শিরোনাম:

কর্ণফুলীর বুকে দেশের প্রথম ‘ক্যাবল স্টেইড’ সেতু: ব্যয় ১৬৫৮ কোটি টাকা

কর্ণফুলীর বুকে দেশের প্রথম ‘ক্যাবল স্টেইড’ সেতু: ব্যয় ১৬৫৮ কোটি টাকা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ‘ক্যাবল স্টেইড’ সেতু। চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাটে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এটি বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে বাংলাদেশে ক্যাবল স্টেইড প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম দীর্ঘতম কোনো সেতু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই বিশাল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৫৮৭১.৮৬ লক্ষ টাকা (প্রায় ১,৬৫৯ কোটি টাকা)।রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, ইতিমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় সেতুটি নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৫৩২ মিটার (ক্যাবল স্টেইড)ভায়াডাক্ট ৪৫৫ মিটার,এলিভেটেড সড়ক ৫১১ মিটার।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূল সেতু ও ভায়াডাক্ট নির্মাণে ধরা হয়েছে ৮৬৮৫০.১৬ লক্ষ টাকা। এছাড়া এলিভেটেড সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২০০.২০ লক্ষ টাকা। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুন ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা বলেন,”এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাঙ্গামাটি-ঘাগড়া-বাঙালহালিয়া-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) ২১তম কিলোমিটারে কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি বাধাহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে দুই পার্বত্য জেলার মধ্যে উন্নত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেতুটি নির্মিত হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, “এই নৌ-রুটে একটি সেতু নির্মাণ ছিল এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার জনসাধারণের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।”

রামগড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা,দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

কর্ণফুলীর বুকে দেশের প্রথম ‘ক্যাবল স্টেইড’ সেতু: ব্যয় ১৬৫৮ কোটি টাকা

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় ;

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার কেন্দ্রীয় মসজিদ রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অপরিষ্কার ড্রেনের উপচে পড়া নোংরা পানি, তীব্র দুর্গন্ধ এবং খোলা ড্রেনে মুরগির রক্ত ও বর্জ্য ফেলার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করায় পানি জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুরগি ড্রেসিংয়ের রক্ত ও বর্জ্য, যা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা ড্রেনে ফেলছেন। ফলে ড্রেনের পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাস্তার দুই পাশে বসে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জমে থাকা পচা পানি ও মুরগির বর্জ্য থেকে মশা ও বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যা ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রামগড় বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হেসেন ভুঁইয়া বলেন, “পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা জরুরি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই মসজিদ রোড কাদা ও ময়লায় একাকার হয়ে যায়, ফলে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা পৌর প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিলাইছড়িতে কৃষিবিয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শনে উপ-সচিব 

কর্ণফুলীর বুকে দেশের প্রথম ‘ক্যাবল স্টেইড’ সেতু: ব্যয় ১৬৫৮ কোটি টাকা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কৃষকদের কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আফছানা বিলকিস।

সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলা হলরুমে মসল্লার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং নিজেই প্রশিক্ষণ করান। পরে উপকরণ বিতরণ করেন এবং ধান্য জমিসহ বিভিন্ন মাঠ ফসল পরিদর্শন করেন। তিনি কৃষকের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং সমাধানের আশ্বস্ত করেন।

এসময় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুন চন্দ্র রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির। উক্ত প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত সহ অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

কাপ্তাইয়ে প্রয়াত মংলু মারমা ও ম্রাজুপ্রু মারমা স্মরণে দুই দিনব্যাপী মহতী পুণ্যদান অনুষ্ঠান

কর্ণফুলীর বুকে দেশের প্রথম ‘ক্যাবল স্টেইড’ সেতু: ব্যয় ১৬৫৮ কোটি টাকা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বড়ইছড়ি মারমা পাড়ায় উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে প্রয়াত সমাজসেবক মংলু মারমা এবং তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমার স্মরণে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন হয়েছে। ২৯ ও ৩০ মার্চ (রবিবার ও সোমবার) বড়ইছড়ি পাড়া সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এই বিশাল ধর্মীয় সভায় ও পুণ্যদান অনুষ্ঠানের প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ উঃ পামোক্ষা মহাথের। এছাড়া কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ ও ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই পুণ্যময় অনুষ্ঠানে শীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান এবং অষ্টপরিষ্কার দানসহ নানা মাঙ্গলিক আচার পালন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চীবর দান, অর্থ ও অর্ঘ্য দান, কল্পতরু উৎসর্গ এবং প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। অনুষ্ঠানে আগত পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থীবৃন্দকে বিনম্র বন্দনা ও যথাযোগ্য অভিবাদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রয়াতদের ধর্মপুত্র ভদন্ত সনাসীরি মহাথের-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত দম্পতির পুত্র-কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ও পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে বিহার প্রাঙ্গণ এক পবিত্র মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড়ইছড়ি মারমা পাড়ার জনপ্রিয় কবিরাজ ও সমাজসেবক মংলু মারমা পাঁচ বছর আগে পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দেড় বছর ব্যবধানে তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমা মৃত্যুবরণ করেন।

প্রয়াতদের বড় ছেলে অংথোয়াইচিং মারমা ও বড় জামাতা টি মং মারমা জানান, বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বাবা-মায়ের পারলৌকিক সদগতি ও শান্তি কামনায় এই চীবর দান ও অষ্টশুদ্ধিকরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সোমবার বিকেলে এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

×