শিরোনাম:

পাহাড়ে থাই আপেল কুল–বরই : কৃষকদের নতুন আশার আলো

পাহাড়ে থাই আপেল কুল–বরই : কৃষকদের নতুন আশার আলো

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধিঃ

কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে সাতসকালেই গ্রামের বাজার শেটে ফলের আড়তে বেচাকেনা জমে ওঠেছে। বর্তমানে এই ফলের আড়তে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে থাই আপেল কুল বরই নামে। চাহিদা যেমন, দামও বেশ চড়া। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে থাই আপেল কুল নামে বরই। এরপর রয়েছে বল সুন্দরী বরই, নারকেলি বরই, এছাড়া আপেল কুল, টক বরই ইত্যাদি।
পাহাড়ি অঞ্চলের উর্বর লালমাটিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে থাই আপেল কুল বরই চাষ। চাষাবাদের কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মতে এটি এখন পাহাড়ের অন্যতম লাভজনক ফল। বান্দরবানের রুমা, থানচি, লামা ও সদর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালে ইতোমধ্যে থাই আপেল কুলের বাগান গড়ে উঠেছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবানের সদর উপজেলা থানছি রোড সংলগ্ন চিম্বুক এলাকার রামরী পাড়া, ১নং ওয়ার্ড, ৭নং টংকাবতী-কারবারি মেনরুম ম্রো (৬৫) জানান, একসময় তিনি দেশি আপেল কুল বরই চাষ করে ভালো ফল ও দাম পেতেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন জাতের বরই আসায় আপেল কুলের চাহিদা কমে গেছে। তিনি বলেন, আপেল কুল দেরিতে ফলে—ডিসেম্বরে ফলন পাওয়া যায়। তাই দাম ধরে না। এখন থাই আপেল কুল বরই বেশি লাভজনক, কারণ আগাম ফল পাওয়া যায়।

তিনি বলেছেন, বর্তমানে থাই আপেল কুলের পাইকারি দর কেজিপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা। মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ৫–৬ হাজার টাকায়। আগাম ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় তিনি আগামী বছর থাই আপেল কুল–বরইয়ের চারা সংগ্রহ করে বড় পরিসরে চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

কৃষক ক্রাতওয়াই ম্রো বলেন, ১/২ বছর আগে আমি ১৫০টি গাছ লাগিয়েছিলাম। মারা গেছে ১০টি, এখন রয়েছে ১৪০টি গাছ। এই মৌসুমে ৯০ কেজি ফল বিক্রি করেছি, কেজি ১৫০ টাকা দরে। দাম ভালো, তাই খুব খুশি। তিনি জানান, আগামী বছরে আরও বেশি চারা রোপণ করবেন, কারণ থাই আপেল কুল আগাম ফলে এবং বাজারে তখন দাম কড়া থাকে।

আরেক স্থানীয় কৃষক রেইংচ্যং ম্রো জানান, অন্যান্য বরই তুলনায় থাই আপেল কুল বরই এখন সবচেয়ে লাভজনক মনে হচ্ছে। বড় আকার, আকর্ষণীয় রং আর মিষ্টি স্বাদের কারণে বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়। পাহাড়ে এই চাষ এখন অনেকের জীবিকার ভরসা। যারা চাষ করেছেন তারা সবাই ভালো দাম পেয়েছেন। আমিও আগামী বছর গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছি।

সদর এলাকার পাইকারী মো.রহিম বলেন, থাই আপেল কুল প্রথম ফল হিসেবে বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। দেশি বরই, আপেল কুল বরই, বল সুন্দরী বরই, নারকেলি বরই ইত্যাদি আসার আগে বাজারে এই ফলের ঘাটতি থাকে, তাই পাইকারীরা উচ্চ দামে কিনতে বাধ্য হন। ফলে কৃষকেরা লাভবান হন। তবে ১০/১২ দিন পর কিছুটা দাম কমে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপপরিচালক তৌফিক আহমেদ নূর জানান, পাহাড়ি এলাকায় থাই আপেল কুল–বরই চাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আগাম ফলন, কম রোগবালাই ও উচ্চ বাজারমূল্য এ চাষের বড় সুবিধা। তিনি বলেন, কৃষকরা সঠিক পরিচর্যা বজায় রাখলে আগামীতে এটি পাহাড়ের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে থাই আপেল কুল–বরই চড়া দামের পাওয়াতে কৃষকদের সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।

থাই আপেল কুল–বরই এখন বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় কৃষকের নতুন ভরসা। আগাম ফলন, স্থিতিশীল বাজার ও ভালো মুনাফার কারণে আগামী মৌসুমে এ চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

পাহাড়ে থাই আপেল কুল–বরই : কৃষকদের নতুন আশার আলো


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

পাহাড়ে থাই আপেল কুল–বরই : কৃষকদের নতুন আশার আলো

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

পাহাড়ে থাই আপেল কুল–বরই : কৃষকদের নতুন আশার আলো

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×