শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে সরকারি চাল ও এডিবি প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ

কাপ্তাইয়ে সরকারি চাল ও এডিবি প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং সরকারি বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। রিলিফের চাল বিতরণে নয়ছয় এবং এডিবি প্রকল্পের অর্থ সুষম বণ্টন না করার অভিযোগে সোমবার (৩০ মার্চ) কাপ্তাই উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার দুপুরে কাপ্তাই উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।​

বক্তারা তাদের বক্তব্যে মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৫ টন চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। এডিবির ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ সুষম বণ্টন না করে একটি বিশেষ চক্রের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করা। ​

কাপ্তাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোঃ ইব্রাহিম হাবিব মিলুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তারা বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে একটি কুচক্রী মহল সরকারি বরাদ্দ লুটপাটে মেতেছে। তারা বৈষম্য তৈরি করে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল রাজপথে ছিল এবং আছে। কাপ্তাইয়ের মাটিতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাছান চৌধুরী রক্সি, যুগ্ম আহবায়ক সুমন মারমা, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম, কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রদলের সিঃ যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সাহাদাত হোসেন, কর্ণফুলী ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন আকাশসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল ছাত্রদল ও সেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দরা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দলের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দরা।

রামগড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা,দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

কাপ্তাইয়ে সরকারি চাল ও এডিবি প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় ;

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় মসজিদ রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অপরিষ্কার ড্রেনের উপচে পড়া নোংরা পানি, তীব্র দুর্গন্ধ এবং খোলা ড্রেনে মুরগির রক্ত ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় পানি জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুরগি ড্রেসিংয়ের রক্ত ও বর্জ্য, যা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা ড্রেনে ফেলছেন। ফলে ড্রেনের পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাস্তার দুই পাশে বসে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জমে থাকা পচা পানি ও মুরগির বর্জ্য থেকে মশা ও বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যা ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রামগড় বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হেসেন ভুঁইয়া বলেন, “পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা জরুরি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই মসজিদ রোড কাদা ও ময়লায় একাকার হয়ে যায়, ফলে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা পৌর প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিলাইছড়িতে কৃষিবিয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শনে উপ-সচিব 

কাপ্তাইয়ে সরকারি চাল ও এডিবি প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কৃষকদের কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আফছানা বিলকিস।

সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলা হলরুমে মসল্লার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নিজেই প্রশিক্ষণ করান। পরে উপকরণ বিতরণ করেন এবং ধান্য জমিসহ বিভিন্ন মাঠ ফসল পরিদর্শন করেন। তিনি কৃষকের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং সমাধানের আশ্বস্ত করেন।

এসময় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুন চন্দ্র রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির। উক্ত প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত সহ অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

কাপ্তাইয়ে প্রয়াত মংলু মারমা ও ম্রাজুপ্রু মারমা স্মরণে দুই দিনব্যাপী মহতী পুণ্যদান অনুষ্ঠান

কাপ্তাইয়ে সরকারি চাল ও এডিবি প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বড়ইছড়ি মারমা পাড়ায় উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে প্রয়াত সমাজসেবক মংলু মারমা এবং তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমার স্মরণে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন হয়েছে। ২৯ ও ৩০ মার্চ (রবিবার ও সোমবার) বড়ইছড়ি পাড়া সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এই বিশাল ধর্মীয় সভায় ও পুণ্যদান অনুষ্ঠানের প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ উঃ পামোক্ষা মহাথের। এছাড়া কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ ও ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই পুণ্যময় অনুষ্ঠানে শীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান এবং অষ্টপরিষ্কার দানসহ নানা মাঙ্গলিক আচার পালন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চীবর দান, অর্থ ও অর্ঘ্য দান, কল্পতরু উৎসর্গ এবং প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। অনুষ্ঠানে আগত পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থীবৃন্দকে বিনম্র বন্দনা ও যথাযোগ্য অভিবাদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রয়াতদের ধর্মপুত্র ভদন্ত সনাসীরি মহাথের-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত দম্পতির পুত্র-কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ও পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে বিহার প্রাঙ্গণ এক পবিত্র মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড়ইছড়ি মারমা পাড়ার জনপ্রিয় কবিরাজ ও সমাজসেবক মংলু মারমা পাঁচ বছর আগে পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দেড় বছর ব্যবধানে তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমা মৃত্যুবরণ করেন।

প্রয়াতদের বড় ছেলে অংথোয়াইচিং মারমা ও বড় জামাতা টি মং মারমা জানান, বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বাবা-মায়ের পারলৌকিক সদগতি ও শান্তি কামনায় এই চীবর দান ও অষ্টশুদ্ধিকরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সোমবার বিকেলে এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

×