রাঙামাটিতে লেপ্রসি মিশনের উদ্যোগে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে অ্যাডভোকেসি সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি :
রাঙামাটিতে লেপ্রসি মিশনের উদ্যোগে ধর্মীয় গুরু ও নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কুষ্ঠরোগ নির্মূলীকরণ বিষয় অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গল (২৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে রাঙামাটি শহরের স্থানীয় একটি হোটেল এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুৎফুন্নেছা বেগম। সভায় রাঙামাটির বিভিন্ন মসজিদ, প্যাগোডা, মন্দির, গীর্জা ও চার্চের পুরোহিতরা অংশ নেন।
অ্যাডভোকেসি সভায় পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে কুষ্ঠরোগের বিস্তার, চিকিৎসা, লেপ্রসি মিশনের কর্মসুচি সম্পর্কে তুলে ধরেন লেপ্রসি মিশনের চীফ প্রজেক্ট ম্যানেজার পরশ চাকমা ও মেডিকেল অফিসার ডা. জীবক চাকমা।
উন্নয়ন সংস্থা আলোর ফ্যাসিলিটেটর শাক্য সিংহ চাকমার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ইকবাল বাহার চৌধুরী, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশের বর্ষীয়ান ভিক্ষু শুভদর্শী মহাথেরো, শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দিরের পুরোহিত রনবীর চক্রবর্তী, চন্দ্রঘোনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পাস্তর স্টিফেন মিত্র প্রমুখ।
লেপ্রসি মিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে সমন্বয় রেখে লেপ্রসি মিশন বিনামূল্যে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা রেখেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগ নির্মুলের লক্ষ্যে লেপ্রসি মিশন কাজ করছে। ধর্মীয় গুরুদের মাধ্যমে কুষ্ঠরোগ বিষয়ে প্রচারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করা রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে। কুষ্ঠরোগ নিয়ে সমাজে অনেক কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
সভায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদেরকে অবস্থান থেকে কুষ্ঠরোগ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। দুর্গম এলাকার রোগীরা যাতে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সে বিষয়ে সকলকে সহযোগিতা দিতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও ভুমিকা রাখতে হবে। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত মানুষ যাতে হতাশায় না ভোগে দুশ্চিন্তায় না থাকে সেদিকটা গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। কুষ্ঠরোগ বংশগত রোগ নয়। অভিশাপের কারণেও এ রোগ হয় না। এ বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
লেপ্রসি মিশনের কর্মকর্তারা বলেন কুষ্ঠরোগ নিয়ে যেহেতু সমাজে ভুল ধারণা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে তাই সে বিষয়েও লোকজনকে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি রোগীদের গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে যত্ন নেয়া হয়।













