শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২
শিরোনাম:

বম জনগোষ্ঠীর পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানালেন হেডম্যান রিনলম বম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ পিএম
28 বার পড়া হয়েছে
বম জনগোষ্ঠীর পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানালেন হেডম্যান রিনলম বম

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

অতি দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন এলাকা হতে এবারে সর্ব প্রথম জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন যমুনাছড়ি পাড়ার বম জানগোষ্ঠীর রিনলম বম (পালম) হেডম্যান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লিখিত বার্তায় তিনি এই দাবি জানান। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহ- প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির। ১৯৯৯ সাল হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে বিএনপির উপজেলা যুবদলের সদস্য। ২০০২ ইং সনে ফারুয়া ইউনিয়ন যুবদল গঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ফারুয়া ইউনিয়ন হেডম্যান – কার্বারী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ফারুয়া ইউনিয়ন একটি জনবহুল ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বসবাস। তঞ্চঙ্গ্যা, মার্মা, ত্রিপুরার পাশাপাশি রয়েছে অন্যান্য সম্প্রদায়ও। তবে সবচেয়ে অনুন্নত, অবহেলিত ও পিছিয়ে রয়েছে বম জনগোষ্ঠী। তিনি আরও জানান, বিলাইছড়ি উপজেলার এযাবৎ বম জনগোষ্ঠী হতে জেলা পরিষদ সদস্য পদে কাউকে প্রতিনিধি রাখা হয়নি। যার ফলে বম জনগোষ্ঠীসহ ইউনিয়নের সকল জনগোষ্ঠী অবহেলিত ও অনুন্নত রয়েছে। তাই আগামী নবগঠিত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নিজেকে একজন প্রার্থী হিসেবে মানোন্নয়ন পাওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর এ্যাড. দীপেন দেওয়ানের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

রুমায় খাদ্য শস্য বরাদ্ধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
বম জনগোষ্ঠীর পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানালেন হেডম্যান রিনলম বম

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দরবান :

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বরাদ্দ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তদারকির ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে বরাদ্দ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, জীবন-জীবিকা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ ও দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চলতি অর্থবছরে বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় রুমা উপজেলার জন্য মোট ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে মহিলা মেম্বারদের নামে ৪০ মেট্রিক টন এবং তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নামে ৬০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বান্দরবান জেলা পরিষদে তথ্যের সূত্র জানায়, ডিউ সব দেওয়া হয়ে গেছে চেয়ারম্যান ও মহিলা মেম্বার সহ মিলে ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের একটি অংশ থেকে ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য অংমেসিং মারমা, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ভান নুন এং বম, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য উম্রানু মারমা এবং ৪নং গালেঙ্গা ইউনিয়নের মহিলা সদস্য পাইংপিয় ম্রো প্রত্যেকে ১০ মেট্রিক টন করে বরাদ্দ পান। চারজন মিলে মোট ৪০ মেট্রিক টন এবং উপজেলা তিন চেয়ারম্যান ৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ গ্রহণ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সঠিকভাবে বিতরণের প্রমাণ মিলছে না। উপকারভোগীর তালিকা ও বিতরণের ছবি চাইলেও তা দেখানো হয়নি বলে দাবি তাদের।

পাইন্দু ইউনিয়নের মহিলা সদস্য অংমেসিং মারমা বলেন, “আমরা বরাদ্দ পেয়েছি, তবে পুরো চাল একসঙ্গে হাতে পাইনি। ধাপে ধাপে বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রকল্প নিয়ে আমরা নানা জটিলতায় আছি। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আরও টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে।

মহিলা সদস্য ভান নুন এং বম বলেন, প্রথম ধাপে বরাদ্দের টাকা আমরা পাইনি, চেয়ারম্যান নিজেই উত্তোলন করেছেন। দ্বিতীয় ধাপে আমরা মহিলা মেম্বাররা মিলে জেলা পরিষদ থেকে চেয়ারম্যানের অজান্তে টাকা উত্তোলন করি। বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যান আমাদের নানাভাবে হয়রানি করেন। প্রথম ধাপের টাকা নিয়ে আমরা শিগগিরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।

