রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধব :
সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের অযুহাতে যখন বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত মনিটরিং এর ফলে তেল বিক্রয়ের স্টেশন গুলোর ডিলারদের মাঝে স্বচ্ছতা ফিরে আসার ফলে কাপ্তাইয়ের ফিলিং স্টেশন ও খুচরা বাজারগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
সরেজমিনে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি বিপণন সংস্থা ‘পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড’-এর নিবন্ধিত ডিলার ‘মেসার্স কাপ্তাই ফিলিং স্টেশন’ থেকে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন চালক ও সাধারণ ক্রেতারা। সংকটের দোহাই দিয়ে এখানে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এখানে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা এবং ডিজেল ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে উপজেলার মূল ফিলিং স্টেশনগুলোর পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানদারদের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরাও। ফলে মজুদদারি বা কালোবাজারির কোনো সুযোগ থাকছে না।
কাপ্তাই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হোসাইন মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, বর্তমানে তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল বিক্রিয়ে সেবা দিচ্ছেন। খুচরা টাকার সংকটের কারণে অনেক সময় লেনদেনে জটিলতা এড়াতে গ্রাহকদের জনপ্রতি ২০০ টাকার তেল (প্যাকেজ হিসেবে) প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, স্টেশনে প্রতিদিনের স্বাভাবিক টার্গেট ২৫০ লিটার থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের ব্যাপক চাপের কারণে দৈনিক প্রায় ১ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রি হচ্ছে। কাপ্তাই পর্যটন এলাকা হওয়ার পাশাপাশি রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গুনিয়া ও লিচু বাগানসহ বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকেও চালকরা তেল নিতে কাপ্তাই এসে ভিড় করছেন।
তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “অন্যান্য অনেক জায়গায় তেল পেতে ভোগান্তি ও বাড়তি দামের কথা শুনছি, কিন্তু কাপ্তাইয়ে আমরা সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত দামেই তেল পাচ্ছি। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকায় আমরা সাধারণ মানুষ অনেক স্বস্তিতে আছি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণেই কাপ্তাইয়ে জ্বালানি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। জনস্বার্থে এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।