| ২২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে ভারী বৃষ্টিপাতে প্লাবিত ধান্য জমি, আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালের মানুষ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যাতায়াতে চরম ভোগান্তি

বিলাইছড়িতে ভারী বৃষ্টিপাতে প্লাবিত ধান্য জমি, আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালের মানুষ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যাতায়াতে চরম ভোগান্তি

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধিঃ

বিলাইছড়ি  উপজেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধস ও কয়েকটি ঘর ধসে পড়েছে। বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ধান্য জমিসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে আতঙ্কে রয়েছেন পাহাড়ের ঢালে বসবাস করা মানুষ। ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে ১ জুনেও। গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা কয়েকদিন বৃষ্টিপাতে ফারুয়া ইউনিয়নে গোয়াইনছড়ি, যামুছড়া, এগুজ্যাছড়ি তক্তানালা, উলুছড়ি, চাইন্দা, আলেখ্যং এলাকা শাকসবজির ক্ষেত এবং বিলাইছড়ি ইউনিয়নে, কুতুবদিয়া, আমতলী, দীঘলছড়ি, নলছড়ি বাজার এলাকা, সাক্রাছড়ি এবং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে কেরনছড়ি, সেটেলার জোন, ভালাছড়ি, শামুক ছড়ি, নাড়াইছড়ি এলাকায় বেশিরভাগ ধান্য জমি ও ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কুতুবদিয়া এবং কেরনছড়ির এলাকা। তাদের প্রায় সব পরিবারের পাকা-কাঁচা-আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে পানির নীচে। গোয়াইনছড়ির কিছু বসতঘর প্লাবিত, আরো বৃষ্টিপাত হলে প্লাবিত হতে পারে ফারুয়া বাজার।

এদিকে, বিলাইছড়ি টু ফারুয়া রাস্তাটি যাতায়াতের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। ঐ পথে যেতে পারছেন না জুরাছড়িবাসীও। এছাড়াও নৌ-পথে প্রবল স্রোতে রাঙ্গামাটি হতে বিলাইছড়ি, কাপ্তাই হতে বিলাইছড়ি, বিলাইছড়ি হতে ফারুয়া আসা-যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন নানা শ্রেণীর পেশার মানুষ। তবে সবচেয়ে অসুবিধায় রয়েছেন নিন্ম আয়ের মানুষগুলো।

এদিকে ৫দিন ধরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের।

১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রায় ১৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি,পুরাতন কৃষি অফিস (কলেজ ক্যাম্পাস), অডিটোরিয়াম, বিলাইছড়ি মডেল স: প্রা: বিদ্যালয়, ডাউন পাড়া প্রা: বিদ্যালয়, শালবাগান স: প্রা: বিদ্যালয়, কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ১,২ ও ৩নং – এর কেংড়াছড়ি বাজার জোন স: প্রা: বিদ্যালয়। ফারুয়া ইউনিয়নে শুক্করছড়ি স: প্রা: বিদ্যালয়, তাড়াছড়ি বেসরকারি প্রা: বিদ্যালয়, ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফারুয়া স: প্রা: বিদ্যালয়, এগুজ্যাছড়ি বেসরকারি প্রা: বিদ্যালয়, ওড়াছড়ি স: প্রা: বিদ্যালয়, তক্তানালা সরকারি প্রা: বিদ্যালয়, উলুছড়ি বেসরকারি প্রা: বিদ্যালয়।

তিনি আরো জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপরে কারোর হাত নেই, সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানান। এছাড়াও জানাগেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মামুনুল হক নেতৃত্বে একটি টীম রয়েছে যা প্রতিনিয়ত পরিদর্শন ও খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে-  ০১৮৯৪৯৫০১১৪, ০১৮১২৯৫৬৫৪৬ এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, রাঙামাটির ৩নং সাপছড়ি ইউনিয়ন রাঙ্গামাটি সদর ৪নং ওয়াদের বোধিপুর, মরংছড়ি খামারপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বন্যা প্লাবিত হয়েছে। এই এলাকার ৪০টিরও বেশি বাড়িঘর ডুবেছে।

রাজস্থলীতে আইন শৃঙ্খলা কমিটি মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বিলাইছড়িতে ভারী বৃষ্টিপাতে প্লাবিত ধান্য জমি, আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালের মানুষ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যাতায়াতে চরম ভোগান্তি

