| ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে বন্য শূকরের আক্রমণে হরি মনি ত্রিপুরা (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকালে বিষয়টি জানা গেছে।

নিহত হরিমনি রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নং বলিপাড়া এলাকার ওমাইপ্রু ত্রিপুরার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই জন ত্রিপুরা জানান, সোমবার পাহাড়ে ঝুম খেতের ধান আনতে যান হরিমনি ত্রিপুরা। পাহাড়ের উপর দিক থেকে হঠাৎ বন্য শূকরের পাল তাকে আক্রমণ করে। এসময় কোন লোক না থাকায় পালিয়ে যাবার সময় শূকরের সামনে পড়ে যান হরিমনি। শূকরের আক্রমনে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।তার মরদেহ উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমাদের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ নাই। আমরা আগামী কাল সৎকার করে নিব। বিষয়টি আমাদের পক্ষ হতে ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা কে অবগত করেছি।

১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এলাকায় এনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকা দুরবর্তী হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা কে অবহিত করেছেন বলে গণমাধ্যম কে জানান।

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার ২৬ অক্টোবর এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সকালে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান, পিণ্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ভদন্ত বিমল জ্যোতি মহাথের, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন তনহংকর মহাথের সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ, ভদন্ত লোক প্রিয় ভিক্ষু পার্বত্য সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শান্তি লুচন চাকমা।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা, পুণ্যার্থী ও বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ, মানবকল্যাণ, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে কল্পতরু ও কঠিন চীবরসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করেন পুণ্যার্থীরা।
কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দানের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এ আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

উৎসবকে ঘিরে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু হল চাচাতো ভাই-বোনের

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

একই দিনে জন্ম হয়েছিল চাচাতো ও জ্যাঠাতো দুই ভাই-বোন আব্দুল্যা আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাতের। তাদের জন্মের পর পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। ঠিক একইভাবে সোমবার সকালে একই সাথে দুই ভাই বোনের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকা জুড়ে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত আরাফ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র এবং মিফতাহুল আশরাফুল ইসলামের কন্যা।

নিহত দুই শিশুর স্বজনরা জানান, পরিবারের সকলের অত্যন্ত আদরের ছির দুই শিশু। বয়স সবেমাত্র দুই বছর। দুই পরিবারের নয়নের মজী ছিল তারা। সব সময় তারা একই সাথে খেলাধুলা করত। প্রতিদিনের মতো তারা এক সাথে খেলতে গিয়ে সকলের অলক্ষ্যে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে যায় তারা। পরে খোঁজাখোঁজি করতে গিয়ে ডোবার পানি থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা।

রবিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পেরাছড়াস্থ ধর্মপুর আর্য বনবিহারসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা ধর্মীয় আচার ও পুণ্যানুষ্ঠান। বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্ট উপাচার দান ও হাজার প্রদীপ দানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

প্রবারণা পূর্ণিমার পুণ্যানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উপাসক আকাশী চাকমা বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আমরা সকাল থেকে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদানসহ নানা ধরনের দান করে থাকি। পাশাপাশি জগতের সকল প্রাণীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি।’

ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের প্রবারণা পূর্ণিমার উপলক্ষে ধর্মসভা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ম্রাসা থোয়াই মারমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের সদস্য রিপল চাকমা।

এসময় অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভদ্দজী মহাস্থবির প্রধান ধর্মদেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা করেন শ্রীমৎ দীপানন্দ স্থবিরসহ আরও অনেকে।

ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের সাধারণ সম্পাদক পূর্ণেন্দু বিকাশ দেওয়ান বলেন,ভান্তেদের দীর্ঘ তিন মাস বর্ষাবাসের পর প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে বর্ষাবাস শেষ হয়। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আমরা অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য বুদ্ধের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। এ প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে বিভিন্ন বিহারে এক মাসব্যাপী অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হবে।

×