পাইন্দু ইউনিয়নের মহিলা সদস্য উম্রানু মারমার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গালেঙ্গা ইউনিয়নের মহিলা সদস্য পাইংপিয় ম্রোর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে চিংওয়াই ম্রো জানান, এমন কোনো বিতরণের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মা এখন একটি অনুষ্ঠানে আছেন। ফ্রি হলে তাকে বিষয়টি জানাবো।

অন্যদিকে বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় পৃথক বরাদ্দ থেকে তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ২০ মেট্রিক টন করে মোট ৬০ মেট্রিক টন চাল পান।

১নং পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা কৃষি সামগ্রী বিতরণ ও দুগ্ধজাত গাভী পালনের প্রকল্পের নামে ২০ মেট্রিক টন বরাদ্দ পান। তবে সরেজমিনে গিয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, “কৃষি সামগ্রী ও গাভী পালনের প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধাপে ধাপে বিতরণ করা হচ্ছে। ৩নং রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিরা বম একই প্রকল্পের আওতায় ২০ মেট্রিক টন বরাদ্দ পান। সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিতরণের ছবি বা উপকারভোগীর তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জিরা বম অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জেলা পরিষদ এই প্রকল্প থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ কেটে নিয়েছে। প্রতি টনে ৪০ হাজার টাকা হিসেবে পাওয়ার কথা থাকলেও সম্পূর্ণ অর্থ পাইনি। ২০ মেট্রিক টনে প্রায় ৮ লাখ টাকা পাওয়ার কথা, সেটিও পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। বরাদ্দের অর্থ সংকোচনের কারণে বাস্তবায়নে জটিলতা হয়েছে। তবে থাংখ্যং পাড়া ও সুংসং পাড়ায় গরু-ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।

রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা বলেন,বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে।”

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাংজামা লুসাই তিনি জানান, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বিশেষ প্রকল্প বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। আমরা খাদ্যশস্য প্রকল্প সভাপতিদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন তারাই ভালো-মন্দ বলতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের অফিসে ইঞ্জিনিয়ার উসাই মং মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দকৃত প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রকৃত দুঃস্থ ও গরিব পরিবার যাতে প্রাপ্য সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে চাকমা জনগোষ্ঠীর পক্ষে মানোন্নয়ন দাবি জানিয়েছেন শান্তি রায় চাকমা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম
বম জনগোষ্ঠীর পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানালেন হেডম্যান রিনলম বম

  

সুজন  কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েন শান্তি রায় চাকমা (রায় বাবু)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমকে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বিলাইছড়ি সদরের বাসিন্দা এবং উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজীবন বিএনপির পতাকা তলে কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি। সবসময় জনসেবায়  নিয়োজিত ছিলাম এবং থাকবো। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। আগামীতে নবগঠিত জেলা পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে সবার দোয়া কামনা করছি সবার প্রিয় হয়ে। আর্তমানবতার সেবায় এবং সামাজিক উন্নয়নে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আমাকে এটা শেখায়। এক আধুনিক ও বৈষম্যহীন উপজেলা গড়তে এবং সদস্য পদ পেতে মাননীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড. দীপেন দেওয়ানের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএস গ্রুপের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
বম জনগোষ্ঠীর পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মানোন্নয়নের দাবি জানালেন হেডম্যান রিনলম বম

 

বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দূর্গম ভুয়াছড়ি এলাকায় মিতিঙ্গাছড়ি পাড়ায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জুম্ম লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)-র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেড় ঘন্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৪ ঘটিকা থেকে সাড়ে ৫ ঘটিকা পর্যন্ত টানা বন্দুক যুদ্ধ চলে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাসালং বাজার থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকার ওপরে মিতিংগাছড়ি নামক স্থানে এ গোলাগুলি শুরু হয় । ঘন্টাব্যাপী চলা এই বন্দুক যুদ্ধে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলাগুলির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় একই সময়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গুলাগুলি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে আঞ্চলিক সংগঠন এর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা  হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সাজেক থানার সার্কেল অফিসার ও রাঙ্গামাটির সহকারী পুলিশ সুপার মো: মাহামুদুল হাছান বন্দুক যুদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হতাহতের বিষয়ে কোন তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

×