| ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দিঘীনালা বন বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

দিঘীনালা বন বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা বন বিহারে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে। রবিবার ২৫ অক্টোবর এ উপলক্ষে বিহারে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মআলোচক হিসেবে উপস্হিত ছিলেন দিঘীনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্হবির ভান্তে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা, ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করে বুদ্ধের অহিংসা, শান্তি, মৈত্রী ও করুণার বাণী স্মরণ করেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সকাল ৯ টায় বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মুর্তি দান,সংঘদান, অষ্টপরিস্কারসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্মদেশনা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করা হয়।

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় প্রবারণা উদযাপিত হয়। এদিন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাব্রত সমাপ্ত করেন এবং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে দিঘীনালা বন বিহার ও আশপাশের এলাকায় ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে বিহার প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। এ সময় দেশ ও জাতির মঙ্গল, বিশ্বশান্তি এবং সকল প্রাণীর সুখ-শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

প্রবারণা পূর্ণিমার মূল শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি, ক্ষমাশীলতা, অহিংসা ও সম্প্রীতির চর্চা। এই শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধরা।

দিঘীনালা বন বিহারে আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু হল চাচাতো ভাই-বোনের

দিঘীনালা বন বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

একই দিনে জন্ম হয়েছিল চাচাতো ও জ্যাঠাতো দুই ভাই-বোন আব্দুল্যা আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাতের। তাদের জন্মের পর পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। ঠিক একইভাবে সোমবার সকালে একই সাথে দুই ভাই বোনের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকা জুড়ে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। মৃত আরাফ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র এবং মিফতাহুল আশরাফুল ইসলামের কন্যা।

নিহত দুই শিশুর স্বজনরা জানান, পরিবারের সকলের অত্যন্ত আদরের ছির দুই শিশু। বয়স সবেমাত্র দুই বছর। দুই পরিবারের নয়নের মজী ছিল তারা। সব সময় তারা একই সাথে খেলাধুলা করত। প্রতিদিনের মতো তারা এক সাথে খেলতে গিয়ে সকলের অলক্ষ্যে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে যায় তারা। পরে খোঁজাখোঁজি করতে গিয়ে ডোবার পানি থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজস্থলীতে বন্য শূকরের ঝুম ক্ষেতে আক্রমণে একজনের মৃত্যু

দিঘীনালা বন বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে বন্য শূকরের আক্রমণে হরি মনি ত্রিপুরা (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকালে বিষয়টি জানা গেছে।

নিহত হরিমনি রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নং বলিপাড়া এলাকার ওমাইপ্রু ত্রিপুরার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই জন ত্রিপুরা জানান, সোমবার পাহাড়ে ঝুম খেতের ধান আনতে যান হরিমনি ত্রিপুরা। পাহাড়ের উপর দিক থেকে হঠাৎ বন্য শূকরের পাল তাকে আক্রমণ করে। এসময় কোন লোক না থাকায় পালিয়ে যাবার সময় শূকরের সামনে পড়ে যান হরিমনি। শূকরের আক্রমনে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।তার মরদেহ উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমাদের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ নাই। আমরা আগামী কাল সৎকার করে নিব। বিষয়টি আমাদের পক্ষ হতে ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা কে অবগত করেছি।

১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এলাকায় এনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকা দুরবর্তী হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা কে অবহিত করেছেন বলে গণমাধ্যম কে জানান।

খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা

দিঘীনালা বন বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা।

রবিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পেরাছড়াস্থ ধর্মপুর আর্য বনবিহারসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা ধর্মীয় আচার ও পুণ্যানুষ্ঠান। বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্ট উপাচার দান ও হাজার প্রদীপ দানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

প্রবারণা পূর্ণিমার পুণ্যানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উপাসক আকাশী চাকমা বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আমরা সকাল থেকে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদানসহ নানা ধরনের দান করে থাকি। পাশাপাশি জগতের সকল প্রাণীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি।’

ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের প্রবারণা পূর্ণিমার উপলক্ষে ধর্মসভা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ম্রাসা থোয়াই মারমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের সদস্য রিপল চাকমা।

এসময় অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভদ্দজী মহাস্থবির প্রধান ধর্মদেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা করেন শ্রীমৎ দীপানন্দ স্থবিরসহ আরও অনেকে।

ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের সাধারণ সম্পাদক পূর্ণেন্দু বিকাশ দেওয়ান বলেন,ভান্তেদের দীর্ঘ তিন মাস বর্ষাবাসের পর প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে বর্ষাবাস শেষ হয়। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আমরা অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য বুদ্ধের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। এ প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে বিভিন্ন বিহারে এক মাসব্যাপী অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হবে।

×