বাউবির এইচএসসি প্রোগ্রামের বইসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :
ভর্তির সময় বইয়ের টাকা নিয়েও বই না পাওয়ার অভিযোগ, ক্লাস-সিলেবাস ও ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এইচএসসি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের সময়মতো পাঠ্যবই সরবরাহ এবং ১০ দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)২৬খ্রিঃ সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকায় সময় চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক অরাজনৈতিক সংগঠন “ডাক দিয়ে যাই”-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক এবং হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ভিপি মোঃ পারভেজ খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির সাংগঠনিক সচিব, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও চট্টগ্রাম কলেজের আহ্বায়ক মোঃ ফরহাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকির হোসেন।
মানববন্ধনে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি কমার্স কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম মডেল কলেজ ও বিজয় স্বরণী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, গোলাম আজম লিটন ও বোরহান উদ্দিন; সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারি সিটি কলেজের ভিপি আশরাফুল ইসলাম সাকিল,ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক এবং সরকারি মহিলা কলেজের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। এ ছাড়া সরকারি কমার্স কলেজের আহ্বায়ক আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ও নুরুল হুদা এবং সদস্যসচিব সাদমান মাহিসহ বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিরা ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের পক্ষে বক্তব্য দেন।
বই না পেয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভর্তির সময় বইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেওয়া হলেও এইচএসসি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এখনো পাঠ্যবই হাতে পাননি। অথচ নির্ধারিত ২০টি ক্লাসের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বই ছাড়াই পাঠদান কার্যক্রম চলায় পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, সময়মতো বই না পাওয়ায় পাঠ্যসূচি অনুসরণ, বিষয়বস্তু অনুশীলন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় বই পৌঁছে দিতে হবে। ব
ক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে পড়ানো বিষয়বস্তুর সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের প্রত্যাশিত সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এ সমস্যা সমাধানে পাঠদান ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি ক্লাস শুরুর আগেই পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস সরবরাহের আহ্বান জানান। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো বই সরবরাহ, নিয়মিত পাঠদান, নির্ভুল ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা নিম্নোক্ত ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন— ১. সময়ে বই সরবরাহ: সব প্রোগ্রামের টিউটোরিয়াল ক্লাস শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। ২. রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ: এসএসসি, এইচএসসিসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে পরবর্তী কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় সুযোগ দিতে হবে। ৩. আগাম সিলেবাস প্রকাশ: ক্লাস শুরুর আগেই পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস সরবরাহ করতে হবে। ৪. ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি: নির্ধারিত পাঠ্যসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে ক্লাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ৫. সারাদেশে সমন্বিত পাঠদান: দেশের সব অঞ্চলে প্রতিটি প্রোগ্রামে একই সময়ে ও নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে। ৬. ফলাফলের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি: পরীক্ষার ফলাফলে ত্রুটি থাকলে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়। ৭. যোগ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব নিশ্চিত: বাউবির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে। ৮. শিক্ষার্থীসেবায় জনবল বৃদ্ধি: বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিসে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ৯. হয়রানি বন্ধ: বিভিন্ন অফিসে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করে সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ১০. এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য প্রদান: পরীক্ষা, ফলাফল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য জানাতে হবে।
দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রত্যাশা প্রধান বক্তা কাজী জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, সময়মতো পাঠ্যবই সরবরাহ, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

| ১৮ অক্টোবর ২০২৬












