বিলাইছড়ি বাজার গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত : চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার হুদ


বিলাইছড়ি বাজার গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত : চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার হুদ
বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে মানববন্ধন।
কারাগারের শিকল পেরিয়ে মায়ের শেষ বিদায়ে লোঙা খুমি
রাজস্থলীর শফিপুরে মানববন্ধন: অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন
বাঙ্গালহালিয়া মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের কর্তৃক এক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে অর্থ প্রদান
মানিকছড়িতে ৬০০ জন কৃষক/কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
মানিকছড়িতে ১০৬ জন কৃষকের মাঝে ১২৭২০ টি বিভিন্ন জাতের আম চারা বিতরণ
কেপিএম স্কুল এন্ড কলেজের বেঞ্চ চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
কাপ্তাইয়ে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা সভা : লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬ হাজার শিশু
দীঘিনালায় হাচিনসন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা ও জন্মদিন উদযাপন
রাঙ্গামাটি বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নে গৃহবধূ হত্যা ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার- ২
প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো
কাপ্তাই জোনের সহায়তা বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্প ,সেনাবাহিনীর উদ্যােগের বৃক্ষরোপণ অভিযান
বিলাইছড়িতে হিলফ্লাওয়ার কর্তৃক স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে সভা
আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প পাঁচ হাজার টাকার কাজ ! রুমায় কাবিটা প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়
বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা
দীঘিনালায় ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ
থানচিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত


উথোয়াইচিং মারমা ; বান্দরবান:
বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজনে ও বন্ধুসভার সহযোগিতায়
এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ (২৬ জুন) জেলার আওতায় আজ বিকেল সাড়ে ৪ টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।
দেশজুড়ে জনসচেতনতামূলক মানববন্ধন ও বিশেষ শপথ গ্রহণ কর্মসূচির আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
“মাদককে না বলতে হবে, মাদকাসক্ত একটি ব্যাধি” এই প্রতিপাদ্যে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং মাদক, ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সচেতনতামূলক এই আয়োজন।
এতে ছাত্র-শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এ সময় প্রথম আলোর বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন নারী নেত্রী উসিংম্যা মারমা, কৃপা ত্রিপুরা, বান্দরবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিনুর রহমান প্রামাণিক, বান্দরবান সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মেহেদি হাসান, হিল রাইটার্স ইউনিয়ন বান্দরবান শাখার সভাপতি মংক্য শোয়েনু নেভী, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে শুধু মাদক-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই প্রায় ৮২ হাজার, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে।
বক্তারা আরো বলেন, একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ গড়তে হলে সবার আগে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের কারণে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেকে বদলানোর পাশাপাশি অন্যদেরও মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে মাদকের অপব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
মানব বন্ধন শেষে মাদকের বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পড়ানো হয়।
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমায় প্রায় তিন বছর পর মায়ের মরদেহের সামনে এসে শেষ বিদায় জানালেন হাজতি লোঙা খুমি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় তাকে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লোঙা খুমির মা পাইত্লেন খুমি (৭৩) গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আনুমানিক সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রুমা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গির্জাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্বামী হইকিং খুমি বহু বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রুমা বাজার থেকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) -এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে লোঙা খুমিকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে রুমা থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুক্রবার (২৬ জুন) তাকে শেষবারের মতো মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

মায়ের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো বিদায় জানান লোঙা খুমি। এ সময় তার অশ্রুসিক্ত চোখ, স্বজনদের আহাজারি এবং উপস্থিত মানুষের নীরব বেদনায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ তিন বছর পর পরিবারের সঙ্গে এই ক্ষণিকের পুনর্মিলন উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মায়ের শেষ বিদায়ে সন্তানের এমন অসহায় উপস্থিতি রুমাজুড়ে এক বেদনাবিধুর ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের জন্ম দেয়।
রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৬ জুন) ৩নং শফিপুর এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, হয়রানির অভিযোগ, সামাজিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় দুই ব্যক্তি—মো. রিয়াজ উদ্দিন রানা ও আব্দুর রাজ্জাক (পিএসপি)-এর বিরুদ্ধে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি, কবরস্থান ও মসজিদকে কেন্দ্র করে বিরোধ উসকে দেওয়া এবং এলাকায় অস্থির পরিবেশ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা হলো—প্রশাসন সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এম. মিজানুর রহমান (প্রিন্স) বলেন, “শফিপুর দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে পরিচিত। আমরা চাই এই পরিবেশ অটুট থাকুক। সাধারণ মানুষের জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগগুলো প্রশাসন গুরুত্বসহকারে তদন্ত করুক। দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা নয়। আমরা চাই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে মো. আব্দুল জব্বার বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। কোনো পরিচয় ব্যবহার করে যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অভিযোগের ক্ষেত্রেও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
এ সময় বক্তব্য দেন মো. আব্দুল কুদ্দুস গাজী, মো. তালিব হোসেন, মো. আওয়াল হোসেন, মো. জুলহাস সিকদার ও মো. মাসুদুর রহমান। বক্তারা বলেন, শফিপুরে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। এতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক মো. রিয়াজ উদ্দিন রানা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “কবরস্থানের গাছ বিক্রি এবং একটি মসজিদের নামে সরকারি-বেসরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আমি সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে আমার পরিবার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার বাড়িঘর ও জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং আমার ভাই ও ভাতিজাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাই।”
স্থানীয়দের মতে, শফিপুরের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর পথ।