| ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

 

পানছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ৭.৬২ মিমি এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গত ১৬ অক্টোবর রাতে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির একটি নিয়মিত টহলদল এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে একটি টহলদল সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে রাতে টহল পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে কচুছড়িমুখ পাড়া এলাকায় পৌঁছালে টহলদলের সদস্যরা প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে কয়েকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখতে পান।

পরে কৌশলগতভাবে সামনে অগ্রসর হলে সীমান্তসংলগ্ন পাহাড় থেকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলকে সীমান্ত সড়কে নেমে আসতে দেখা যায়। এ সময় বিজিবির টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে থামতে বললে তারা পালানোর চেষ্টা করে। টহলদল ধাওয়া করলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সীমান্ত সড়ক থেকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৭.৬২ মিমি এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পানছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা)-এর দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রামগড়ে দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা ও সীমান্তে মাদক-চোরাচালান রোধে ৪৩ বিজিবির সভা

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড়।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, জুয়া ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৩ ব্যাটালিয়ন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, ৪৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) মো. শামছুল আলম, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম, রামগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু।

এ ছাড়া বিভিন্ন দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় চলমান শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনে নিরাপত্তাব্যবস্থা, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, জুয়া বন্ধ এবং চাঁদাবাজি রোধসহ স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম সভায় বলেন রামগড়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকার রয়েছে, অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।।

বাঙ্গালহালিয়া যুব সমাজ উদ্যোগের মারমা ওয়াগ্যাই উপলক্ষে এক প্রীতি ফুটবল খেলা উদ্বোধন 

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বিহার পরিচালনা যুব সমাজ উদ্যােগের  মারমাদের ওয়াগ্যাই উপলক্ষে এক প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯ অক্টোবর রোজ রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকায় বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণের উদ্বোধন খেলা কাকড়াছড়ি পাড়া বিহার যুবক দল বনাম হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার বিবাহিত দল অংশগ্রহণ করেন।

শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, সমাজ সেবক বিএনপি নেতা সাচিং মারমা ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজা হেডম্যান প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক সসাজ সেবক ও আন্তজার্তিক মানবাধিকার এম্বাসেডর চাইথোয়াইমং মারমা, হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে পরিচালনা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যচিং মারমা, কাড়ড়াছড়ি পাড়া প্রধান কার্বারী সুইক্যচিং মারমা, হেডম্যান পাড়া বিহার পরিচালনা কমিটি সম্পাদক মংসাথোয়াই মারমা, চাইল্ড কেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠাতা সানুমং মারমা, ওয়াগ্যাই ফুটবল খেলা পরিচালনা কমিটি আহবায়ক সুইচিংমং মারমা, আরো উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা সমাজ ত্রাণ কমিটি এমপি মনোনীত প্রতিনিধি জিকু কুমার দে, যুবদল আহবায়ক শামীম রুবেল ৬নং ওর্য়াড সদস্য শিমুল সহ এলাকায় যুবক পাড়া প্রধানগণ শিক্ষানুরাগী সমাজ সেবক  প্রবীন ক্রীড়া প্রেমিক মংঞো মারমা প্রমূখ।

উক্ত মারমাদের ওয়াগ্যাই ফুটবল খেলা পরিচালনা সঞ্চলনায় ছিলেন মো: মাসুম ও সুমন বড়ুয়া। প্রতিবছর ন্যায় মারমাদের ওয়াগ্যাই উপলক্ষে বৌদ্ধ বিহার পাড়া ভিত্তিক ফুটবল খেলা আয়োজন করা হয়। এবারে পুরো ইউনিয়নের যুবদল সহ বিবাহিত দল মোট ৮টি অংশগ্রহণ করবে বলে আহবায়ক সুইচিংমং মারমা গণমাধ্যম কে জানান।

এ ফুটবল খেলা আয়োজন মানে পাড়া বৌদ্ধ বিহারে পরিচালনা কমিটি যুবক ও বিবাহিত একটি সুন্দর পরিবেশের সম্প্রীতি খেলা হিসাবে মনে করে। সমাজের তরুন প্রজন্মের সমাজে লেখাপড়া পাশাপাশি খেলাধুলা মন মানসিক জাগ্রত সচেতন ও উদ্ভূত করা জন্য বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি যৌথ পাড়া ভিত্তিক তরুন যুব সমাজ আয়োজন করেছে।

মারমাদের রীতিনীতি অনুসারে ৩ মাস বর্ষবাস বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা সাধুমা উপাসক উপাসিকা শ্রমণ ভিক্ষুগণ মাছ মাংস বিরত থাকে এবং ৩ মাস শেষ বর্ষবাসের পর ওয়াগ্যাই নামে পরিচিত লাভ করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দর শৃঙ্খলা পরিবেশের বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি কর্তৃক ফুটবল খেলা আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতার প্রদান করে থাকে।

আজকের উদ্বোধন খেলায় হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার পাড়া বিবাহিত দল বনাম কাকড়াছড়ি পাড়া যুব ৩ গোল বিজয়ী হন। প্রতিদিন বাকি ৬টি দল পযার্য়েরক্রমের সূচীনুযায়ী বিকাল ৪ ঘটিকায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ তারিখে ওয়াগ্যাই উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল খেলা শেষ এবং ফাইনাল খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে বলে খেলা পরিচালনায় কমিটি আহবায়ক সুইচিংমং জানান।

বাঘাইছড়িতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান দিলেন ইউএনও আমেনা মারজান

পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

 

‎আনোয়ার হোসেন, ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুরছড়ি বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব মন্দিরের দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। ‎

‎রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় তিনি মন্দিরের দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং পূজা উদযাপনের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। ‎ ‎

মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বিল্টু চাকমা, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদার, খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুপেল বিকাশ চাকমা। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। ‎ ‎

এ সময় দুর্গাপূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। ‎ ‎

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদানকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

×