শিরোনাম:

পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ালেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার

পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ালেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার

 

বিশেষ প্রতিবেদক, খাগড়াছড়িঃ

খাগড়াছড়িতে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন। চাকমা সম্প্রদায়ের এক তরুণী উদ্যোক্তা নিজের ব্যবসা শুরু করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভের মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করেন। কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে তিনি একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েন। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট পোস্ট অফিসের অন্তর্গত ছয়নাল ছড়া গ্রামের কমল কিষ্ট চাকমা’র মেয়ে তরুণী উদ্যোক্তার রিতা চাকমা (২৫)-র বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের দৃষ্টি গোচর হয়। বিষয়টি আন্তরিক ভাবে দেখেই তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট জোন কমান্ডারকে নির্দেশনায় দেন এই তরুনীর পাশে দাড়াতে হবে। এময় নারী উদ্যোক্তা রিতা চাকমাকে একটি দোকান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বক্স, মালামালসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

এদিকে সহায়তা পেয়ে রিতা চাকমা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই সহায়তা শুধু একটি দোকান নয়, আমার স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।”

সেনাবাহিনী জানিয়েছে “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বরং মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে এবং নাগরিক জীবনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

স্থানীয়’রা মনে করছে “শিক্ষা, চিকিৎসা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নে তাদের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ও ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় করছে।”

কাপ্তাইয়ে কলাবাগান এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, দুই পরিবারের সর্বস্বান্ত

পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ালেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনাধীন কেপিএম কলাবাগান এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে দুটি পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং কয়েক লক্ষ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেপিএম-এর সাবেক কর্মচারী নুরুল আমিনের মেয়ে হাসির বসতঘর থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় ঘরে কেউ না থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে এবং দ্রুত পাশের ঘরে (মির্জা ড্রাইভারের বোনের ঘর) ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় প্রাণের ভয়ে কেউ তাৎক্ষণিকভাবে কাছে গিয়ে আগুন নেভাতে সাহস পাননি, ফলে আগুন দ্রুত বিধ্বংসী রূপ নেয়। ​

চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা মেম্বার ফুসকারা বেগম জানান, ​“তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে হঠাৎ আগুন দেখে এলাকাবাসী ছুটে আসে। ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।” ​অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে তাদের আসবাবপত্র, টেলিভিশন, ফ্রিজ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী পুড়ে গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা ধরা হয়েছে। ​খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।

ফায়ার লিডার আব্দুল কাইয়ুম জানান, তাদের নিরলস চেষ্টায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

রামগড়ে বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত, নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা ও শৃঙ্খলা জোরদারে গুরুত্বারোপ

পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ালেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার

দলীয় ঐক্য ও সংগঠন শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড়:

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এক সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত স্থানীয় শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এন. আবছার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভুইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক মিন্টু এবং রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন।

বক্তারা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দলকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদারে প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

এসময় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতার শিকার রামগড় উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং কৃষক দলের সভাপতি মো. মনির হোসেনকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান, ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়।

“সবুজ পাহাড় আর নীল জলরাশির মিতালি কাপ্তাইয়ের মায়াবী জনপদ”

পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ালেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি)​ প্রতিনিধি :

প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইকে। একদিকে বিশাল নীল জলরাশি, অন্যদিকে আকাশছোঁয়া সবুজ পাহাড়। এই পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা কর্ণফুলী নদী যেন বঙ্গোপসাগরের দিকে ধাবমান এক রূপালি রেখা। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখেই পর্যটকদের স্বাগত জানায় ঐতিহাসিক রাম পাহাড় ও সীতা পাহাড়। আর এই দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে প্রমত্তা কর্ণফুলী বয়ে গিয়ে মিশেছে চট্টগ্রামের মোহনায়।

​কাপ্তাইয়ের এই দুই পাহাড়ের সাথে জড়িয়ে আছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও রামায়ণের ইতিহাস। লোককথা অনুযায়ী, ত্রেতা যুগে পিতৃসত্য পালনের জন্য বনবাসকালে শ্রী রামচন্দ্র, দেবী সীতা ও লক্ষণ এই পাহাড়ে অবস্থান করেছিলেন। জনশ্রুতি আছে, পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে চলা কর্ণফুলী নদীতে দেবী সীতা স্নান করতেন, যার নামানুসারে পাহাড় দুটির নামকরণ। বর্তমানে সীতা পাহাড়ের একটি মন্দির রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর নির্দিষ্ট তিথিতে পুণ্যার্থীরা ভিড় করেন। ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, রাম পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট এবং সীতা পাহাড়ের উচ্চতা ১৫০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত।

বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষা একসময় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ছিল হরেক প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। তবে কালের বিবর্তনে বন সংকুচিত হওয়া ও শিকারিদের অত্যাচারে বন্য মুরগি ও বিভিন্ন দুর্লভ পাখি এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে আশার কথা হলো, এই বনে এখনো প্রায় ৫৫টি বন্য হাতির একটি বিশাল দল বিচরণ করছে। অতি সম্প্রতি এই দলে একটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে, যা বনের প্রাণবৈচিত্র্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। হাতি ও বানর ছাড়াও মাঝেমধ্যে এখানে বিশাল অজগর সাপের দেখা মেলে।

​বনের এই ঐতিহ্য রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক স্বাধীন। অত্যন্ত সাহসী ও স্বাধীনচেতা এই কর্মকর্তা বন্যপ্রাণী শিকার রোধ এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে কঠোর ভূমিকা রাখছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

​পর্যটনের অপার হাতছানি কাপ্তাই মানেই বৈচিত্র্যের মেলা। এখানকার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের হাতছানি দেয়। দেশের একমাত্র কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এশিয়ার বৃহত্তম কেপিএম (KPM) পেপার মিলস।

সবুজের চাদরে ডাকা ওয়াগ্গা চা বাগান এবং পাহাড়ের ঢালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ‘নিসর্গ রিভার ভ্যালী এন্ড পড হাউস’।

ঐতিহাসিক চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার এবং নৌবাহিনীর নজরকাড়া পিকনিক স্পট ও নৌ-বিহারের সুযোগ।

যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন, তাদের কাছে সীতা পাহাড়ের চূড়া অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখান থেকে কাপ্তাই লেক ও কর্ণফুলী নদীর সর্পিলাকার রূপ অপূর্ব দেখায়।

রাম ও সীতা পাহাড় কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

​সব মিলিয়ে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের এক অমূল্য সম্পদ। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্যপ্রাণী ও বনভূমি রক্ষা করা না গেলে এই সৌন্দর্য অচিরেই ম্লান হয়ে যেতে পারে। সরকারি নজরদারি ও স্থানীয় সচেতনতাই পারে কাপ্তাইয়ের এই ঐতিহ্যকে আজীবন টিকিয়ে রাখতে।

×