শিরোনাম:

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধিঃ

রাঙামাটির রাজস্থলীর এক সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়েটি খই খই সাই মারমা আজ বাংলাদেশের টেবিল টেনিস ইতিহাসে নতুন আলো ছড়িয়েছেন। পাহাড়ের বুকে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটির গল্প যেন স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের এক অসাধারণ যাত্রাপথ। রাজস্থলীর দুর্গম চুশাক পাড়ার ছোট্ট কোয়ান্টাম স্কুলের হলরুমে প্রথম র্যাকেট ছোঁয়া ছোট্ট মেয়েটি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে তুলেছেন। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন—দারিদ্র্য, সীমিত সুযোগ আর কঠিন পরিবেশ কখনোই বড় স্বপ্নকে থামাতে পারে না। কিন্তু তাঁর সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে আরও কঠিন বাস্তবতা—চরম রাস্তার দুর্ভোগ।

চুশাক পাড়া থেকে রাজস্থলী সদর কিংবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেতে তাঁর প্রতিদিনই পাড়ি দিতে হয়েছে ভাঙাচোরা, পাথুরে পথ, বর্ষায় হাঁটু-ডোবা কাদা রাস্তা, আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। অসুস্থকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো রাস্তা নেই, কারো প্রয়োজনে মাইলের পর মাইল হেঁটে নামতে হয়। এই দুর্ভোগই ছিল খই খইয়ের প্রতিদিনের বাস্তবতা। কিন্তু তিনি থামেননি।

চুশাক পাড়ার বাসীরাে বলেন—“আমরা চোখের সামনে দেখেছি, মেয়েটা কীভাবে এই রাস্তায় হেঁটে হেঁটে স্কুলে গেছে, আবার প্রশিক্ষণও নিয়েছে। বর্ষায় তো রাস্তায় কাদা কোমর পর্যন্ত উঠে যায়। তবুও খই খই একদিনও হাল ছাড়েনি। আজ আমাদের পাড়ার নাম সে বিশ্বে তুলে ধরেছে—এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

স্থানীয় যুবক উথোয়াইহ্লা মারমা বলেন—“সরকার যদি একটু এই রাস্তাটা করে দিত, খই খইয়ের মতো আরও ছোটরা উঠে আসতে পারত। খই খই আমাদের আশা, আমাদের অনুপ্রেরণা।

খই খইয়ের মা মোহ্লাচিং মারমা গর্ব ও কান্না জড়িত স্বরে বলেন, “আমরা দরিদ্র পরিবার। ঠিকমতো জামা কিনে দিতে পারিনি, র্যাকেটও কখনো নতুন দিতে পারিনি। কিন্তু মেয়েটা বলত—‘মা, আমি একদিন কিছু না কিছু হবো।’ এই রাস্তায় পড়ে গিয়েও উঠেছে, কাদার ভেতর দিয়ে গেছে। আজ যখন রুপার পদক গলায় ঝুলাইতে দেখি, তখন মনে হয়—মেয়েটার সব কষ্ট সফল হলো।”

 

খই খইয়ের বড় বোন হ্লাহ্লাউ মারমা বলেন—“আমরা চাইতাম ও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলায়ও এগিয়ে যাক। কিন্তু রাস্তাঘাটের অবস্থার কারণে ওকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল সবসময়। প্রতিদিন দেরি করে ফিরত। তবুও খই খইয়ের মনোবল এত শক্ত ছিল যে কিছুতেই তাকে থামানো যেত না। আজ তার অর্জনে পুরো পরিবার গর্বিত।”

 

চুশাক পাড়া কারবারি উনুমং মারমা বলেন—“খই খইয়ের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশ এবং আমাদের রাজস্থলীর গর্ব। এই এলাকা থেকে কেউ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন সাফল্য এনে দেবে—এটা ভাবতেই পারিনি। তবে আমরা চাই সরকার জরুরিভাবে আমাদের রাস্তাটির দিকে নজর দিক। রাস্তা ঠিক হলে আরও অনেক প্রতিভা উঠে আসবে। খই খই এই এলাকার একটি আলোকবর্তিকা।” খই খইয়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়, এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন— “প্রতিভা যদি সুযোগ পায়, পাহাড়ের দুর্গম পথও একদিন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়।” কোয়ান্টাম স্কুলের সাদামাটা হলরুমে প্রতিদিনের অনুশীলন, সহপাঠীদের উৎসাহ, শিক্ষকদের পরামর্শ—সবকিছু মিলেই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাঁর কোচ বলেন— “খই খই এমন এক খেলোয়াড়, যাকে যত কষ্টই আসুক, সে থামে না। রাস্তাঘাটের সমস্যা, দারিদ্র্য—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। ভবিষ্যতে সে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় কিছু করবে।”

