শিরোনাম:

রুমায় লজিক প্রকল্পের স্কিম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রুমায় লজিক প্রকল্পের স্কিম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (LoGIC)’ প্রকল্পের আওতায় পিবিসিআরজি স্কিমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আদনান চৌধুরী।

কর্মশালায় রুমা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পাড়া পর্যায়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে লজিক প্রকল্পের পটভূমি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় এর ভূমিকা, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পিবিসিআরজি স্কিম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তাসহ এ পর্যন্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মমিন খান। তিনি স্কিম পরিচালনা, অপারেশন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের গুরুত্ব এবং কমিটির দায়িত্ব—কর্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোসহ বিভিন্ন পাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্কিমের তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। তাদের মতে, অনুমোদিত স্কিমসমূহের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ফল নিশ্চিত করতে রক্ষণাবেক্ষণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

লজিক প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রতিটি স্কিমে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তারা আরও বলেন, একটি অবকাঠামো টেকসইভাবে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে তার সুফল বহু বছর ধরে জনগণ ভোগ করতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন, লজিক প্রকল্প রুমা উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত সূচনা করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এসব স্কিম ভবিষ্যতে রুমার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

খাগড়াছড়িতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

রুমায় লজিক প্রকল্পের স্কিম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

আগামী ক্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিস্তৃত সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টাউন হল সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বীতি, সিনিয়র সহসভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, সহসভাপতি আবু ইউসুফ চৌধুরী ও হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, অনিমেষ চাকমা রিংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব রাজা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি কুহেলি দেওয়ানসহ জেলা–উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সভায় অংশ নেন। সভায় বক্তারা ২০২৬ সালের ক্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, নেতৃত্ব সুসংহতকরণ ও করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

সাংগঠনিক আলোচনা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়ি মানিকছড়িতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা : শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করার আহ্ববান

রুমায় লজিক প্রকল্পের স্কিম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিট্টেট মোঃ আনোয়ার সাদাত এর সাথে উপজেলা ব্যক্তিবর্গদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া সভাপতিত্বে রবিবার বিকাল ৩ টায় উপজেলায় পরিষদ মিলনায়তন মতবিনিময় করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা তাহিরা সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত লায়লা আক্তার লিসা, আরোও বক্তব্য রাখেন, সিন্দুকছড়ি জোন উপ অধিনায়ক মোঃ মাজহার হোসেন রাব্বানী, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি সদস্য নুরুজ্জামান মাষ্টার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান, এনসিপি আহ্বায়ক মোঃ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শিক্ষক সমিতি প্রতিনিধি শিক্ষক সাজাইহ্লা চৌধুরী, মানিকছড়ি বাজার ব্যবসায়িক কমিটি সভাপতি রতন পাল প্রমূখ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা জেলা পরিষদ সদস্য ও মানিকছড়ি বীর মুক্তিযোদ্ধা মংরাজা মংপ্রুসাইন বাহাদুর ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান কুমার সুইচিংপ্রু সাইন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সাথোয়াইপ্রু চৌধুরী, মারমা ঐক্য পরিষদ সভাপতি আপ্রুসি মগ, সাধারণ সম্পাদক আম্যে মগ, মারমা যুব ঐক্য পরিষদ সভাপতি উষাজাই মারমাসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরে প্রধান, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নবাগত জেলা প্রশাসক বলেন, খাগড়াছড়ি জেলাতে শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। সকল প্রশাসনিক কাজের দক্ষতা ও সততা মাধ্যমে জেলা উন্নয়ন করবেন। অগ্রগতি, সুশাসন, জনসেবা ও সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। সভায় পাহাড়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা বিষয়ক ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।

জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রচারণা অনুষ্ঠিত

রুমায় লজিক প্রকল্পের স্কিম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলে জীববৈচিত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিম্বুক ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজার সংলগ্ন দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বায়োডাইভারসিটি প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা রাম বাহাদুর (স্টিভ) ত্রিপুরা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেনয়াং ম্রো, সহকারী শিক্ষক ক্রংনিং ম্রো, স্থানীয় কারবারি মেনপুং ম্রো, সমাজনেতা সিংরাও ম্রো এবং সাংবাদিক মথি ত্রিপুরা। সঞ্চালনা করেন উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর কুলছুমা আক্তার।

এ কর্মসূচির আয়োজন করে বান্দরবান হিল ডিসট্রিক্ট কাউন্সিল, আর বাস্তবায়ন করছে Ecosystems Restoration and Resilient Development in the Chittagong Hill Tracts (ERRD-CHT) প্রকল্প—যা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MoCHTA) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর যৌথ উদ্যোগ।

ইউএনডিপির চলমান প্রকল্প ও পাহাড়ি এলাকায় উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে সভাপতি রামবাহাদুর (স্টিভ) ত্রিপুরা জানান, ইউএনডিপি বর্তমানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করছে—
১) স্কুল উন্নয়ন প্রোগ্রাম
২) সিঙ্গেল সেক্স টয়লেট ব্যবস্থা
৩) জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল উদ্যোগ

তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া টিভি, আসবাবপত্র, শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট নির্মাণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে দল গঠন, নতুন ফসল উৎপাদন পদ্ধতি, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

প্লাস্টিক দূষণ রোধে উপস্থিত সবাইকে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে মেনয়াং ম্রো বলেন, পানি, জুস বা চিপসের বোতল যত্রতত্র ফেলা যাবে না। এগুলো সহজে পচে না—ফলে মাটি, পানি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।
তিনি আরও জানান, এলাকার রাস্তা বা ঝিরিপথে দেখা প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নিরাপদভাবে ধ্বংস করার মতো উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।

সহকারী শিক্ষক ক্রংনিং ম্রো বলেন, বন-জঙ্গল ধ্বংস হলে ঝিরি-ছড়ার পানির প্রবাহ কমে যায় এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়। তাই গাছ রোপণ, বন রক্ষা এবং গুইসাপ, কচ্ছপসহ সবধরণের প্রাণীকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় যুব ও সমাজনেতা সিংরাও ম্রো মাতৃভাষায় গ্রামবাসীকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে বিশদভাবে অবহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়গুলো আরও সহজভাবে বোধগম্য হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পাহাড়ি জনপদের মানুষের মধ্যে প্রকৃতি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের মানসিকতা আরও দৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মেনয়াং ম্রো পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

×