| ২২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিলের পানি থেকে স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিলের পানি থেকে স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর শাম্মী আক্তার নামে ১২ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় (নামা চরপাড়া) গ্রামের শহিদুর রহমানের মেয়ে পুনতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী শাম্মী আক্তার গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে অন্য ছেলে-মেয়েদের সাথে ছাগল চড়াতে বাড়ির অদূরে মাঠে যায়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও অন্য সব ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে ফিরে এলেও শাম্মী বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। রাত ৮টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে ওই রাতে শাম্মীর বাবা গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। এরই এক পর্যায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বাড়ির পাশ্ববর্তী বিলের পানিতে মানুষের মতো কি যেন একটা ভেসে ওঠা দেখে এক ব্যক্তি হৈচৈ শুরু করলে আশপাশের অসংখ্য মানুষ সেখানে এসে ভিড় করে। পরে পানি থেকে মরদেহটি তোলার পর সেটি শাম্মীর বলে সনাক্ত করে তার বাবা-মা। বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিখোঁজ হওয়ার ২দিন পর বিলের পানি থেকে স্কুল ছাত্রী শাম্মীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েস বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে হাবীব আজম- সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান

গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিলের পানি থেকে স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এক মহাসমারোহ। এই উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবীব আজম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)২৬ খ্রিঃ সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিবেশ, পূজার আয়োজন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজার আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলোর মধ্যে ছিল রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় তবলছড়ি বাজার শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির, রিজার্ভ বাজার শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির, তবলছড়ি স্বর্ণটিলা শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, বনরূপা কাঠালতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মাতৃমন্দির, আসামবস্তি শ্রী শ্রী শীতলা মন্দির এবং বনরূপা হ্যাপির মোড় জগদ্ধাত্রী মাতৃমন্দিরসহ শহরের আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ও শিক্ষক অরূপ কুমার মুৎসুদ্দী, ওয়ার্ল্ড পীস্ এন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটি রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ন সম্পাদক নজরুল ইসলাম চাঁন মিঞা, পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, জেলা শাখার ছাত্রনেতা মো. অন্তর, দীপ দাশ ও সাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীপ্ত বড়ুয়া, মোহাম্মদ রবি হোসেন ও মোহাম্মদ শাকিলসহ অন্যান্যরা।

পরিদর্শনকালে হাবীব আজম বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে মিলেমিশে উৎসব উদ্‌যাপন করতে হবে। রাঙ্গামাটির দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, সে জন্য সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার বাহিনীর টহল দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সদর উপজেলার দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা বিজয়া দশমীর দিন কাপ্তাই হ্রদে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এদিন শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে এসে কাপ্তাই হ্রদে বিসর্জন দেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম

বিলাইছড়িতে রাইংখ্যং নদীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা

গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিলের পানি থেকে স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়িতে বর্ণাঢ্য নৌ র‍্যালি ও রাইংখ্যং নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার একটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা রাইংখ্যং নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ঢাকঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও শত শত ভক্তের জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীর। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে নদীর তীরে ভিড় করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানান তাঁরা।

দুর্গোৎসবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে মিলেমিশে অংশগ্রহণ করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির বন্ধনে বিলাইছড়িতেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করেন।

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি সৈকত দাশ রুবেলের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কেরণছড়ি, কেংড়াছড়ি, আমতলী, কুতুবদিয়া ও ধূপ্যাচরসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

মায়ের বিদায়লগ্নে বিষাদের ছায়া: কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন ও দুর্গোৎসব সম্পন্ন

গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিলের পানি থেকে স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

“আসিছে বছর আবার ফিরে…” মায়ের চরণে এই আকুতি আর বুকভাঙ্গা কান্নার রোল নিয়েই শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দশমী পূজার বিহিত পূজা, অঞ্জলি নিবেদন আর বিজয়ার সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠার পর বিষাদের সুর বাজলো রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় জানাতে কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ঘাটে উপচে পড়েছিল ভক্তদের হাজারো মানুষের ঢল। আনন্দ আর বেদনার এক অপূর্ব মিতালীতে পূর্ণ হলো এবারের বিজয়া।

এ বছর কাপ্তাইয়ের ৯টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শুভক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও, প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেই শুরু হয় এই আবেগঘন পর্ব। যা প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মা দুর্গাকে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার এই বিদায়লগ্নে ভক্তদের চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত। তবুও আগামী বছরের প্রত্যাশায় নদীর তীরে ধ্বনিত হয়েছে উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্য।

উৎসবমুখর ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাপ্তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এবং নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের নিরলস তৎপরতায় পুরো বিসর্জন প্রক্রিয়াটি নিরাপদে সম্পন্ন হয়।

​বিসর্জনের এই আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তকে আরও বর্ণিল করতে কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে কর্ণফুলী নদীতে আয়োজন করা হয় এক জমকালো ‘বিজয়া নৌ র‍্যালী-২০২৬’। শত শত ভক্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ে ঢাকঢোল, কাঁসর ও খঞ্জরার তালে তালে নেচে-গেয়ে মেতে ওঠেন অনাবিল আনন্দে। কর্ণফুলীর নদীজল ছুঁয়ে যাওয়া সেই উল্লাস, পন্টুন ও ফেরিঘাট এলাকার চারপাশ মুখরিত করে তোলে এক অন্যরকম উৎসবের আমেজে।

বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণের মাধ্যমে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে আগামী শরতে আবার ফিরে আসার আকুল প্রার্থনা জানান।

এর আগে পূজা ও বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র দাশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন এবং রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য উথোয়াই মং মারমা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই আনন্দ ও বিষাদের ক্ষণে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

×