্ট্রো এবং ইন্টেরিয়র কাজ তদারকি করেছেন দ্য-অ্যাড কমিউনিকেশন।
উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় জানান, জ্ঞানই শক্তি জ্ঞানই মুক্তি-এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে এখানে একটি বৈদিক গ্রন্থাগার, ধ্যানকেন্দ্র, সেমিনার অডিটোরিয়াম এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজকের উদ্বোধনী কর্মসূচির মধ্যে ছিল দেবী পূজা, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, অতিথিদের আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মন্দিরটি এখন থেকে চবি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।






