| ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের থানচিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘ ১৩ মাস পর আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে রুমা ও থানচি উপজেলার আংশিক দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ জুন) ২০২৫ থেকে থানচির তুমা-তুঙ্গী ও তিন্দু পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবে। পর্যটক ভ্রমণে আংশিক পর্যটন স্পষ্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নির্দেশিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, শামীম আরা রিনি স্বাক্ষরিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমন্বয় সংক্রান্ত কোর কমিটির গত ০৩ জুন তারিখর সভার সিদ্ধান্ত ও সদর দপ্তর, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড, বান্দরবান সেনানিবাসের ০৫ জুন তারিখের ১৪০/৫৯/জিএস (ইন্ট) পত্রের আলোকে থানচি-রুমা উপজেলায় অদ্য ০৬ জুন তারিখ হতে পর্যটকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে।

 

আরো জানা গেছে, থানচিতে মদক অভিমুখে তিন্দুমুখ পর্যন্ত এবং বাকলাই পাড়া অভিমুখে তমাতঙ্গি পর্যন্ত। রুমায় বাজার হতে মুনলাই পাড়াসহ বগালেক পর্যন্ত ভ্রমণে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের নিবন্ধিত টুরিস্ট গাইড ব্যতীত ভ্রমণ করা যাবে না। পর্যটন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট চেকপোস্ট অথবা পর্যটক তথ্য সেবা কেন্দ্রে চাহিত তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় উপর্যুক্ত স্থান সমূহ ব্যতীত আর অন্য জায়গায় পর্যটকদের গমনাগমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ৩৮, বিজিবি ব্যাটালিয়ন বলিপাড়া জোনের অধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোঃ জহিরুল ইসলাম জি, আর্টিলারি বলেন, থানচিতে মদক অভিমুখে তিন্দুমুখ পর্যন্ত এবং বাকলাই পাড়া অভিমুখে তমাতঙ্গি পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে।

চন্দ্রঘোনায় অভিযানে একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত মাদক কারবারি মাসুম গ্রেপ্তার

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):

​রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুম তালুকদার ওরফে ছোট মাসুমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ।

​রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৩নং সফিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বাঙ্গালহালিয়ার সফিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এবং এলাকার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মাসুম তালুকদারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজস্থলী থানাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। ​

চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাকের আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার তাকে চন্দ্রঘোনা থানা ও রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে সুমন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বান্দরবান সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(খ) ও ১৫(১) অনুযায়ী এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সুমন কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে মাটি অপসারণ করছেন। ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকার এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ: চন্দ্রঘোনা থেকে বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক উদ্ধার, আদালতে সোপর্দ ১

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে পাল্পউড বন বিভাগ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ও রাইখালী এলাকা থেকে পাচার চক্রের হাত থেকে একটি বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির ‘হাঁসপা তক্ষক’ উদ্ধার করেছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বন্যপ্রাণীটি অবৈধভাবে আটকে রেখে পাচারচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং তিনছড়ি বিট কাম রাইখালী ডিপো কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দেওয়ানের নেতৃত্বে কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগ ও চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা অবস্থায় বিরল প্রজাতির তক্ষকটি উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে উদ্ধারকৃত তক্ষকটি রাইখালী রেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং বিট কর্মকর্তা ফিরোজ আল-আমিনের উপস্থিতিতে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণীটিকে রাইখালী রেঞ্জের অধীন গহীন অরণ্যের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে অবমুক্ত করেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই পাল্পউড বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যপ্রাণী আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের অমূল্য সম্পদ। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় যেকোনো বন্যপ্রাণী ধরা, কেনাবেচা বা পাচার করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক।

×