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসন উদ্যােগের আইন শৃঙ্খলা কমিটি মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস কক্ষে এসময় উপস্থিতিতে সভায় সভাপতিত্বে করেন অতিরিক্ত দায়িত্বরত মো: রায়হানুল ইউএনও। আরো উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী থানা এসআই মো: এনাম রাজস্থলী উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: খলিলুর রহমান মাষ্টার জামাতে আমির ফরিদুর সহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তাগণসহ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: আজগর আলী খান সিনিয়র সহসভাপতি চাইথোয়াইমং মারমা সদস্য মো মিজবাহ উল্লাহ প্রমূখ।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: খলিলুর মাষ্টার বলেন, রাজস্থলী উপজেলা বেশির ভাগ ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের নানা সমস্যা জর্জড়িত বিষয়ে যেমন জায়গায় অবধৈ দখল মামলা মোকদ্দর্মা মাদকের ব্যবসায় জড়িত দের বিরুদ্ধের আইনের যথাযথ পদক্ষেপ সহ অপরাধীকে চিহ্নিত করে সকলে সাথে একসাথে নিয়ন্ত্রণ কাজ করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা আশাবাদী ব্যক্ত করেন।

ইউএনও মো: রায়হানুল ইসলাম জানান, এলাকায় বেশির ভাগ ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের পরিস্থিতি এলাকায় মাদক দ্রব্য নারী শিশু নির্যাতন, জায়গায় দখল বিষয়ের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কারবারী সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক সহযোগিতায় এক সাথে কাজ করতে হবে বলে সকলের উদ্দেশ্য আহবান করেন। এলাকায় পরিস্থিতি তখন কিছুটা হলে নিয়ন্ত্রণ পরিবেশ স্বাভাবিক ফিরে আসবে বলে মনে করেন।

দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করল সেনাবাহিনী

বিলাইছড়িতে ভারী বৃষ্টিপাতে প্লাবিত ধান্য জমি, আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালের মানুষ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যাতায়াতে চরম ভোগান্তি

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি রিজিয়ন! সোমবার ২২ জুন সকালে বিন্দু কুমার কার্বারী পাড়ায় ১৯০ ফুট গভীর ডিফ টিউবওয়েল উদ্বোধন করেন দীঘিনালা জোন কমান্ডার লেপটেন্যাল কর্ণেল মো: আল- আমিল পিএসসি। উদ্বোধনী অনুষ্টানে আরো উপস্তিত ছিলেন ৫নং বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার সুরেশ চাকমাসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্তিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর সুত্রে জানায় জানা যায়, পাহাড়ি এলাকার অনেক পরিবার বছরের পর বছর পানীয় জলের জন্য দূরবর্তী ঝিরি ও প্রাকৃতিক পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করায় স্থানীয়দের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো।

এ পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীঘিনালা জোন প্রয়োজনীয় জরিপ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকায় সুপেয় পানির উৎস উদ্যোগ গ্রহন করে।

এর ফলে স্থানীয় ১০৫টি পরিবারের ৩৫০জন নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে।

এ সময় সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডার বলেন পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সুপেয় পানির এই ব্যবস্থা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মানবসেবা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে চার দশক, এগিয়ে চলেছে বাঙ্গালহালিয়ার সনাতন ঋষি আশ্রম এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চাইল কর্তৃপক্ষ

বিলাইছড়িতে ভারী বৃষ্টিপাতে প্লাবিত ধান্য জমি, আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালের মানুষ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যাতায়াতে চরম ভোগান্তি

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত ধর্মান্তরের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আশ্রমের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী সনাতন ঋষি মহারাজ স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয় মানবকল্যাণ, সমাজসেবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানটি অসহায়, অনাথ, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে অনাথ শিশুদের লালন-পালন, শিক্ষা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও বস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত ও অসহায় বৃদ্ধদের আশ্রয় ও সহযোগিতাও দেওয়া হয়। প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আশ্রমটি সম্পূর্ণ সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

আশ্রম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাঙ্গালহালিয়া, আর্মি ক্যাম্প, আর্মি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প এবং আমতলী পুলিশ ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে পরিচালিত এসব উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও এলাকার এক নারী ভক্ত আশ্রমে অবস্থান নেওয়ার পর একটি মহল তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে প্রচার শুরু করে।

আশ্রম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। আশ্রমের দাবি, সংশ্লিষ্ট নারী স্বেচ্ছায় আশ্রমে অবস্থান করছিলেন এবং তাকে কোনো ধরনের ধর্মীয় চাপ, প্রলোভন বা ধর্মান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়া হয়নি। অথচ কিছু ব্যক্তি আশ্রমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপপ্রচারকারীরা শুধু আশ্রমের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে না, বরং এলাকায় দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পরিবেশও সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা ও ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয়ের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী সনাতন ঋষি মহারাজ বলেন, আমাদের আশ্রমের মূল উদ্দেশ্য মানবসেবা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কাউকে ধর্মান্তরিত করা বা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্নই আসে না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আশ্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বহু জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনভূমি। এখানে সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার যেন কোনোভাবেই সামাজিক শান্তি নষ্ট করতে না পারে।। আশ্রম কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়া মেনে জবাবদিহিতা করতে প্রস্তুত। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি দীর্ঘদিনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সবশেষে আশ্রম কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

×