রুপার পদক হাতে খই খই বলেন—“আমার যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রামের রাস্তাগুলো বর্ষায় ভয়ংকর হয়ে যায়। কতদিন পড়ে গেছি, কতদিন হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা করেছে। কিন্তু আমি কখনো থামতে চাইনি। দেশের জন্য আরও ভালো ফল আনতে চাই। আমার গ্রামের রাস্তাগুলো ঠিক হলে আমি বিশ্বাস করি—আমার মতো আরও মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে আসবে।” খই খই সাই মারমার রুপালি অর্জন শুধু তাঁর একার নয়—এটি পাহাড়ি জনপদের সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। হাসিমুখে ঝুলে থাকা সেই রুপার পদক যেন পুরো রাজস্থলীকে নতুন করে জানান দেয়— “অদম্য ইচ্ছা থাকলে ভাঙাচোরা রাস্তা, কাদা কিংবা দারিদ্র্য—কোনো কিছুই পাহাড়ি মেয়ের স্বপ্ন থামাতে পারে না।” দুর্গম রাজস্থলীর ছোট্ট মেয়েটি আজ বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা উড়িয়েছে—এটাই নতুন ইতিহাস।

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

 

বিশেষ প্রতিবেদক, খাগড়াছড়িঃ

খাগড়াছ‌ড়ির গুইমারা রি‌জিও‌নের আওতা‌ধিন ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির মাটিরাঙ্গা জোনের নিয়মিত আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল ক্যাম্পেইন ক‌রে‌ছে সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে উপ‌জেলার তাইন্দংয়ের দুর্গম সুধীল রঞ্জন হেডম‌্যানপাড়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যালয় মা‌ঠে আয়োজিত বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান ক‌রা হয়।

এতে গুইমারা রিজিয়নের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মেজর ইকরামুল আমিন এফসিপিএস, মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন সাদিয়া আফরিন ও মাটিরাঙ্গা জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন নুরে রেজওয়ান তৌফিক রিজভী সি‌কিৎসা সেবাও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করেন। একই সা‌থে স্কুল পড়ুয়া শিশু‌দের মা‌ঝে শিক্ষা সামগ্রী ও খেলনা বিতরণ করা হয়।

ক‌্যাম্পেইন চলাকা‌লিন প‌রিদর্শন ক‌রে উপকারভোগীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের খোঁজখবর নেন মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান।

এসময় বলেন, এই অঞ্চলে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সুসম্পর্ক বিদ্যমান, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”  আর্তমানবতার সেবায় পাহা‌ড়ের দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রম আগামী‌তেও অব‌্যাহত থাক‌বে ব‌লে জানান তি‌নি।

এসময় মাটিরাঙ্গা জোনের (ভারপ্রাপ্ত) জেডএসও  মেজর সামিউল হক, ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হাসনাইন জালালী, ক্যাপ্টেন ইয়ামীম ইসলাম সহ উর্ধতন কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানে প্রবেশ করার সময় ২১ রোহিঙ্গা নাগরিক আটক।

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

বান্দরবান প্রতিনিধি :

বান্দরবানে প্রবেশের সময় সেনা চেকপোস্টে ২১ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে শহরের রেইচা চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সেনাবাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক হওয়া ব্যক্তিরা কক্সবাজার এলাকা হতে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। চেকপোস্টে তাদের চলাচল সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং পরবর্তীতে তাদের আটক করা হয়।

বর্তমানে আটককৃতদের পরিচয় যাচাই, নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধকরণ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের গতিবিধি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে অধিকতর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক আটককৃতদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আলীকদমে কারিতাসের উদ্যোগে বিপণন কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ক প্রশিক্ষণ ‎

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

 

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল পি এ ই পি- ৩ প্রকল্প এবং হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন এর যৌথ আয়োজনে বিপণন কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১ ঘটিকার সময় আলীকদম বাজার সংলগ্ন অর্কিড রেস্টুরেন্ট হলরুমে বিপণন কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

‎কারিতাসের প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক ছিলেন বান্দরবান প্রকল্প অফিস হতে আগত জে পি ও এগ্রো ইকোলোজি মিস্টার উসিনু মার্মা, আলীকদম উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা জেসমিন চাকমা এবং সার্বিক সহযোগিতায় মাঠ সহায়ক শেফালী ত্রিপুরা, মংফ্রু মার্মা। এসময় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন পাড়ার ৬টি কমিটির ৩০ জন সদস্যবৃন্দ।

‎প্রশিক্ষণ এর আলোচনা হিসেবে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও দরপত্র ব্যবস্থাপনা, বাজারে দর নির্ধারণ করা। পণ্যের গুণগত মান, গ্রেডিং ও প্যাকেজিং, মান নিয়ন্ত্রণ, কৃষি পণ্যের গ্রহনের মানদণ্ড। বাজারে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার। বাজার ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা। প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছ হিসাব পরিচালনা ইত্যাদি।

×