| ১২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

ফারুয়ায় ২৫০ ফুটের বেইলি ব্রিজ নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপি সভাপতি সালাম ফকির

ফারুয়ায় ২৫০ ফুটের বেইলি ব্রিজ নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপি সভাপতি সালাম ফকির

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়াছড়া যাওয়ার মাঝামাঝি ডেবাছড়া এলাকায় একটি ২৫০ ফুট দীর্ঘ বেইলি ব্রিজ/ স্থায়ী স্টীল ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বদলে যেতে পারে পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি স্থায়ী বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ তক্তানালা থেকে সীমান্ত সড়ক হয়ে রোয়াপাড়াছড়া যাওয়ার পথে ডেবাছড়া এলাকায় স্থানীয় পাড়াবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঠের ব্রিজটি ভেঙে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজের বিভিন্ন স্থানের কাঠের তক্তা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি জমে জলাশয়ের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা কাঠের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যেকোনো সময় ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষক ভুবনজয় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষের ধানখেত ও বাগান ব্রিজের দুই পাশে অবস্থিত। কিন্তু এ বছর ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে যেতে পারে। বিকল্প কোনো পথও নেই। ব্রিজের মাঝখানের অনেক তক্তা নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষিপণ্যসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করতে না পারলে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন। স্থানীয় আরও কয়েকজন পথচারীও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ভারতচন্দ্র কার্বারী জানান, কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এখানে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কাঠের ব্রিজ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় প্রতিবছর পাড়াবাসী পরিবারপ্রতি চাঁদা তুলে গাছ ও তক্তা কিনে সেটি মেরামত করে আসছেন। এতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। কিন্তু এ বছর পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় অনেকের ধানখেত, বাগান ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আর্থিক সংকটের কারণে কেউ কেউ টাকা দিতে পারলেও অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এই কাঠের ব্রিজ দিয়েই এলাকার মানুষ কৃষিপণ্য মূল সড়কে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাজস্থলী হয়ে শহরে এসব পণ্য পরিবহন করা হয়। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে কলা, ফরাস শিম, বাদাম, আদা, হলুদ ও ঝাড়ুফুলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এসব পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। এ ছাড়া অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদেরও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন শতাধিক পরিবারে হাজার মানুষ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ব্রিজটি তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়াছড়া যাওয়ার পথে অবস্থিত হলেও ফুঁছড়া, উলুছড়ি, মাইত কুমা পাড়া ও উত্তর পাড়ার বাসিন্দারাও নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন। কোনো কোনো সময় ওরাছড়ি ও ফারুয়া এলাকার মানুষও এ পথে চলাচল করেন। সব মিলিয়ে পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বেড়ে ব্রিজের নিচের অংশ অনেকটা দীঘির মতো হয়ে যায়। এতে পারাপারের স্থানে পানির গভীরতাও বেড়ে যায়। ব্রিজ ভেঙে কেউ পানিতে পড়ে গেলে এবং সাঁতার না জানলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক কিলোমিটার পথ শ্রমিক দিয়ে মালামাল পরিবহন করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় এখানে একটি স্টিল বা বেইলি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি। মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা আরও বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে সরাসরি যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সংযোগ সড়কেরও বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে পাকা করা হয়েছে। ফলে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মিত হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও ব্যাপক সুবিধা হবে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল চেয়ারম্যান বলেন, এই স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং একাধিকবার মেরামতও করা হয়েছে। শুধু পাড়াবাসীই ব্রিজটি মেরামত করেন—এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে স্থানটি দীর্ঘ হওয়ায় এখানে পাকা বা স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ ব্যয়বহুল। কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। স্থায়ীভাবে একটি পাকা বা স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করা গেলে এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, ওই স্থানে পাকা বা স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করা গেলে সীমান্ত সড়কের রোয়াপাড়াছড়া থেকে দক্ষিণ তক্তানালা পাড়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও সহজ হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরহাদ হোসেন জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ ফুট পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু ডেবাছড়া এলাকায় প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজ প্রয়োজন। তাই অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমেও স্টিল ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ জানান, প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ একটি নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে এবং আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। তবে স্থানীয়ভাবে কাঠের ব্রিজটি মেরামত করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

গোবিন্দগঞ্জে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার লুইস মুরমু মারা গেছে

ফারুয়ায় ২৫০ ফুটের বেইলি ব্রিজ নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপি সভাপতি সালাম ফকির

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া লুইস মুরমু (৬৩) মারা গেছেন।
রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কামদিয়া সড়কের শালপাড়া এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় লুইস মুরমুকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায়। লুইস মুরমু রাজাহার ইউপির রাজাবিরাট এলাকার মৃত সুরুজ মুরমুর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে পথচারীরা লুইসকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিএনজিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়। বগুড়া নেয়ার পথে মোকামতলা এলাকায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, লুইস মুরমুর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার জ্ঞান না ফেরায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়।

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

ফারুয়ায় ২৫০ ফুটের বেইলি ব্রিজ নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপি সভাপতি সালাম ফকির

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কাপ্তাইয়ের কিন্নরী হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত টেলিকনফারেন্স শেষে এই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা তথ্য সহকারী কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রায়হানুল ইসলাম। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান এবং কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রুইহলা অং মারমা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ পাইলটিং উদ্বোধনের পর সফলভাবে পাইলটিং সম্পন্ন করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২,৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে প্রদান করা হবে। ১২ অক্টোবর থেকে ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর পিএমটি পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবারকে ৫টি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান কার্ড পেলেও ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্তরা ভাতা পাবেন।

আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৪.৪৫ কোটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে ভাতা দেওয়া হবে এবং আগামী ৩ বছরে সকল যোগ্যদের আওতায় আনা হবে।

Dual Chip, QR Code ও NFC সুবিধা সম্বলিত এই কার্ড ‘TakaPay’ স্কিমের সাথে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে এটিএম, পিওএস ও এমএফএস থেকে সহজে ভাতার টাকা উত্তোলন করা যাবে।

​সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

ফারুয়ায় ২৫০ ফুটের বেইলি ব্রিজ নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপি সভাপতি সালাম ফকির

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস কনফারেন্সে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এমপি, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এমপি, সচিব ড. আবু ইউছুফ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

এ সময় স্থানীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিল আল জান্নাত, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা কামরুন নাহার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটির ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সিমিটি টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন উপকারভোগীকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরে সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

×