| ৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে দর্শনীয় স্থানগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নাম ! 

থানচিতে দর্শনীয় স্থানগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নাম ! 

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পাহাড়, নদী, ঝিরিঝর্ণা আর বৈচিত্র্যময় নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বান্দরবানের থানচিতে পর্যটনের বিস্তার ঘটলেও উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে দর্শনীয় স্থানগুলোর ঐতিহ্যবাহী নাম ও ইতিহাস। প্রতিবছর প্রকৃতির টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক। তবে পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যাপ্ত নামফলক, তথ্য ও ইতিহাস সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক স্থান ধীরে ধীরে নতুন ও অনানুষ্ঠানিক নামে পরিচিত হয়ে উঠছে। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন নাম, লোককথা ও ইতিহাসের সাংস্কৃতিক পরিচয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পর্যটনখ্যাত স্থানের ঐতিহ্যবাহী নাম ও নামকরণের ইতিহাস সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেই। নেই কোথাও নামফলক, কোথাও থাকলেও স্থানটির নামের উৎপত্তি বা ইতিহাসের কোনো তথ্য নেই। ফলে পর্যটকেরা স্থানগুলোর প্রকৃত পরিচয় না জেনেই ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐতিহ্যের নামটির বাংলার অনুবাদ করে নতুন কোনো নাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেটিই অনেক সময় প্রচলিত হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী নামগুলো বাংলায় অনুবাদ ও নতুন নামে পরিচিত করতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নাম ও পরিচয়। তারমধ্যে ক্রাউ মক্যাহ্ টং বদলে হয়েছে ডিম পাহাড়, ঙাহ্ফাখুং থেকে নাফাখুম, বংড আস্বাং ক্যহলুং থেকে রাজাপাথর এবং ক্যাহপাজ্জা: থেকে বাঘের মুখ—এমন নামকরণে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পর্যটনখ্যাত পর্যটনসহ বিভিন্ন স্থান ঘিরে রয়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের স্মৃতি, লোককথা ও ইতিহাস। কিন্তু এসব স্থানের নামের উৎপত্তি, স্থানীয় তাৎপর্য কিংবা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে পর্যটনকেন্দ্রের পরিচিতি বাড়লেও হারিয়ে যাচ্ছে সেসব স্থানের নিজস্ব ঐতিহ্যের নাম!

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি পর্যটনকেন্দ্রের পরিচয় শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানটির নাম, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ তথ্যভিত্তিক সাইনবোর্ড ও নির্ভরযোগ্য পরিচিতি না থাকায় পর্যটকেরা এসব বিষয়ে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুমংপ্রু মারমা, মালিরাম ত্রিপুরা ও মংছোহ্রী মারমাসহ অনেকেই জানান, পাহাড়, ঝিরিঝর্ণা ও পর্যটন স্পটগুলোর অনেক নাম পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই প্রচলিত। এসব নামের সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে সেসব ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ না থাকায় একসময় ঐতিহ্যবাহী নামগুলো হারিয়ে যেতে পারে।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) বলেন, পর্যটন স্পটগুলোর ঐতিহ্যবাহী নাম ও স্থানীয় সংস্কৃতি সাইনবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরে সংরক্ষণ করা গেলে পর্যটকদের কাছে এসব স্থানের সঠিক পরিচিতি ও ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব হবে।

পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েসের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়ক সাচিনু মারমা বলেন, পাহাড়ের পর্যটন স্পটের নাম, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। নাম পরিবর্তন বা বিকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব পর্যটন স্পটগুলোর ঐতিহ্যবাহী নাম সংরক্ষণ ও নামকরণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানের দর্শনীয় নাম উল্লেখ করে ছোটআকারে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নাম সংরক্ষণে বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, থানচির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটন স্পটে স্থায়ী নামফলক স্থাপনের পাশাপাশি নামের উৎপত্তি, ইতিহাস, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বাংলা এবং ইংরেজিতে তুলে ধরা জরুরি। এতে পর্যটকেরা যেমন স্থানগুলোর প্রকৃত পরিচয় জানতে পারবেন, তেমনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্য এবং ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকবে।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী পকেট থেকে ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ

থানচিতে দর্শনীয় স্থানগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নাম ! 

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক মোটরসাইকেল আরোহী পকেট থেকে ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের গভামারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা ঐ মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়ে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দ্রুত মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর পকেট তল্লাশি করে ৯৫০ পিস ই’য়াবা জব্দ করেছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আহত ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ। তার নাম মো: এনামুল হক (৪৫), পিতা মো. রাজা মিয়া। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার উত্তর কুলগাঁও এলাকায়।

মানিকছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ রাশেদ খান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মহিমাগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি ও আর্থিক সাক্ষরতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

থানচিতে দর্শনীয় স্থানগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নাম ! 

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

দেশের শীর্ষ স্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক আইএফআইসি’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে গ্রাহকদের নিয়ে আর্থিক সাক্ষরতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যাংকের মহিমাগঞ্জ উপ শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মহিমাগঞ্জ উপ শাখার অফিসার ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ, ট্রানজেকশন অফিসার তৌহিদুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত আমানতকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নূর মোস্তাফিজুর রহমান পান্না, চঞ্চল রায়, শরিফুল ইসলাম, আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রমুখ। বক্তারা আইএফআইসি ব্যাংকের গ্রাহক সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামীতে এই ব্যাংক আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সাজেকে দক্ষতা উন্নয়নে সেনা জোনের উদ্যোগ, প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নগদ অর্থ প্রদান

থানচিতে দর্শনীয় স্থানগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নাম ! 

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক এলাকায় দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেনা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে আজ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ৩০ জন কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র এবং ৩২ জন সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ তারেকুল ইমরান, পিএসসি, টু-আই-সি মেজর মোঃ সালমান সিদ্দিক, পিএসসি, এ্যাডজুটেন্ট লে. মোঃ জোবায়ের আল মাহমুদ, ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জোন কমান্ডার বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। দুর্গম এলাকার মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সেনা জোন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

×