| ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় পুজা মণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলা

দীঘিনালায় পুজা মণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

শারদীয় দুর্গোৎসবের সপ্তমীতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। শনিবার ১৭ অক্টোবর দিঘীনালা বোয়ালখালি নারায়ন মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছেন পাহাড়ি ও বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ।

সপ্তমীর সকালে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম ঘটে। অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে এসে দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

দীঘিনালার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চলছে শুভেচ্ছা বিনিময়। পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব পেয়েছে সর্বজনীন উৎসবের রূপ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সম্প্রীতির এক সুন্দর বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। কেউ প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত, কেউ আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্ত ভাগাভাগি করছেন। সব মিলিয়ে সপ্তমীর দিনে দীঘিনালার পূজামণ্ডপগুলো হয়ে উঠেছে মিলনমেলা।

বোয়ালখালি পুজা উদযাপন কমিটির আহব্বায়ক সুজন দাসের প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলো। ধর্মীয় আনন্দের পাশাপাশি এই উৎসব পাহাড়ি-বাঙালি সবার মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

এদিকে সনাতন ধর্মালম্বীরা যাহাতে নিরবিঘ্নে পুজা পালন করতে উপজেলার ৯ টি পুজা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছে দিঘীনালা থানার ওসি মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী।

বাঘাইছড়িতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান দিলেন ইউএনও আমেনা মারজান

দীঘিনালায় পুজা মণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলা

 

‎আনোয়ার হোসেন, ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুরছড়ি বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব মন্দিরের দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। ‎

‎রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় তিনি মন্দিরের দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং পূজা উদযাপনের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। ‎ ‎

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বিল্টু চাকমা, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদার, খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুপেল বিকাশ চাকমা। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। ‎ ‎

এ সময় দুর্গাপূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। ‎ ‎

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদানকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত ৭ পর্যটক

দীঘিনালায় পুজা মণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলা

 

আনোয়ার হোসেন, 
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে সাত পর্যটক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

‎‎রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সিজকছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।‎‎

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত পর্যটকেরা মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা গতকাল ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে সাজেক ভ্রমণে আসেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদের গাড়িতে করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে সিজকছড়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।‎‎ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাঘাইহাট জোনের (১৪ ইবি) অধীন সাজেক টিওবি থেকে ট্যুরিস্ট এসকর্ট টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাঁদের অন্য একটি চাঁদের গাড়িতে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‎‎দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আজাহার মিয়া (৬০) ও শাহানারা আক্তার (৪৫)। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরিফুর রহমান (৩৫), সোহরাব, নাসরিন (৩৫), মো. শাহজাহান (৪৫) ও আশা (১৩)। আহত সবাই মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।‎‎

এদিকে, দুর্ঘটনার পর গাড়ি চালক সুখ কান্তি চাকমা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।‎

দীঘিনালায় বৌদ্ধ মন্দিরে টিন দিল দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন

দীঘিনালায় পুজা মণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়নের কাটারংছড়া বৌদ্ধ মন্দিরে টিন প্রদান করেছে দীঘিনালা সেনাবাহিনীর জোন। বরিবার ১৮ অক্টোবর সকালে দিঘীনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল- আমিন পিএসসি নির্দেশনায় জোনের আরএমও তত্বাবধানে বিহার উন্নয়নের জন্য ডেউটিন ও স্হানীয় পাহাড়িদের চিকিৎসাসেবা প্রধান করা হয়।

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্হানীয় এলাকাবাসিরা। টিন বিতরণ অনুষ্টানে কাটারংছড়া বৌদ্ধ মন্দিরের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র চাকমা বলেছেন, বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়ন ও সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর অবদান আমরা কখনো ভুলতে পারব না। সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছে। তাদের এই আন্তরিকতা ও অবদান বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জয় বৈদ্য ভিক্ষু সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

×