সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে আওয়ামী সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ : বিএনপি নেতার ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
0 বার পড়া হয়েছে
কাপ্তাইয়ে আওয়ামী সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ : বিএনপি নেতার ক্ষোভ

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও দালাল ঠিকাদারদের এখনো বিভিন্ন ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেওয়ার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে সম্প্রতি অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন রাঙ্গামাটি জেলাধীন কাপ্তাইয়ের চিৎমরম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর ধরে উপজেলা এলজিইডি ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের বড় বড় ঠিকাদারি কাজ একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও আওয়ামী  সরকারের সেই ঠিকাদাররা এখনো কীভাবে বহাল তবিয়তে ঠিকাদারি কাজ পাচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন একাধিক ঠিকাদারের নাম উল্লেখ করেন, যারা আওয়ামী লীগের  বিভিন্ন পদে রয়েছেন।  তাদের মধ্যে ঠিকাদার বাবলু, সৈকত আলী, মুন্না, রাসেল, রাজু।

​অভিযোগপত্রে বলা হয়, আওয়ামী সরকারের পতনের পর ওইসব ঠিকাদার পালিয়ে থেকে এখনো কীভাবে এসব কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ওই ফ্যাসিস্ট সরকারের উত্তরসূরী ঠিকাদারদের কতিপয় বিএনপি নেতা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনদের ঠিকাদারী কাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, বিষয়টি বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের দলীয়ভাবে দেখা প্রয়োজন। বিএনপি নেতা জয়নাল লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জেলা বিএনপি’র সভাপতি সম্পাদক বরাবরে এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপি নেতা জয়নাল বলেন, বিএনপি দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আমার এই অভিযোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এব্যাপারে ঠিকাদার বাবলু বলেন, যে কোন মানুষের মতাদর্শ থাকতে পারে, তবে কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিষ্ট কিভাবে হয়? আমার জানামতে ঠিকাদারী কাজে আমি কোন অনিয়ম-দূর্নীতি করিনি,  আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যতগুলি ঠিকাদারী কাজ পেয়েছি সব কাজ সুষ্ঠু, সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করেছি। তবে আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলাম। অপর ঠিকাদারদের কল করা হলেও তারা কল রিসিভ না করায় তাদের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ছবি- অভিযোগপত্র।

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাজস্থলীতে হেডম্যান-কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ২:৪৮ পিএম
কাপ্তাইয়ে আওয়ামী সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ : বিএনপি নেতার ক্ষোভ

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই জোনের সাব জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় এবং রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পে হেডম্যান ও কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিতহয়। এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর মো, হাফিজ। সম্মেলনটি নিয়মিত মাসিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। সাব-জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারীদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হন।

সভাপতির বক্তব্যে মেজর হাফিজ বলেন রণজয়ী আটত্রিশ দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে অবদান রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সাথে আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। দুর্গম এলাকার মানুষ যারা এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি, তাদেরকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।” এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয় ।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী সাব-জোনের জেসিও ওয়াঃঅফিসার তৌহিদ , ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ২নং গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মৌজা থেকে আগত ৪ জন মেম্বার, ৫ জন হেডম্যান ও ৫৩ জন কারবারী। এছাড়াও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চুরির অপবাদে ১৫ বছরের শিশু কারাগারে ! পরিবার বলছে ‘নির্দোষ’, পুলিশের দাবি ‘স্বীকারোক্তি’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ২:৪১ পিএম
কাপ্তাইয়ে আওয়ামী সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ : বিএনপি নেতার ক্ষোভ

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড়, প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় একটি মোবাইল চুরির মামলায় ১৫ বছর বয়সী এক শিশুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, সে চুরির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়; বরং প্রকৃত অভিযুক্তের সঙ্গে অজান্তে একটি মোবাইল ফোন বিক্রি করতে যাওয়ায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মুক্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

শিশুটির বাবা মো. হানিফ অভিযোগ করেন, তার ছেলে কখনো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না। প্রকৃত অভিযুক্ত শিশুটিকে জানায়, মোবাইল ফোনটি তার খালার এবং সেটি বিক্রি করতে হবে। সেই বিশ্বাসে সে অভিযুক্তের সঙ্গে দোকানে গেলেও মোবাইলটি যে চুরি করা ছিল, তা শিশুটি জানত না।

পরিবারের অভিযোগ, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম শিশুটির বক্তব্য গুরুত্ব না দিয়ে দণ্ডবিধির ৩৮০, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করেন। জন্মসনদে শিশুটির বয়স ১৫ বছর হলেও মামলার নথিতে ১৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।

পরিবার আরও দাবি করেছে, শিশুটিকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। খাগড়াছড়িতে শিশু হাজতের ব্যবস্থা না থাকায় পরে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

শিশুটির বাবার ভাষ্য, আটক অভিযানের সময় স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনার জের ধরে ওসি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসাবশত তার ছেলেকে মামলায় জড়িয়েছেন। এছাড়া, শিশু আটক করার আগে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি মোবাইল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিশু সংশ্লিষ্ট মামলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে শিশুটি নির্দোষ প্রমাণিত হলে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দীঘিনালায় লোকালয় থেকে বার্মিজ পাইথন উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম
কাপ্তাইয়ে আওয়ামী সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ : বিএনপি নেতার ক্ষোভ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের পূর্ব হাচিনসনপুর এলাকায় প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি দেশীয় অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এক ব্যক্তি নালায় বসানো রিং জালে মাছ দেখতে গেলে জালের মধ্যে একটি বড় আকৃতির সাপ আটকে থাকতে দেখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে জাল থেকে বের করেন। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে মেরুং রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

বন বিভাগ জানায়, উদ্ধার হওয়া সাপটি প্রায় ৮ ফুট লম্বা এবং এটি একটি দেশীয় প্রজাতির অজগর (Python molurus)। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাপটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।

মেরুং রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাফর উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি দেশীয় প্রজাতির অজগর বলে শনাক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ ধরনের সাপের উপস্থিতি থাকলেও দীঘিনালায় এ প্রজাতির অজগর উদ্ধারের ঘটনা আমাদের জানা মতে এবারই প্রথম। স্থানীয়দের সচেতনতার কারণেই সাপটিকে কোনো ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানাই। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই তাদের সংরক্ষণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, এত বড় অজগর তারা আগে কখনও এলাকায় দেখেননি। বন বিভাগের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।

×