জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রচারণা অনুষ্ঠিত
মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
পার্বত্য অঞ্চলে জীববৈচিত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিম্বুক ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজার সংলগ্ন দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বায়োডাইভারসিটি প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা রাম বাহাদুর (স্টিভ) ত্রিপুরা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেনয়াং ম্রো, সহকারী শিক্ষক ক্রংনিং ম্রো, স্থানীয় কারবারি মেনপুং ম্রো, সমাজনেতা সিংরাও ম্রো এবং সাংবাদিক মথি ত্রিপুরা। সঞ্চালনা করেন উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর কুলছুমা আক্তার।

এ কর্মসূচির আয়োজন করে বান্দরবান হিল ডিসট্রিক্ট কাউন্সিল, আর বাস্তবায়ন করছে Ecosystems Restoration and Resilient Development in the Chittagong Hill Tracts (ERRD-CHT) প্রকল্প—যা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MoCHTA) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর যৌথ উদ্যোগ।
ইউএনডিপির চলমান প্রকল্প ও পাহাড়ি এলাকায় উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে সভাপতি রামবাহাদুর (স্টিভ) ত্রিপুরা জানান, ইউএনডিপি বর্তমানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করছে—
১) স্কুল উন্নয়ন প্রোগ্রাম
২) সিঙ্গেল সেক্স টয়লেট ব্যবস্থা
৩) জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল উদ্যোগ
তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া টিভি, আসবাবপত্র, শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট নির্মাণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে দল গঠন, নতুন ফসল উৎপাদন পদ্ধতি, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্লাস্টিক দূষণ রোধে উপস্থিত সবাইকে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে মেনয়াং ম্রো বলেন, পানি, জুস বা চিপসের বোতল যত্রতত্র ফেলা যাবে না। এগুলো সহজে পচে না—ফলে মাটি, পানি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।
তিনি আরও জানান, এলাকার রাস্তা বা ঝিরিপথে দেখা প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নিরাপদভাবে ধ্বংস করার মতো উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।

সহকারী শিক্ষক ক্রংনিং ম্রো বলেন, বন-জঙ্গল ধ্বংস হলে ঝিরি-ছড়ার পানির প্রবাহ কমে যায় এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়। তাই গাছ রোপণ, বন রক্ষা এবং গুইসাপ, কচ্ছপসহ সবধরণের প্রাণীকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় যুব ও সমাজনেতা সিংরাও ম্রো মাতৃভাষায় গ্রামবাসীকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে বিশদভাবে অবহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়গুলো আরও সহজভাবে বোধগম্য হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পাহাড়ি জনপদের মানুষের মধ্যে প্রকৃতি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের মানসিকতা আরও দৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মেনয়াং ম্রো পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
















