| ১৯ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের থানচিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘ ১৩ মাস পর আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে রুমা ও থানচি উপজেলার আংশিক দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণকারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ জুন) ২০২৫ থেকে থানচির তুমা-তুঙ্গী ও তিন্দু পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবে। পর্যটক ভ্রমণে আংশিক পর্যটন স্পষ্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নির্দেশিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, শামীম আরা রিনি স্বাক্ষরিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমন্বয় সংক্রান্ত কোর কমিটির গত ০৩ জুন তারিখর সভার সিদ্ধান্ত ও সদর দপ্তর, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড, বান্দরবান সেনানিবাসের ০৫ জুন তারিখের ১৪০/৫৯/জিএস (ইন্ট) পত্রের আলোকে থানচি-রুমা উপজেলায় অদ্য ০৬ জুন তারিখ হতে পর্যটকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে।

 

আরো জানা গেছে, থানচিতে মদক অভিমুখে তিন্দুমুখ পর্যন্ত এবং বাকলাই পাড়া অভিমুখে তমাতঙ্গি পর্যন্ত। রুমায় বাজার হতে মুনলাই পাড়াসহ বগালেক পর্যন্ত ভ্রমণে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের নিবন্ধিত টুরিস্ট গাইড ব্যতীত ভ্রমণ করা যাবে না। পর্যটন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট চেকপোস্ট অথবা পর্যটক তথ্য সেবা কেন্দ্রে চাহিত তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় উপর্যুক্ত স্থান সমূহ ব্যতীত আর অন্য জায়গায় পর্যটকদের গমনাগমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ৩৮, বিজিবি ব্যাটালিয়ন বলিপাড়া জোনের অধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোঃ জহিরুল ইসলাম জি, আর্টিলারি বলেন, থানচিতে মদক অভিমুখে তিন্দুমুখ পর্যন্ত এবং বাকলাই পাড়া অভিমুখে তমাতঙ্গি পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে।

এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার ওসি আফতাব প্রত্যাহার

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জব্দ করা এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (১৬ জুন)২৬ খ্রিঃ বিষয়’টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী।

সিএমপি কমিশনার জানান, ইয়াবা সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পুলিশ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আফতাবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে। তিনি আরও জানান, একই ঘটনায় বাকলিয়া থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেনকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে কিছু নতুন পদায়নও করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল। পরে অভিযোগ ওঠে, অভিযানের সময় কনস্টেবলের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জব্দ করা মাদকদ্রব্য সরিয়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান।

ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ সামনে আসার পর সিএমপি গঠিত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে পরে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্তে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ব্যাগ তল্লাশির ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কাপ্তাই সেনা জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য ময়লা অপসারণ অভিযান পরিচালিত কার্য্যক্রম

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙামাটির জেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ সৌন্দর্যময় সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং সকলকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে একটি বিশেষ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) কাপ্তাই জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানের আওতায় কাপ্তাই আর্মি ক্যাম্প এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ এবং আশপাশের জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ও অন্যান্য পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য সংগ্রহ ও ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। এ অভিযান চলাকালে সেনাসদস্যরা পরিবেশ সংরক্ষণে প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতনতামূলক করেন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ দূষণ হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী সপ্তাহে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকা, পিডিবি এলাকা এবং বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় অনুরূপ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে জানান।

ছবি ক্যাপশন : পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

নারীর প্রতি সহিংসতা রুখতে কাপ্তাইয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা

থানচিতে আংশিক এলাকায় পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম (সিসিএইচপি)-এর উদ্যোগে “নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে কাপ্তাই উপজেলাস্থ ‘কিন্নরী হল রুমে’ এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শেড বোর্ড এর সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।​

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রায়হানুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিএইচসি ও সিএলসি, কাপ্তাই-এর পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং, হিল ফ্লাওয়ার রাঙ্গামাটির প্রকল্প ফোকাল পারসন জেনিফার অজন্তা তনচংগ্যা-এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিলন চাকমা এবং কর্মশালায় মূল বিষয়বস্তুর ওপর তথ্যসমৃদ্ধ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স ম্যানেজার সনজিৎ তঞ্চঙ্গ্যা ও কমিউনিটি হেলথ ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর ধনমনি তঞ্চঙ্গ্যা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে  মোঃ রায়হানুল ইসলাম বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অধিকার রক্ষা এবং সুরক্ষায় এ ধরনের কর্মশালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” ​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো: আহসান হাবিব, সমাজ সেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, কাপ্তাই সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হোসেন। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, হেডম্যান, মেম্বার, কার্বারি (গ্রাম প্রধান), বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী এবং স্থানীয় নারী ও পুরুষ প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন। ​

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিয়ে রোধ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

×