মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:

রামগড় পাতাছড়ায় সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বর্ষায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হবে স্থানীয়দের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
18 বার পড়া হয়েছে
রামগড় পাতাছড়ায় সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বর্ষায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হবে স্থানীয়দের

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়ন-এ গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে চরম ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার সড়কের ইটের সলিং তুলে কার্পেটিং (বিটুমিনাস) করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করে। পরবর্তীতে টেন্ডারের মাধ্যমে এমএস রিফ এন্টারপ্রাইজ ও ইমু এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি দুই ভাগে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে।

এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করে মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধ রাখে। এতে করে সড়কের ইটের সলিং তুলে ফেলার পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়, যা প্রথম বর্ষার বৃষ্টিতেই কাদামাটিতে পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা দুর্ভোগে আছি। আগে কোনোভাবে চলাচল করা যেত, এখন বৃষ্টি হলেই হাঁটাও দায় হয়ে যায়।”আরেক বাসিন্দা সেলিনা আক্তার বলেন, “স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জরুরি সময়ে অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এদিকে এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “সড়কের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটির কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় বর্ষা মৌসুম জুড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

রামগড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা,দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১:২৯ পিএম
রামগড় পাতাছড়ায় সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বর্ষায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হবে স্থানীয়দের

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় ;

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় মসজিদ রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অপরিষ্কার ড্রেনের উপচে পড়া নোংরা পানি, তীব্র দুর্গন্ধ এবং খোলা ড্রেনে মুরগির রক্ত ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় পানি জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুরগি ড্রেসিংয়ের রক্ত ও বর্জ্য, যা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা ড্রেনে ফেলছেন। ফলে ড্রেনের পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাস্তার দুই পাশে বসে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জমে থাকা পচা পানি ও মুরগির বর্জ্য থেকে মশা ও বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যা ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রামগড় বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হেসেন ভুঁইয়া বলেন, “পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা জরুরি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই মসজিদ রোড কাদা ও ময়লায় একাকার হয়ে যায়, ফলে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা পৌর প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিলাইছড়িতে কৃষিবিয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শনে উপ-সচিব 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৬ এএম
রামগড় পাতাছড়ায় সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বর্ষায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হবে স্থানীয়দের

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কৃষকদের কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আফছানা বিলকিস।

সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলা হলরুমে মসল্লার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নিজেই প্রশিক্ষণ করান। পরে উপকরণ বিতরণ করেন এবং ধান্য জমিসহ বিভিন্ন মাঠ ফসল পরিদর্শন করেন। তিনি কৃষকের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং সমাধানের আশ্বস্ত করেন।

এসময় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুন চন্দ্র রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির। উক্ত প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত সহ অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

কাপ্তাইয়ে প্রয়াত মংলু মারমা ও ম্রাজুপ্রু মারমা স্মরণে দুই দিনব্যাপী মহতী পুণ্যদান অনুষ্ঠান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম
রামগড় পাতাছড়ায় সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বর্ষায় জনদুর্ভোগ পোহাতে হবে স্থানীয়দের

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বড়ইছড়ি মারমা পাড়ায় উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে প্রয়াত সমাজসেবক মংলু মারমা এবং তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমার স্মরণে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন হয়েছে। ২৯ ও ৩০ মার্চ (রবিবার ও সোমবার) বড়ইছড়ি পাড়া সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এই বিশাল ধর্মীয় সভায় ও পুণ্যদান অনুষ্ঠানের প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ উঃ পামোক্ষা মহাথের। এছাড়া কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ ও ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই পুণ্যময় অনুষ্ঠানে শীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান এবং অষ্টপরিষ্কার দানসহ নানা মাঙ্গলিক আচার পালন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চীবর দান, অর্থ ও অর্ঘ্য দান, কল্পতরু উৎসর্গ এবং প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। অনুষ্ঠানে আগত পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থীবৃন্দকে বিনম্র বন্দনা ও যথাযোগ্য অভিবাদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রয়াতদের ধর্মপুত্র ভদন্ত সনাসীরি মহাথের-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত দম্পতির পুত্র-কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ও পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে বিহার প্রাঙ্গণ এক পবিত্র মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড়ইছড়ি মারমা পাড়ার জনপ্রিয় কবিরাজ ও সমাজসেবক মংলু মারমা পাঁচ বছর আগে পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দেড় বছর ব্যবধানে তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমা মৃত্যুবরণ করেন।

প্রয়াতদের বড় ছেলে অংথোয়াইচিং মারমা ও বড় জামাতা টি মং মারমা জানান, বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বাবা-মায়ের পারলৌকিক সদগতি ও শান্তি কামনায় এই চীবর দান ও অষ্টশুদ্ধিকরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সোমবার বিকেলে এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

×