| ২৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

দীঘিনালায় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কলেজটিলা গ্রামে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুিয়া অনুষ্টান পালিত হয়েছে।

শনিবার ২৭ জুন সকালে নিজ বাসভবনে বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, পিন্ডু দানসহ নানাবিধ দানের যগ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিতে ধর্মদেশনা, সূত্রপাঠ, পিণ্ডদান এবং প্রয়াতের আত্মার সদগতি ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্তিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শুভবন্ধন মহাস্হবির ভান্তে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন সাধনাটিলা বন বিহারের অধ্যক্ষ বুদ্ধ বংশ মহাস্হবির ভান্তে উপস্তিত ছিলেন।

এ সময় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বুদ্ধ বংশ ভান্তে প্রয়াতের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন সৎ, বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার মানুষ। তাঁর মৃত্যু পরিবার ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে প্রিতীভোজন ও মধ্যাহ্নভোজ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাজস্থলী উপজেলা পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন ; উন্নয়ন কার্যক্রমে সন্তোষ, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

দীঘিনালায় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন প্রকল্প ও জনসেবামূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

আজ (২৮ জুন) সকালে রাজস্থলীতে পৌঁছালে বিভাগীয় কমিশনারকে রাজস্থলী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, সরকারি দপ্তরের সেবার মান এবং চলমান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও মানসম্মত সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সভায় বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বিভাগীয় কমিশনার মনোযোগ সহকারে সব বক্তব্য শোনেন এবং যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জোনায়েদ, রাজস্থলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম, রাজস্থলী থানার ওসি (তদন্ত) জসিম উদ্দিন, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার মান ও টিকাদান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সকলকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

বিভাগীয় কমিশনারের এ সফরকে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ানো এবং জনসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দীঘিনালায় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

‎জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দূগর্ম কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিদ্যামনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ‎

‎রবিবার (২৮ জুন) সকালে কুরুকপাতা এলাকায় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ, ৪নং কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো, ইউনিসেফের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, আলীকদম উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অস্থায়ী ৯৬টি কেন্দ্র, একটি স্থায়ী কেন্দ্র এবং একটি অতিরিক্ত কেন্দ্রসহ মোট ৯৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

‎আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৮ হাজার ২৩৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১ হাজার ৪৩৬ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

‎স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত জটিলতা প্রতিরোধে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‎‎এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগ নির্ধারিত বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

জমজমাট দীঘিনালা লারমা স্কয়ারের সবজি বাজারে শতাধিক নারী বিক্রেতার প্রাণচাঞ্চল্য

দীঘিনালায় প্রয়াত ভরত কুমার চাকমার সাপ্তাহিক ত্রুয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার লারমা স্কয়ার সবজি বাজারে প্রতিদিন বসছে জমজমাট হাট।

এ বাজারে শতাধিক নারী বিক্রেতা নিজস্ব উৎপাদিত ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি নিয়ে বসেন। ফলে বাজারটি এলাকায় কৃষিপণ্য বিক্রির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সকালের শুরু থেকেই বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা নারী বিক্রেতারা লাউ, কুমড়া, বেগুন, ঢেঁড়স, কাঁচামরিচ, শসা, পুঁইশাক, লালশাকসহ নানা ধরনের মৌসুমি সবজি বিক্রি করেন। এসব সবজি তুলনামূলক ভাবে তাজা হওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা বেশি।

নারী বিক্রেতারা জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি বাজারে সবজি বিক্রি করে তারা পরিবারের আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নিয়মিত বিক্রির সুযোগ থাকায় সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

স্থানীয় ক্রেতারা বলেন, লারমা স্কয়ার বাজারে সহজেই টাটকা ও স্থানীয়ভাবে পাহাড়ের উৎপাদিত সবজি পাওয়া যায়। দামও অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য বাজারের তুলনায় সহনীয় হওয়ায় তারা নিয়মিত এখান থেকে কেনাকাটা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নারী বিক্রেতাদের জন্য বাজারে আরও উন্নত অবকাঠামো, নিরাপদ বসার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

×