শিরোনাম:

রাজস্থলীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসায় জরিমানা, মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা জোরদার

রাজস্থলীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসায় জরিমানা, মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা জোরদার

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলা বাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে রাজস্থলী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তার।

আজ (১৮ মার্চ) অভিযান চলাকালে রাজস্থলী বাজারে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং খোলা অবস্থায় মুরগি বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। “পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫”-এর ১(ক) ও ১৫(৪) ধারা অনুযায়ী তাকে ১,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়াও একই দিনে “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮” এর আওতায় পৃথক একটি অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকবিরোধী এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।” স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হবেন।

ঈদযাত্রা—আনন্দের পথে যেন না নামে বিষাদের ছায়া

রাজস্থলীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসায় জরিমানা, মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা জোরদার

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ :

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর আপনজনের কাছে ফেরার এক অনন্য অনুভূতি। বছরের ব্যস্ততা, কর্মজীবনের ক্লান্তি আর শহরের যান্ত্রিক জীবন পেছনে ফেলে এই একটি সময়েই মানুষ ছুটে যায় নিজের শেকড়ে-গ্রামের বাড়িতে, মা-বাবার কাছে, শৈশবের স্মৃতির কাছে। কেউ রেলপথে, কেউ সড়ক পথে, আবার কেউ নদীপথে-সব পথ যেন মিলিত হয় একটাই গন্তব্যে: প্রিয়জনের কাছে ফেরা। কিন্তু এই আনন্দযাত্রাই কখনো কখনো পরিণত হয় দুঃখ আর শোকে। শুধু একটু অসাবধানতা, একটু তাড়াহুড়া, কিংবা নিয়ম অমান্য করার প্রবণতা-এগুলোই কেড়ে নিতে পারে একটি পরিবারের হাসি, একটি জীবনের মূল্য।

প্রতিবছর ঈদের সময় আমরা দেখি অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ। ট্রেনের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ, লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বাসের ছাদে উঠা কিংবা দরজায় ঝুলে যাত্রা-এসব দৃশ্য যেন এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। অথচ এই “স্বাভাবিক” বিষয়গুলোই সবচেয়ে বড় অস্বাভাবিক বিপদের কারণ। একটু ভাবুন—আপনি যে যাত্রা শুরু করেছেন, সেটি আপনার জন্য শুধু একটি সফর নয়; আপনার পরিবার, আপনার প্রিয়জনদের কাছে এটি আপনার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি। আপনার মা অপেক্ষা করছেন, সন্তানেরা অপেক্ষা করছে, প্রিয় মানুষটি অপেক্ষা করছে। আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি অসতর্ক পদক্ষেপ তাদের জীবনে চিরস্থায়ী শোক বয়ে আনতে পারে।

সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহনে ওঠা, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা, নিয়ম মেনে যাত্রা করা—এসব কোনো বড় ত্যাগ নয়, বরং নিজের জীবনকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা কোনো বিকল্প নয়, এটি একটি বাধ্যবাধকতা। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতায় বিদ্যুতের তার, সেতু কিংবা হঠাৎ ঝাঁকুনিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে লঞ্চ বা নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী হওয়া মানেই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া।

আমরা অনেকেই ভাবি-“আমার কিছু হবে না”-কিন্তু দুর্ঘটনা কখনো কাউকে বলে আসে না। ঈদের আনন্দ কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদে পৌঁছানোই প্রকৃত আনন্দ। তাই যাত্রাপথে একটু ধৈর্য, একটু সচেতনতা এবং একটু মানবিকতা—এই তিনটি জিনিসই পারে একটি সুন্দর ঈদ নিশ্চিত করতে।

চলুন, আমরা নিজেরা সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি। পরিবারের কথা ভাবি, নিজের জীবনের মূল্য বুঝি। কারণ একটি নিরাপদ যাত্রাই পারে ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে। আপনার ঈদযাত্রা হোক আনন্দময়, নিরাপদ ও স্বস্তির—বিষাদের নয়।

 

লেখক- এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য, (বিটিএসএফ)।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল পালিত

রাজস্থলীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসায় জরিমানা, মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা জোরদার

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)২৬ খ্রিঃ পুলিশলাইন সংলগ্ন পলওয়েল পার্কে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র মাহে রমজানের মহিমান্বিত তাৎপর্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে অটুট রাখতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের এ-ই উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল পালন করা হয়। ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিঃ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, (এমপি)।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে দীপেন দেওয়ান বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।​ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীলগণ। ​ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দেশ, জাতি ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়।

দোয়া মাহফিলে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট পবিত্র রমজানের আত্মশুদ্ধিমূলক শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে দেশবাসীর নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। ​

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করবে। মোনাজাত শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এবং পুলিশ সদস্যরা একসাথে ইফতারে অংশগ্রহণ করেন।

‘‘কঠোর পরিশ্রম, সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল আজকের স্বাধীনতা’’

রাজস্থলীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসায় জরিমানা, মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা জোরদার

প্রবন্ধ

 

লেখিকা মিতা পোদ্দার :

উদীয়মান সূর্য, যা একটি নতুন স্বাধীন দেশের অভ্যুদয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তকে নির্দেশ করে। এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে প্রাণ দিয়েছে ৩০ লাখ মানুষ। সে জন্যই আমাদের জাতীয় পতাকা গাঢ় লাল সবুজের। বিপ্লবী স্বাধীন বাংলার পতাকা ছিল ভিন্ন। সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র। দেখলেই যেন মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তাইতো কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে — আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। গানটি প্রতিটি বাঙালিকে উদ্দীপ্ত করেছে, প্রেরণাও যুগিয়েছে।লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, এই দিনে জাতি স্মরণ করছে বীর শহীদদের?

স্বাধীনতা দিবস তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত হওয়ার ইতিহাস। পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়ার ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর্যের মাধ্যমে পালন করা হয় দিনটি। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধীকার। আর মানুষ মাত্রই স্বাধীনতাপ্রিয়। তার জীবনের প্রধান আকাঙ্ক্ষা স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধীকার। আর মানুষ মাত্রই স্বাধীনতাপ্রিয়। তার জীবনের প্রধান আকাঙ্ক্ষা স্বাধীনতা। স্বাধীনতা কথাটি যতই মধুর হোক না কেন এটা অর্জন করা বড়ই কঠিন। আর এ অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করা আরও কঠিন।

স্বাধীনতাকে পারার জন্যেই মানুষ যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করে এসেছে। নিপীড়িত, অত্যাচারিত জাতি স্বীয় মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যে সংগ্রাম করে মুক্তিলাভ করে থাকে। কিন্তু এ মুক্তি অর্জনই মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। একে সমুন্নত রাখাই মুখ্য উদ্দেশ্য। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের পুনর্গঠন, উন্নয়ন ও বহিঃশত্রুর হাত থেকে একে রক্ষা করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকা একান্ত প্রয়োজন। মানুষের যাবতীয় কার্যকলাপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাধীনতাপূর্ণ গৌরবোজ্জ্বল জীবনের বিকাশ। পরাধীন জাতি কঠিন ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম, সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

তাই স্বাধীনতার মর্যাদা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে একে রক্ষণাবেক্ষণে তৎপর থাকা আমাদের জাতীয় কর্তব্য।

সংগ্রহেঃ এম এস শ্রাবন মাহমুদ,

স্টাফ রিপোর্টার।

×